আজ শুক্রবার, ২৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫ই যিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরি
বিশ্বকাপে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, মেক্সিকোর নায়ক রাউল হিমিনেজ
ভয়াবহ মাথার চোট থেকে ফিরে বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল করলেন রাউল হিমিনেজ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দারুণ শুরু মেক্সিকোর।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা কেবল একটি গোল বা একটি জয়ের গল্প নয়; বরং মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সংগ্রাম এবং প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে। মেক্সিকোর অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজের গল্পও ঠিক তেমনই। পাঁচ বছর আগে যে ভয়াবহ মাথার চোট তার ক্যারিয়ারই শেষ করে দিতে পারত, সেই ফুটবলারই এবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেশের জার্সিতে জয়ের নায়ক।
![]() |
| বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল। পাঁচ বছর আগের ভয়াবহ চোটকে হার মানিয়ে মেক্সিকোর জয়ের নায়ক রাউল হিমিনেজ। |
রাউল হিমিনেজের বিশ্বকাপ গোল শুধু মেক্সিকোর জন্য তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেনি, এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা। মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে তার আবেগঘন পারফরম্যান্স দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।
প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায়নি দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় মেক্সিকো। হুলিয়ান কিনোনেস প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৬৭ মিনিটে রবের্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন রাউল হিমিনেজ। এই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ৮০ হাজারের বেশি দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে।
বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠা হিমিনেজের জন্য এটি ছিল এক বিশেষ রাত। ৩৫ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পান তিনি। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও সবসময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। দেশের হয়ে ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেও গোল পাননি কখনো।
সেই অপেক্ষার অবসান হলো সবচেয়ে বড় মঞ্চে। রাউল হিমিনেজের বিশ্বকাপ গোল দেশের জার্সিতে তার ১২৫তম ম্যাচে ৪৬তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি মেক্সিকোর ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন।
গোলের পর আকাশের দিকে দুই হাতুলে সদ্যপ্রয়াত বাবাকে স্মরণ করেন তিনি। মুহূর্তটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে যখন সতীর্থদের আলিঙ্গনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। রাউল হিমিনেজের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
আরও পড়ুন > বিশ্বকাপে নেই জোতা, তবু কি বেঁচে থাকবে স্বপ্ন
আরও পড়ুন > পেরেজের জয়ে রিয়ালে ফিরলেন মোরিনহো, শুরু নতুন অধ্যায়
আরও পড়ুন > কিংবদন্তি থেকে Altimate উত্তরসূরি: ফুটবলের ইতিহাস ও আগামীর স্বপ্ন
মেক্সিকোর সাবেকোচিং স্টাফ সদস্য এদু রুবিও হিমিনেজের গোল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই গোলটি একজন ফুটবলারের জন্য কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি জীবনের সংগ্রাম জয় করার প্রতীক। রুবিও বলেন, দেশের হয়ে খেলতে হিমিনেজ সবসময় গর্ববোধ করেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে, নিজের দেশের দর্শকদের সামনে গোল করা তার জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন।
তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ চোটের পর হিমিনেজের ক্যারিয়ার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু তার অধ্যবসায় এবং মানসিক দৃঢ়তা আজ নতুন করে প্রমাণিত হয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, হিমিনেজের এই প্রত্যাবর্তন বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ।
![]() |
| বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল। পাঁচ বছর আগের ভয়াবহ চোটকে হার মানিয়ে মেক্সিকোর জয়ের নায়ক রাউল হিমিনেজ। |
ভয়াবহ চোট থেকে ফিরে আসা ফুটবলারদের তালিকায় রাউল হিমিনেজের নাম এখন বিশেষভাবে উচ্চারিত হবে। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে দাভিদ লুইসের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর মাথার চোট পান তিনি।
সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তার মাথার খুলি ফেটে যায়। জরুরি চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। আট মাস পর মাঠে ফিরলেও আগের ছন্দ ফিরে পাওয়া সহজ ছিল না।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাকে দীর্ঘ সময় আলাদা অনুশীলন করতে হয়েছে। মানসিক চাপ, শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার আশঙ্কা—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। হিমিনেজের ক্যারিয়ার পুনর্জন্মের গল্প তাই কেবল ফুটবল নয়, মানবিক দৃঢ়তারও এক অসাধারণ উদাহরণ।
মেক্সিকো বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তাতে দলটি আত্মবিশ্বাসের বড় ভিত্তি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিমিনেজের উপস্থিতি শুধু গোল করার জন্য নয়, বরং নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পাওয়ায় গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর অবস্থান শক্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দলের তরুণ ফুটবলারদের জন্য হিমিনেজের প্রত্যাবর্তন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তৃতীয়ত, আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর জয় পুরো দেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। রাউল হিমিনেজের বিশ্বকাপ গোল বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রমাণ করেছে যে বড় চোট মানেই ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন বয়স কেবল একটি সংখ্যা।
গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে থাকা মেক্সিকো এখন আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী ১৯ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। বিশ্লেষকদের ধারণা, উদ্বোধনী ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া মেক্সিকোর জন্য কঠিন হবে না। অন্যদিকে বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের নায়ক হিমিনেজও আরও গোল করার সুযোগ পাবেন। এই মুহূর্তে মেক্সিকো সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আশা, হিমিনেজের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব দলকে আরও দূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে।
প্রশ্ন: রাউল হিমিনেজ কোন ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন?
