আজ সোমবার ৩০শে আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৮ই মহররম ১৪৪৭ হিজরি, বর্ষা-কাল.
গণজাগরণ আন্দোলনের প্রতীক শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে কে বা কারা ভেঙেছে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।
শাহবাগে ভাঙা হলো প্রজন্ম চত্বর: ইতিহাসের প্রতীকে বুলডোজার চালালো কারা?
![]() |
| শাহবাগে ভাঙা হলো প্রজন্ম চত্বর |
২০১৩’র গণজাগরণ চত্বর এখন ইতিহাস
২০১৩ সালে শাহবাগে গড়ে ওঠা প্রজন্ম চত্বর ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে উত্তাল জনতার কেন্দ্রবিন্দু। এই চত্বর থেকেই শুরু হয়েছিল এক ঐতিহাসিক আন্দোলন, যা এক সময় রূপ নেয় গণজাগরণে। “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” এবং “অবিচার বিরোধী গণস্বর” হয়ে উঠেছিল এই জায়গাটি।
তবে সেই স্মৃতিবহ স্থাপনাটিই গত শনিবারাতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতের আঁধারে গোপনে ভাঙা হয় এই প্রতীকী চত্বরটি। এতে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—স্মৃতি কি রাষ্ট্রীয় নীতির কাছে মূল্যহীন?
কে ভাঙলো প্রজন্ম চত্বর? মেলেনি সুনির্দিষ্ট জবাব
প্রথমে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগেই চত্বরটি ভাঙা হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, "গণপূর্ত অধিদপ্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এটি ভেঙেছে, নতুন স্থাপনা নির্মাণের জন্য।"
কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোর্শেদ ইকবাল জানান, এটি তাদের আওতার মধ্যে নয়। এমনকি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজিরও জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
ইতিহাসের স্মারক ভাঙার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য?
একটি প্রশ্ন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে—এই স্থাপনাটি ভাঙার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? সরকারের কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছিল কি না? নাকি এটি ছিল আমলাতান্ত্রিক অসঙ্গতির ফল?
প্রতীকী স্থাপনাটি ভেঙে নতুন কী গড়ে তোলা হবে, সে সম্পর্কেও নেই কোনো স্পষ্টতা। একটি ইতিহাসভিত্তিক স্মারক সরিয়ে ফেলে সেখানে কী দাঁড়াবে—এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে হতাশা, উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
নাগরিক প্রতিক্রিয়া: স্মৃতি মুছে ফেলার প্রয়াস?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, “প্রজন্ম চত্বর শুধু একটি কাঠামো ছিল না; এটি ছিল এক সত্তা, এক ইতিহাস।” কেউ কেউ বলছেন, “এই জায়গা আমাদের মুক্তচিন্তা ও প্রতিবাদের জায়গা ছিল—যেটিকে মুছে ফেলা মানেই ইতিহাস মুছে ফেলা।”
* প্রজন্ম চত্বর * গণজাগরণ আন্দোলন * শাহবাগ আন্দোলন
* ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন * গণপূর্ত অধিদপ্তর * যুদ্ধাপরাধের বিচার
* রাজনৈতিক প্রতীক ভাঙা * বাংলাদেশে প্রতিবাদ আন্দোলন
FAQ:
প্রজন্ম চত্বর কোথায় অবস্থিত ছিল?
উত্তর: রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড়ে অবস্থিত ছিল এই চত্বরটি, যা ২০১৩ সালের গণজাগরণ আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল।
[আরও জানুন গণজাগরণ আন্দোলন সম্পর্কে](https://bn.wikipedia.org/wiki/গণজাগরণ_আন্দোলন_২০১৩)
কে বা কারা প্রজন্ম চত্বর ভেঙেছে?
উত্তর: পুলিশ বলছে এটি ভেঙেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কেউই এটি নিশ্চিত করতে পারেননি।
কেন ভাঙা হয়েছে এই প্রতীকী স্থাপনা?
উত্তর: অনির্ধারিতভাবে বলা হচ্ছে নতুন স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভাঙা হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়।
এখানে এখন কী নির্মাণ করা হবে?
উত্তর: এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রকল্প বা স্থাপনা পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসেনি।
জনগণের প্রতিক্রিয়া কেমন?
উত্তর: অনেকেই এটিকে ইতিহাস মুছে ফেলার প্রয়াস বলে মন্তব্য করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

0 Comments