Advertisement

0

২০২৪-এর কিশোর আন্দোলনের এক বছর অভ্যুত্থানের দিনলিপি

আজ বুধবার ১৮ই আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ৬ই মহররম ১৪৪৭ হিজরি, বর্ষা-কাল.

২০২৪ সালের কিশোর আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে আন্দোলনের পটভূমি, আত্মত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি নিয়ে বিশ্লেষণ।   লেখক আলতাব মোল্লা 

                                    

আলতাব

২০২৪-এর কিশোর আন্দোলনের এক বছর অভ্যুত্থানের দিনলিপি
 ২০২৪-এর কিশোর আন্দোলনের এক বছর অভ্যুত্থানের দিনলিপি

কিশোর বিদ্রোহের এক বছর: ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের দিনলিপি

ভূমিকা: ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের কিশোর আন্দোলন ছিল বাংলাদেশেরাজনীতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। বহুদিন ঘরে ঘুমাতে না পারা এক প্রজন্মের হৃদয়ে যখন স্বাধীনতার তৃষ্ণা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ জেগে ওঠে, তখন গর্জে ওঠে রাজপথ। কেউ ভাবতেও পারেনি এই কচি-কাঁচারা এমন অগ্নিসংযোজক হবে, যারা ফ্যাসিস্ট শক্তির পতনের ধ্বনি বাজাবে।


আন্দোলনের সূচনা: নিস্তব্ধতার ভাঙন

রাজনৈতিক নির্দেশনার অভাবে যখন রাজপথ ছিল নিস্তব্ধ, তখনই ঘরে ঘরে জেগে উঠলো এক নতুন প্রজন্ম। দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াও তারা রাজপথে নামে—যেনিজেদের ভবিষ্যতের জন্য, দেশের মুক্তির জন্য কেউ থামাতে পারবে না এমন এক দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। আন্দোলনের প্রথমদিকের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাপিয়ে তারা ১৫ জুলাই থেকে শুরু করে ‘ননস্টপ বিদ্রোহ’।


তারেক রহমানের সমর্থন এবং সাহসের জোয়ার

লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানালে অনেকেই সাহস ফিরে পান। রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে জেগে ওঠে আশা। বহু বাবা-মা যারা সন্তানদেরাজপথে দেখে চিন্তিত হয়েছিলেন, তারাও এক সময় সন্তানের সাহসে অনুপ্রাণিত হয়ে পাশে এসে দাঁড়ান।


রাজপথে রক্ত, গুলির ঝড়, এবং একাত্তরের ছায়া

রাজপথে শুরু হয় গুলির ঝড়—যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং সরকারি বাহিনীর গুলি যেন ফিরিয়ে এনেছিল ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতের স্মৃতি। ছেলেরা, মেয়েরা থামেনি। তারা ভীত হয়নি, পিছু হটেনি।

মরোক্কো থেকে ঢাকারাজপথ—যেখানে-ই হোক, স্বাধীনতা চাওয়া কখনও ভয়ের কাছে মাথা নত করে না। অনেকেই শহীদ হন, আহত হন অসংখ্য। অনেক হাসপাতাল সরকারি নির্দেশে আহতদের ফিরিয়ে দেয়। কিছু ভর্তি হলেও শোনতে হয় প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কার।

২০২৪-এর কিশোর আন্দোলনের এক বছর অভ্যুত্থানের দিনলিপি
২০২৪-এর কিশোর আন্দোলনের এক বছর অভ্যুত্থানের দিনলিপি

এক বাবার গল্প, হাজারো পরিবারের প্রতিচ্ছবি

এক বাবা, যার ছোট ছেলের পায়ে রাবার বুলেট লাগে। খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায় সে এক বন্ধুর কাছে আশ্রয় নিয়েছে। বাবার ভয়—পুরোনো শত্রু যদি আন্দোলনের সুযোগে ছেলেকে ক্ষতি করে? তাই তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আপোসে রাজনীতি ও বিএনপির ভিতরকার দ্বন্দ্ব

আন্দোলনের সময় যখন নেতাকর্মীদের অনেকেই গ্রেপ্তার হন বা ডিবি অফিসারের সহায়তায় আত্মসমর্পণ করেন, তখন কারো কারো মধ্যে দেখা যায় আপোস রাজনীতি। যারা পরে জামিনে মুক্ত হয়ে দলীয় ব্যানারে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর দখলবাজিতে জড়িয়ে পড়েন—তারা যেন স্বাধীনতাযুদ্ধে যুদ্ধ করে শহীদদের নামে মুজিব বাহিনীর লুটতরাজের পুনরাবৃত্তি ঘটান।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দখলদা রাজনীতির প্রতিচ্ছবি

টাকার বিনিময়ে আদর্শের দলবদল, দালালি আর সুবিধাবাদী জোট গঠনের ফলে রাজনীতির নৈতিকাঠামো ভেঙে পড়ে। রাজাকারদের মতোই আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে স্বার্থান্বেষীদের ঠিকানা। ২০২৪ সালের ‘নতুন স্বাধীনতা সংগ্রামে’ টাকা আর ক্ষমতার লোভে অনেকেই আদর্শের সঙ্গে আপোস করে বিএনপি, জামায়াত বা গণঅধিকার প্ল্যাটফর্মে নাম লেখায়।

সামনে কী?

এই সরকারের আমলেই, যারা আন্দোলনের চেতনা বিকিয়ে দেয়, তাদের নির্মূল করা প্রয়োজন—এটাই আন্দোলনের প্রকৃত বিজয় নিশ্চিত করার পথ। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা রহিম উদ্দিনের কথা আলাদা করে একদিন বলতে হবে, তার মতো শহীদদের আত্মত্যাগ যদি মূল্যহীন হয়, তাহলে ভবিষ্যতের আন্দোলনও ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়ে যাবে।

FAQs: কিশোর আন্দোলনের এক বছর পর

কোন সময় কিশোর আন্দোলন শুরু হয়েছিল?

২০২৪ সালের জুলাই মাসে কিশোর আন্দোলনের সূচনা ঘটে।

তারেক রহমান কিভাবে আন্দোলনকে প্রভাবিত করেন?

লন্ডন থেকে আন্দোলনের সমর্থন জানান, যা আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়ায়।

আন্দোলনে কতজন নিহত বা আহত হন?

নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, তবে বহু ছেলেমেয়ে নিহত হন এবং আহতদের সঠিক চিকিৎসাও পায়নি।

আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাদের ভূমিকা কেমন ছিল?

কিছু নেতা কারাবরণের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ছিলেন, কেউ কেউ আপোস করে রাজনীতি থেকে সরে যান।

এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী?

সরকারি দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনের চেতনা বেঁচে আছে। সঠিক নেতৃত্ব পেলে তা আবার জ্বলে উঠতে পারে।



Post a Comment

0 Comments