খুলনার খালিশপুর হাউজিং বাজারের নামকরা এক শিল্পপতি ছিলেন মঈন। পাকিস্তান আমলে এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন তিনি যে নিজের বিয়েতে বরযাত্রীসহ বিমানে করে গিয়েছিলেন। বিলাসবহুল জীবন, অর্থ-বিত্ত, প্রভাব—সবই ছিল তার হাতে। তিনি ছিলেন ব্যবসায়িক বুদ্ধির অধিকারী, ইংরেজি বলতে পারতেন অনর্গল, বাংলা বুঝলেও কথা বলতেন উর্দুতে। তখনকার দিনে তিনি ছিলেন গর্বিত ও সম্মানিত মানুষদের একজন।
![]() |
| মঈন পাগলার জীবনের গল্প |
কিন্তু সময় সবকিছু বদলে দেয়।
আজ সেই মঈন মানুষটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় আছেন। তিনি এখন নিঃস্ব, পরিবারহীন, অস্থির এক জীবন পার করছেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ‘মঈন পাগলা’ নামে পরিচিত হয়েছেন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, মানুষের করুণা নিয়ে বাঁচেন। যে মানুষ এক সময় আকাশ ছুঁয়েছিলেন, আজ তিনি পায়ের নিচে ধুলো।
এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় জীবনের প্রকৃত রূপ। যে অহংকার এক সময় তাকে ঘিরে রেখেছিল, সেই অহংকারই আজ তার পতনের কারণ।
**আল্লাহ বলেন, **
*“আর মানুষের কাছে তুমি মুখ ফিরিয়ে চলিও না, এবং দেশে দম্ভভরে চলাফেরা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক অহংকারীদের পছন্দ করেনা।”* সূরা লুকমান, আয়াত ১৮
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯১
মঈনের জীবন আমাদের শেখায়, অর্থ, প্রতিপত্তি, সম্মান—সবই ক্ষণস্থায়ী। আমরা কখনোই নিশ্চিত নই আগামীকাল কী অপেক্ষা করছে। আজ যে ব্যক্তি প্রাসাদে বাস করে, কাল সে ফুটপাথে ঘুমাতে পারে।
তাই, অহংকার নয়, আমাদের উচিত বিনয় ও কৃতজ্ঞতায় জীবনযাপন করা। দুনিয়া ক্ষণিকের, আর তাতে যে অহংকার করে, সে ধ্বংসের কাছেই এগিয়ে যায়।
**নৈতিক শিক্ষা:**
জীবনের উত্থান-পতন আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে। তাই কখনো অহংকার নয়, সব সময় বিনয় ও আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা উচিত।**

0 Comments