সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেলেও প্রাণবন্ত লড়াই করে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।
সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হার, তবে লড়াকু বাংলাদেশ জিতে নিয়েছে দর্শকদের মন
![]() |
| সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত বাংলাদেশ |
জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ। আশায় বুক বেঁধে এসেছিলেন হাজারো দর্শক। তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২-১ গোলে পরাজয়ের ফলে হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশ দলকে। হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা সুযোগ সৃষ্টি করলেও, গোলের দেখা পেল কম। তবে শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই করে তারা জিতে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে নামে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে দারুণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দলটি। অভিষিক্ত শমিত সোম একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও, গোলের দেখা মেলেনি। প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগ এসেছিল রাকিব হোসেনের সামনে, কিন্তু ফিনিশিং ছিল হতাশাজনক।
প্রথমার্ধের ৪৫তম মিনিটে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যায় সং উই ইয়ংয়ের গোলে। থ্রো-ইন থেকে গোলমুখে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে গোললাইন ছেড়ে যান গোলরক্ষক মিতুল মারমা। ফিরতি বল পেয়ে উই ইয়ং নিখুঁত প্লেসিংয়ে জালে বল পাঠান। শেষ মুহূর্তে বাঁধা দিতে ছুটে এসেছিলেন হামজা চৌধুরী, কিন্তু পারেননি রক্ষা করতে।
দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯তম মিনিটে বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোল হজম করে। হামি শিয়াহিনের শট ঠেকালেও বল ফেরত চলে যায় ইকসান ফান্দির সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি।
তবে বাংলাদেশর খেলোয়াড়রা হাল ছাড়েননি। ৬৭ মিনিটে হামজার দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট থেকে রাকিব হোসেন গোল করে ব্যবধান কমান। যদিও বলটির গতি ছিল কম, কিন্তু গোলরক্ষকের ভুল সিদ্ধান্তে ডিফেন্ডাররাও বল ঠেকাতে পারেননি।
![]() |
| হৃদয় জেতা লড়াইয়ে হতাশাজনক হার, |
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা, কিন্তু সমতা ফেরানো যায়নি
গোলের ব্যবধান কমানোর পর বাংলাদেশ আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। ফাহমিদুল ইসলাম, শাকিল আহাদ, রাকিবরা একের পর এক আক্রমণ চালান। তবে ফিনিশিং দুর্বলতার কারণে গোলের দেখা মেলেনি। শেষ ১০ মিনিটে পুরোপুরি প্রতিপক্ষের অর্ধে খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।
সিঙ্গাপুর র্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ উপরে থাকা দল হলেও, ম্যাচের অধিকাংশ সময়েই চাপে ছিল। বাংলাদেশ যেমন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তাতে জয় পাওয়ার মতো পারফরম্যান্সই ছিল।
পয়েন্ট তালিকার সমীকরণ কঠিন হয়ে গেল
এই হারের ফলে ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্টেবিলে বাংলাদেশ পড়ে গেল চাপে। হংকং ১-০ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। ফলে ৪ পয়েন্ট করে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের, আর বাংলাদেশ ও ভারতের পয়েন্ট ১ করে। বাকি ম্যাচগুলোতে জিততে না পারলে এশিয়ান কাপে খেলা কঠিন হয়ে যাবে লাল-সবুজদের জন্য।
শমিত-হামজারা জিতলেন হৃদয়
হামজা চৌধুরী এই ম্যাচে ছিলেন দৃঢ় প্রতিরক্ষার প্রতিচ্ছবি। আর অভিষেকেই শমিত সোম নজর কেড়েছেন দুর্দান্ত মধ্যমাঠ কৌশলে। প্রথমার্ধেই পাঁচটি নির্ভুল পাস বাড়িয়েছিলেন তিনি, যেগুলো থেকে গোল হতে পারতো। দুর্ভাগ্যবশত, রাকিব ও ফাহমিদুল সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেননি।
গোলরক্ষক মিতুল মারমাও প্রথমার্ধে একটি নিশ্চিত গোল রক্ষা করে নজর কাড়েন।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ কবে এবং কার বিরুদ্ধে?
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ‘সি’ গ্রুপে ভারতের বিপক্ষে, সময়সূচি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের অধীনে নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশ এখন কত নম্বরে আছে গ্রুপে?
বাংলাদেশ ও ভারতের পয়েন্ট ১ করে, তারা গ্রুপের তলানিতে রয়েছে। সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের পয়েন্ট ৪।
কে ছিলেন ম্যাচের সেরা পারফর্মার?
অভিষিক্ত শমিত সোম ও মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন।
বাংলাদেশ কী এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে পারবে?
বর্তমান পয়েন্ট ও পারফরম্যান্স বিচার করে বলাই যায়, পরবর্তী দুই ম্যাচে জয় না পেলে কোয়ালিফিকেশন কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ গোল মিস করলো কেন?
গোলের সুযোগ তৈরি হলেও দুর্বল ফিনিশিং ও কিছুটা ভাগ্যের অভাবে গোল হয়নি।


0 Comments