Advertisement

0

ইভি গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ, বাংলাদেশে সবুজ পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা


আজ শনিবার ৯রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭ হিজরি

ইভি গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ, বাংলাদেশে সবুজ পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা    

বাংলাদেশে ইভি গাড়ির নতুন যুগ, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক বার্তা

বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ি পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশবান্ধব যানবাহন খাতে নতুন সম্ভাবনা ও সরকারি সহযোগিতার ইঙ্গিত।

ইভি প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্ব যখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে বৈদ্যুতিক যানবাহনের নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশে ইভি গাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ি পরিদর্শন এবং নিজে চালিয়ে দেখার ঘটনা দেশের পরিবহন ও শিল্প খাতে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে “বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ি” এবং “বাংলাদেশের প্রথম ইভি গাড়ি নির্মাতা” বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির পাশে প্রধানমন্ত্রী, পেছনে আধুনিক সবুজ নগরী ও চার্জিং স্টেশন
প্রধানমন্ত্রী ইভি গাড়িতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, বাংলাদেশে সবুজ পরিবহনের নতুন দিগন্ত


শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আনা বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৈরি কয়েকটি ইভি গাড়ি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি একটি এসইউভি গাড়ি এবং একটি কাভার্ড ভ্যানিজে চালিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী গাড়িগুলোর প্রযুক্তি ও নির্মাণমান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রদর্শিত গাড়ির মধ্যে ছিল দুটি এসইউভি, একটি কাভার্ড ভ্যান, একটি ট্রাক, একটি অটোরিকশা এবং দুটি মোটরসাইকেল। নির্মাতাদের দাবি, এগুলো সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি।বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে “এক চার্জে ৪৫০ কিলোমিটার চলবে” সক্ষমতার এসইউভি মডেলটি। এটি দেশের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রতিষ্ঠানটি “বাংলাদেশের প্রথম ইভি গাড়ি নির্মাতা” হিসেবে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি পৌঁছে দেওয়া। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, এসইউভি ধরনের একটি গাড়ি একবার পূর্ণ চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি চলতে সক্ষম। স্বাভাবিক চার্জিংয়ে ব্যাটারি পূর্ণ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। অন্যদিকে ফাস্ট চার্জিং ইভি গাড়ি প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র আধা ঘণ্টায় চার্জ সম্পন্ন করা সম্ভব।

ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। এসব গাড়ি একবার চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে পারে। স্বাভাবিক চার্জিংয়ে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা এবং দ্রুত চার্জিংয়ে ৪০ মিনিট।বিশেষজ্ঞদের মতে, “বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ির সম্ভাবনা” এখন আর কেবল ধারণা নয়, বরং বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন > চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প

আরও পড়ুন > তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ে ঐতিহাসিক বৈঠক

আরও পড়ুন > শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: ঢাকায় ৩২ জন নিহতের তথ্য মিলেছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যদি আন্তর্জাতিক মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ইভি গাড়ি উৎপাদন করা যায় এবং দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ উপকৃত হয়, তাহলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান বলেন, দেশের প্রযুক্তি সক্ষমতা ব্যবহার করে আধুনিক ইভি গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবির জানান, “বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ি” বাজারজাত করতে তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে স্থানীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনের দিকেও জোর দেওয়া হবে।

বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি খরচ কমানো এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রধান সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ পরিস্থিতি “পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি” নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে সরকার ও বেসরকারি খাতকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যদি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা যায় এবং কর সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে “সরকারি সহযোগিতায় ইভি শিল্প” দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে।

বাংলাদেশে ইভি শিল্পের বিকাশুধু পরিবহন খাতেই নয়, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত, জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় কমবে। দ্বিতীয়ত, বায়ুদূষণ কমে পরিবেশের উন্নতি হবে। তৃতীয়ত, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে। তবে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন: চার্জিং স্টেশনের অভাব, উচ্চ প্রযুক্তির ব্যাটারি আমদানি নির্ভরতা, রক্ষণাবেক্ষণ দক্ষতার সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা।

বিশ্লেষকদের মতে, “বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ির সম্ভাবনা” সফল করতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা জরুরি।একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন শুরু করা গেলে শিল্পটি আরও শক্তিশালী হবে।

সরকার যদি নীতিগত সহায়তা দেয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ইভি বাজার বড় আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন: শহরভিত্তিক চার্জিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, কর ছাড় ও ভর্তুকি প্রদান, স্থানীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে “বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ইভি” উদ্যোগ দেশের শিল্প খাতে নতুন মাইলফলক তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?

উত্তর: কম জ্বালানি খরচ ও পরিবেশ দূষণ কমানো।

প্রশ্ন: এক চার্জে কত দূর চলতে পারে এসইউভি?

উত্তর: নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি।

প্রশ্ন: ফাস্ট চার্জিং ইভি গাড়ি কত সময়ে চার্জ হয়?

উত্তর: প্রায় ৩০ মিনিটে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ির সম্ভাবনা কতটা?

উত্তর: সরকারি সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর নির্ভর করছে।

প্রশ্ন: সরকার কি সহযোগিতা করবে?

উত্তর: প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশে ইভি গাড়ি শিল্পের যাত্রা এখন নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আগ্রহ ও ইতিবাচক বার্তা এই খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথ আরও সহজ করতে পারে। “বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ি” যদি আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশে ইভি গাড়ি সাধারণ মানুষের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠবে? মতামত জানাতে কমেন্ট করুন এবং সংবাদটি শেয়ার করুন।

মোঃ আলতাব মোল্লা - অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও রাজনীতি বিশ্লেষক

সোর্স: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং, বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি পরিদর্শন করছেন

json

{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "NewsArticle",

  "headline": "ইভি গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ, বাংলাদেশে সবুজ পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা",

  "description": "বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ি পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশবান্ধব যানবাহন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।",

  "author": {

    "@type": "Person",

    "name": "আলতাব মোল্লা"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "datePublished": "2026-05-23",

  "mainEntityOfPage": {

    "@type": "WebPage",

    "@id": "https://mirpurhdakanewsbd.blogspot.com/"

  }

}

```


```json

{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "FAQPage",

  "mainEntity": [

    {

      "@type": "Question",

      "name": "বাংলাদেশে তৈরি ইভি গাড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?",

      "acceptedAnswer": {

        "@type": "Answer",

        "text": "কম জ্বালানি খরচ ও পরিবেশ দূষণ কমানো।"

      }

    },

    {

      "@type": "Question",

      "name": "এক চার্জে কত দূর চলতে পারে এসইউভি?",

      "acceptedAnswer": {

        "@type": "Answer",

        "text": "একবার পূর্ণ চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি চলতে পারে।"

      }

    },

    {

      "@type": "Question",

      "name": "ফাস্ট চার্জিং ইভি গাড়ি কত সময়ে চার্জ হয়?",

      "acceptedAnswer": {

        "@type": "Answer",

        "text": "প্রায় ৩০ মিনিটে চার্জ সম্পন্ন হয়।"

      }

    },

    {

      "@type": "Question",

      "name": "বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ির সম্ভাবনা কতটা?",

      "acceptedAnswer": {

        "@type": "Answer",

        "text": "সরকারি সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।"

      }

    },

    {

      "@type": "Questi

on",

      "name": "সরকার কি ইভি শিল্পে সহযোগিতা করবে?",

      "acceptedAnswer": {

        "@type": "Answer",

        "text": "প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।"

      }

    }

  ]

}

```

Post a Comment

0 Comments