Advertisement

0

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে আধুনিক খাদ্যাভ্যাস ও রাসায়নিক দ্রব্য

 

আধুনিক খাদ্যাভ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারে ক্যান্সারসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। জেনে নিন প্রতিরোধে করণীয়।

আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে লুকিয়ে থাকা ক্যান্সারের ঝুঁকি

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে আধুনিক খাদ্যাভ্যাস ও রাসায়নিক দ্রব্য
স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে আধুনিক খাদ্যাভ্যাস ও রাসায়নিক দ্রব্য

বর্তমান সময়ে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্যপ্রস্তুতিতে ব্যবহৃত নানা রাসায়নিক উপাদান মানবস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, বাজারে সহজলভ্য খাদ্যপণ্যগুলোর গুণগতমান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আটার পরিশোধন, চিনির ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড আলুর চিপসে ক্যান্সারের ঝুঁকি লুকিয়ে রয়েছে।

পরিশোধিত আটা: বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে পুষ্টির ক্ষতি

বাজারে পাওয়া অধিকাংশ আটা আটবার পর্যন্ত পরিশোধিত করা হয়, যার ফলে পুষ্টিগুণ প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এরপর সাদা দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ক্লোরিন গ্যাস—এক ধরনের ব্লিচিং উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের আটা ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়ে ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চিনির পরিবর্তে প্রাকৃতিক মিষ্টিজাতীয় খাবার

প্রক্রিয়াজাত চিনি কেবল মোটা হওয়ার কারণ নয়, বরং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতেও সহায়ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনির পরিবর্তে মধু, গুড় কিংবা ম্যাপেল সিরাপ ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

প্রক্রিয়াজাত মাংস: অগ্নাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াইয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খেলে অগ্নাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৬৭% পর্যন্ত বাড়তে পারে। এসব মাংসে ব্যবহৃত রাসায়নিক সংরক্ষক ও ধোঁয়া থেকে তৈরি উপাদান শরীরে জমে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতি করে।

মাছ চাষে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও আলুর চিপসের ফাঁদ

আজকাল মাছ চাষে জীবাণু, ভাইরাস বা পরজীবী ঠেকাতে নানা ধরনের জীবাণুনাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করে। একইভাবে উচ্চ তাপে ভাজা আলুর চিপসে তৈরি হয় 'অ্যাক্রিলামাইট' নামক কারসিনোজেন, যা ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

সচেতনতা ও বিকল্প খাদ্য নির্বাচনই পথ

বর্তমান খাদ্যসংস্কৃতিতে পুষ্টিহীন ও রাসায়নিক দূষিত খাদ্যকে এড়ানো জরুরি। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি খাদ্য, ঘরোয়া রান্না ও অপ্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে বাঁচা সম্ভব।

FAQ (প্রশ্নোত্তর)

প্রশ্ন: ব্লিচ করা আটা কেন ক্ষতিকর?

উত্তর: ক্লোরিন ব্লিচিং আটা থেকে পুষ্টি সরিয়ে দেয় এবং ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রশ্ন: চিনির পরিবর্তে কী ব্যবহার করা নিরাপদ?

উত্তর: প্রাকৃতিক মিষ্টিজাত যেমন মধু, গুড় ও ম্যাপেল সিরাপ নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

প্রশ্ন: প্রক্রিয়াজাত মাংস কীভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

উত্তর: এতে থাকা রাসায়নিক সংরক্ষক ও ধোঁয়া-উৎপন্ন উপাদান শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করে এবং ক্যান্সার কোষের বিকাশে সহায়ক হয়।

প্রশ্ন: ফাস্ট ফুড আলুর চিপস কেন ক্ষতিকর?

উত্তর: উচ্চ তাপে ভাজার ফলে এতে অ্যাক্রিলামাইট তৈরি হয়, যা এক ধরনের কারসিনোজেন এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রশ্ন: ক্যান্সার প্রতিরোধে কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস জরুরি?

উত্তর: পুষ্টিকর, অপ্রক্রিয়াজাত, রাসায়নিকমুক্ত খাদ্য গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক উপাদানির্ভর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Post a Comment

0 Comments