আজ রবিবার ১৫ই আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুন ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা মহররম ১৪৪৭ হিজরি, বর্ষা-কাল.
Title :
পিএসজি অধ্যায় মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত
🔍 মেটা ডেসক্রিপশন:
পিএসজিতে লিওনেল মেসির সময়টা ছিল অশান্ত, বিব্রতকর ও হতাশার। ক্লাব বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার মুখোমুখি প্রাক্তন প্রেম।
![]() |
| পিএসজি অধ্যায় মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত |
মেসি-পিএসজি সম্পর্কের ইতি: ভুল সম্পর্ক, আশীর্বাদের বিচ্ছেদ
লিওনেল মেসি—যিনি আজ ৩৮ বছর বয়সেও বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বলতম নাম। দীর্ঘ দুই দশকের পেশাদার ক্যারিয়ারে গড়েছেন ইতিহাস, জিতেছেন শিরোপার পর শিরোপা। তবে সেই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশাজনক অধ্যায় নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরটি একটাই—প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)।
চাওয়া না চেয়েও বিদায় বার্সেলোনার
মেসি কখনোই বার্সেলোনা ছাড়তে চাননি।
ক্যাম্প ন্যু ছিল তার ঘর, পরিবার আর স্মৃতির শহর। কিন্তু ক্লাবের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বাধ্য হয়েই তাকে বার্সেলোনা ছাড়তে হয়। ভরা চোখে সংবাদ সম্মেলনে বিদায় বলেছিলেন তিনি, যেখানে কাঁদতে কাঁদতেই বলেছিলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম থেকে যেতে।’
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পিএসজিতে যোগ দেন—যেন এক অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে জড়ানো, যার শুরুতেই ভুল ছিল ছাপা।
নেইমার-মেসি বন্ধুত্বেও কাজ হয়নি
নেইমার ও পরিচিত মুখদের উপস্থিতিতে ভেবেছিলেন সহজ হবে মানিয়ে নেওয়া। কিন্তু বাস্তবতা ছিল কঠিন।
কভিড পরিস্থিতি, প্রি-সিজনের অভাব, প্যারিসের যানজট, এবং পারিবারিক পরিবেশে অস্থিরতা—সব কিছু মিলিয়ে শুরু থেকেই মেসির সময়টা ছিল ব্যস্ত, বিব্রতকর ও মন খারাপের।
মেসি নিজেই বলেছিলেন,
"পিএসজিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই অখুশি ছিলাম, উপভোগ করতে পারিনি।"
পারফরম্যান্সে ছায়া, সমর্থকদের দুয়ো
দুই মৌসুমে গোল কম, ছন্দহীন পারফরম্যান্স, ব্যর্থতা ইউরোপে—সব মিলিয়ে মেসি যেন বার্সার সেই ছায়াও হয়ে উঠতে পারেননি। হতাশ হয়েছিলেন পিএসজি সমর্থকরাও। এমনকি শেষদিকে ম্যাচ চলাকালীন নিজের ক্লাবের দর্শকদের দুয়ো শুনেছেন ফুটবল রাজপুত্র।
অথচ এই একই সময়, মেসি জাতীয় দলের জার্সিতে কাতার বিশ্বকাপে ছিলেন অনন্য। আর্জেন্টিনাকে এনে দেন বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ। পিএসজি ভক্তদের মনে তখন প্রশ্ন—এই মেসি আমাদের জার্সিতে কোথায় ছিলেন?
ত্রয়ী তারকা, কিন্তু ভারসাম্যহীন দল
মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পে—তিনজনই রক্ষণে দায় নিতে অপারগ। ফলে দলে দেখা দেয় ভারসাম্যের অভাব।
মেসিকে অনেকে মনে করতেন এক মার্কেটিং কৌশল, যার ফুটবলীয় অবদান নয়, বরং আর্থিক প্রভাবই ছিল মুখ্য।
পিএসজিও শেষ পর্যন্ত মেসির সঙ্গে চুক্তি নবায়নে আগ্রহ দেখায়নি। সম্পর্কের ইতি তাই হয়ে পড়ে স্বাভাবিক।
আলাদা পথেই মিলেছে শান্তি
পিএসজি থেকে আলাদা হওয়ার পর মেসি যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। সেখানে পেলেন পারিবারিক শান্তি, নিজের ছন্দে থাকা সুযোগ, নতুন উদ্যম। অপরদিকে পিএসজি বাজেট নিয়ন্ত্রণে এনে বিনিয়োগ করেছে তরুণ প্রতিভায়। ফলাফল—অবশেষে ক্লাব ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ।
পুরনো প্রেম, নতুন মঞ্চ
রবিবারের ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইন্টার মায়ামি ও পিএসজি। অনেকে একে বলছেন ‘বিদ্বেষের ম্যাচ’। কিন্তু বাস্তবতা অনেক শান্তিপূর্ণ। যেন পুরনো এক সম্পর্কের বিনয়ী পুনর্মিলন—যেখানে দু’পক্ষই বুঝে গেছে, তারা একে অপরের জন্য ছিল না।
৩৮তম জন্মদিনে মেসিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে পিএসজির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট। বার্তাটি সংক্ষিপ্ত, তবে অর্থপূর্ণ
উপসংহার: ভুল সম্পর্ক, কিন্তু শিক্ষণীয়
মেসির পিএসজি অধ্যায় হয়তো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ভুল ‘রিবাউন্ড রিলেশনশিপ’। তবে এই বিচ্ছেদটি ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। আলাদা হয়েও দু’পক্ষ তাদের উপযুক্ত জায়গায় পৌঁছেছে।
প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. মেসি কেন বার্সেলোনা ছেড়েছিলেন?
বার্সেলোনার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চুক্তি নবায়ন সম্ভব হয়নি, ফলে মেসিকে বাধ্য হয়ে ক্লাব ছাড়তে হয়।
২. পিএসজিতে মেসির পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
দুই মৌসুমে মেসি পিএসজিতে ছায়া হয়ে ছিলেন; গোল কম, ছন্দহীন পারফরম্যান্স ও সমর্থকদের হতাশা ছিল স্পষ্ট।
৩. পিএসজি কেন মেসিকে রেখে দেয়নি?
দলের ভারসাম্যহীনতা, অর্থনৈতিক চিন্তা ও পারস্পরিক আগ্রহের অভাবেই মেসির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি পিএসজি।
৪. মেসি কোথায় খেলছেন এখন?
বর্তমানে মেসি খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে।
৫. পিএসজি কি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে?
হ্যাঁ, মেসির বিদায়ের পর তরুণ প্রতিভার ওপর ভর করে পিএসজি প্রথমবারের মতো
চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে।

0 Comments