উত্তর: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে।
প্রশ্ন: হিমিনেজ কত বছর বয়সে বিশ্বকাপে প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলেন?
উত্তর: ৩৫ বছর বয়সে।
প্রশ্ন: ভয়াবহ চোটটি কবে পেয়েছিলেন?
উত্তর: ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে।
প্রশ্ন: দেশের হয়ে তার মোট গোল কত?
উত্তর: ১২৫ ম্যাচে ৪৬ গোল।
প্রশ্ন: মেক্সিকোর পরবর্তী প্রতিপক্ষ কে?
উত্তর: দক্ষিণ কোরিয়া।
রাউল হিমিনেজের গল্প শুধু একটি গোলের গল্প নয়, বরং হার না মানা এক যোদ্ধার গল্প। পাঁচ বছর আগে যে চোট তার ফুটবল জীবন শেষ করে দিতে পারত, সেই মানুষটিই আজ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেশের জয়ের নায়ক।মেক্সিকো বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে দুর্দান্তভাবে, আর সেই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন রাউল হিমিনেজ।
আপনার মতে, এই বিশ্বকাপে মেক্সিকো কতদূর যেতে পারে? মতামত জানাতে কমেন্ট করুন এবং প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন।
লেখক - মোঃ নজরুল ইসলাম : অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক
সোর্স: BBC Sport, FIFA World Cup, Mexico National Team Official Updates
আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোল উদযাপন করছেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজ
স্কিমা মার্কআপ
Jason
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "News Article",
"headline": "৫ বছর পর রূপকথার প্রত্যাবর্তন, বিশ্বকাপে নায়ক হিমিনেজ",
"description": "ভয়াবহ মাথার চোট থেকে ফিরে বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল করে মেক্সিকোকে জয় এনে দিলেন রাউল হিমিনেজ।",
"author": {
"@type": "Person",
"name": "মোঃ নজরুল ইসলাম"
},
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "Dhaka News",
"logo": {
"@type": "Image Object",
"URL": "https://mirpurhdakanewsbd.blogspot.com/"
}
},
"mainEntityOfPage": {
"@type": "Webpage",
"@id": "https://mirpurhdakanewsbd.blogspot.com/"
},
"article Section": "Sports",
"keywords": [
"রাউল হিমিনেজ",
"মেক্সিকো বিশ্বকাপ",
"রাউল হিমিনেজের বিশ্বকাপ গোল",
"মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা"
]
}
Jason
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "FAQ Page",
"main Entity": [
{
"@type": "Question",
"name": "রাউল হিমিনেজ কোন ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "হিমিনেজ কত বছর বয়সে প্রথম একাদশে খেলেন?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "৩৫ বছর বয়সে।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "তার ভয়াবহ চোটটি কবে হয়েছিল?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "দেশের হয়ে তার মোট গোল কত?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "১২৫ ম্যাচে ৪৬ গোল।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "মেক্সিকোর পরবর্তী ম্যাচ কাদের বিরুদ্ধে?",
"accepted Answer": {
"@type": "Answer",
"text": "দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।"
}
}
]
}
```

.jpg)
0 Comments