Advertisement

0

ঈদুল আযহা ও কুরবানী: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, বিধান ও শিক্ষা

বৃহস্পতিবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ঋতু: গ্রীষ্মকাল, ৫ জুন ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ জিলহজ্জ ১৪৪৬ হিজরি

কুরবানীর ইসলামী তাৎপর্য, বিধান, ইতিহাস ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। জানুন কুরবানীর শর্ত ও হেকমত।

ঈদুল আযহা ও কুরবানী ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, বিধান ও শিক্ষা
ঈদুল আযহা ও কুরবানী ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি


ঈদুল আযহা ও কুরবানী: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, বিধান ও শিক্ষা

কুরবানী কী?

আরবি শব্দ ‘উদহিয়া’ বা ‘যবহ’ এর বাংলা প্রতিশব্দ ‘কুরবানী’। কুরবানী শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো– নিকটবর্তী হওয়া বা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা। ইসলামী শরীয়তে কুরবানী বলা হয়– “আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্ধারিত পশু নির্ধারিত সময়ে তাঁর নামে জবেহ করা”।

কুরআন ও হাদীসে কুরবানীর গুরুত্ব

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
“সালাত কায়েম করো এবং তোমার রবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করো” (সূরা কাওসার: ২)।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:
“আদম সন্তানের কোনো আমল কুরবানীর দিনে আল্লাহর নিকট পশু কুরবানীর চেয়ে অধিক প্রিয় হতে পারে না।” (তিরমিযী)

কুরবানীর ইতিহাস

কুরবানীর সূচনা হয়েছিল মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহিম (আঃ) কর্তৃক নিজ সন্তান ইসমাঈল (আঃ)–কে কুরবানী করার প্রয়াস থেকে। আল্লাহ তাআলা তাদের পরীক্ষা নেন, এবং সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুরবানী করা হয়।

কুরবানীর উদ্দেশ্য

কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য:

  • আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন

  • তাকওয়ার পরীক্ষা

  • সমাজে সহযোগিতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা

  • আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ত্যাগের চর্চা

কুরবানীর বিধান ও সময়সীমা

  • কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?
    প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, মুসলমান, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেকের উপর কুরবানী ওয়াজিব।

  • সময়সীমা:
    ১০ যিলহজ্জ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ যিলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৩ দিন কুরবানী করা যায়।

  • পশুর বয়স ও শর্ত:

    • ছাগল/ভেড়া: ১ বছর

    • গরু/মহিষ: ২ বছর

    • উট: ৫ বছর

    • পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত ও সুস্থ।

কুরবানীর মাংস বণ্টন

সুন্নাহ মোতাবেক:

  • ১/৩ অংশ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের

  • ১/৩ গরিব-মিসকিনদের

  • ১/৩ নিজের পরিবারের জন্য

কুরবানীর শিক্ষা

  • আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য

  • আত্মত্যাগের মহত্ত্ব

  • ধনী-গরিবের মাঝে সহানুভূতি ও সমতা

  • কুরআন-হাদীসভিত্তিক জীবন যাপন

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: কুরবানী না করলেই কি গুনাহ হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি কারও উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় এবং সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা না করে, তবে তা গুনাহের কাজ হবে।

প্রশ্ন: কুরবানীর গোশত কি হিন্দু বা অমুসলিমকে দেওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, অমুসলিম প্রতিবেশী বা দরিদ্রকে মানবিকতার খাতিরে কুরবানীর গোশত দেওয়া জায়েয।

প্রশ্ন: একাধিক পরিবারের সদস্য মিলে একটি গরু কুরবানী করতে পারবে?
উত্তর: হ্যাঁ, গরু বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারে, তবে সকলের নিয়ত হতে হবে কুরবানী।



Post a Comment

0 Comments