আজ বুধবার, ২০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই যিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরি
পৃথিবীর বিস্ময়কর পাখি: ১১ দিন আকাশে, ১৩,৬৫০ কিলোমিটার বিরতিহীন উড়াল
বার-টেইলড গডউইট: ১১ দিনের বিরতিহীন উড়ালের বিস্ময়
মাত্র ৩০০ গ্রাম ওজনের বার-টেইলড গডউইট একটানা ১১ দিন উড়ে ১৩,৬৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। জানুন এই বিস্ময়কর পাখির রহস্য।
পৃথিবীর বিস্ময়কর পাখি: ১১ দিন আকাশে, ১৩,৬৫০ কিলোমিটার বিরতিহীন উড়াল
মাত্র ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি পাখি টানা ১১ দিন আকাশে উড়তে পারে—শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় এর সত্যতা মিলেছে। বার-টেইলড গডউইট নামের এই পরিযায়ী পাখি "আলাস্কা থেকে অস্ট্রেলিয়া পাখির যাত্রা" সম্পন্ন করে একবারও না থেমে। এই "বার-টেইলড গডউইটের উড়াল রহস্য" আজও বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে।
![]() |
| পৃথিবীর বিস্ময়কর পাখি বার-টেইলড গডউইট! মাত্র ১১ দিনে ১৩,৬৫০ কিলোমিটার বিরতিহীন উড়াল দিয়ে গড়েছে অনন্য রেকর্ড। কীভাবে এত দীর্ঘ পথ না থেমে পাড়ি দেয় এই ছোট্ট পাখি? জানুন বিস্তারিত। |
গবেষকদের সংযুক্ত স্যাটেলাইট ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বার-টেইলড গডউইট একটানা প্রায় ১৩,৬৫০ কিলোমিটার পথ উড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে। পুরো যাত্রায় পাখিটি কোথাও বিশ্রাম নেয়নি, খাবার গ্রহণ করেনি কিংবা মাটিতে নামেনি। এই ঘটনাকে বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর প্রাণিবৈজ্ঞানিক রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন > IMEI নম্বর দিয়ে কি বোঝা যায় ফোনে eSIM সাপোর্ট আছে? বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও আপডেট
আরও পড়ুন > ইভি গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ, বাংলাদেশে সবুজ পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন > ৭ প্রশ্নে কৃত্রিম জরায়ু রোবট, বদলাবে কি মাতৃত্বের ভবিষ্যৎ?
বার-টেইলড গডউইট একটি পরিযায়ী তীরবর্তী পাখি। প্রতি বছর তারা উত্তর আমেরিকার আলাস্কা অঞ্চল থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অভিবাসন করে।
গবেষকরা পাখিটির শরীরে মাত্র ৫ গ্রাম ওজনের একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস স্থাপন করেন। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য দেখায় যে "পৃথিবীর দীর্ঘতম পাখির উড়াল" রেকর্ডগুলোর একটি এই প্রজাতির দখলে।
"১১ দিন বিরতিহীন উড়ন্ত পাখি" হিসেবে বার-টেইলড গডউইটের নাম এখন প্রাণিবিজ্ঞান গবেষণায় বিশেষভাবে আলোচিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পাখিবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, এই পাখির অসাধারণ সহনশীলতা এবং নেভিগেশন ক্ষমতা এখনও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গবেষকদের মতে, "পরিযায়ী পাখির বৈজ্ঞানিক বিস্ময়" বোঝার ক্ষেত্রে বার-টেইলড গডউইট একটি আদর্শ উদাহরণ।
"চর্বি থেকে শক্তি উৎপাদনকারী পাখি" হিসেবে বার-টেইলড গডউইটের অভিযোজন ক্ষমতা অসাধারণ।
দীর্ঘ যাত্রার আগে পাখিটি শরীরে বিপুল পরিমাণ চর্বি সঞ্চয় করে। এই চর্বিই উড়ন্ত অবস্থায় প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘ অভিবাসনের সময় পাখিটির কিছু অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সাময়িকভাবে আকারে ছোট হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ওজন কমে এবং শক্তি সাশ্রয় হয়।
"পাখির দিক নির্ণয়ের ক্ষমতা" বিজ্ঞানীদের জন্য সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।
জিপিএস বা আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই বার-টেইলড গডউইট সূর্যের অবস্থান, নক্ষত্রমণ্ডল এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে পথ খুঁজে নেয়। এই গবেষণা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নেভিগেশন প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন ধারণা দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, প্রাণিজগতের অভিযোজন ক্ষমতা মানুষের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি উন্নত।
বিজ্ঞানীরা এখন বার-টেইলড গডউইটের জিনগত বৈশিষ্ট্য, শক্তি ব্যবস্থাপনা এবং নেভিগেশন পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা করছেন। ভবিষ্যতে এই গবেষণা পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রাণিবিজ্ঞান এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশ্ন: বার-টেইলড গডউইট কত দূর উড়তে পারে?
উত্তর: প্রায় ১৩,৬৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিরতিহীন উড়তে পারে।
প্রশ্ন: কতদিন আকাশে থাকতে পারে?
উত্তর: প্রায় ১১ দিন পর্যন্ত একটানা উড়তে পারে।
প্রশ্ন: উড়ার সময় খাবার খায় কি?
উত্তর: দীর্ঘ যাত্রায় সাধারণত খাবার গ্রহণ করে না।
প্রশ্ন: পথ চিনে কীভাবে?
উত্তর: সূর্য, তারা এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে।
প্রশ্ন: বিজ্ঞানীরা কেন আগ্রহী?
উত্তর: এর অসাধারণ শক্তি ব্যবস্থাপনা ও নেভিগেশন ক্ষমতা গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বার-টেইলড গডউইট শুধু একটি পাখি নয়, বরং প্রকৃতির অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার জীবন্ত উদাহরণ। এর বিরতিহীন দীর্ঘ উড়াল বিজ্ঞানীদের যেমন বিস্মিত করেছে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও মুগ্ধ করেছে। আপনার মতে, প্রাণিজগতের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য কোনটি? মন্তব্য করে জানান এবং প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন।
মোঃ নজরুল ইসলাম - অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক
সোর্স: বৈজ্ঞানিক পাখিবিজ্ঞান গবেষণা, স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ডেটা, আন্তর্জাতিক পরিযায়ী পাখি গবেষণা প্রতিবেদন।
সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘ যাত্রায় উড়ন্ত বার-টেইলড গডউইট

0 Comments