আজ রবিবার ২২শে আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই মহররম ১৪৪৭ হিজরি, বর্ষা-কাল.
আশুরার দিনে ঘটে যাওয়া ২০টি স্মরণীয় ঘটনার ইতিহাস জানুন। ইসলামে এ দিনটির তাৎপর্য ও নবীজির রোজা পালন সম্পর্কেও বিস্তারিত পড়ুন।
![]() |
| আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও স্মরণীয় ২০টি ঘটনা |
আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও স্মরণীয় ২০টি ঘটনা
জাহেলি যুগেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল আশুরা
মহররম মাসের দশম দিন, পবিত্র আশুরা—ইসলামের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। শুধু ইসলাম নয়, বরং ইসলাম-পূর্ব জাহেলি যুগেও আরবরা এই দিনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করত।
মক্কার মানুষ এ দিনে রোজা রাখত এবং কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তন করত। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ দিন রোজা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কিরামদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন।
আশুরার রোজা: ফরজ থেকে মোস্তাহাব
প্রথম দিকে আশুরার রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ ছিল। কিন্তু রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা ঐচ্ছিক (মুস্তাহাব) ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। যদিও এটি ফরজ নয়, তবুও এর ফজিলত অসাধারণ।
রাসুল (সা.) হাদিসে বলেছেন—
“আশুরার রোজা আগের এক বছরের গুনাহ মাফের মাধ্যম।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
আশুরার দিনে সংঘটিত ২০টি স্মরণীয় ঘটনা
আল্লাহর অলৌকিক রহমত ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আশুরার দিনেই সংঘটিত হয়েছে। নিচে ইতিহাসবিষয়ক নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত আশুরার দিন সংঘটিত ২০টি স্মরণীয় ঘটনা দেওয়া হলো:
-
আকাশ, জমিন, পাহাড় ও পর্বতসমূহের সৃষ্টি
-
হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা
-
হজরত নূহ (আ.) মহাপ্লাবন শেষে জুদি পাহাড়ে নোঙর করেন
-
হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের আগুন থেকে মুক্তি পান
-
হজরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ রোগভোগের পর আরোগ্য লাভ করেন
-
হজরত সুলাইমান (আ.)-কে বিশাল রাজত্ব দান করা হয়
-
হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্ত হন
-
হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর কওম ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা পান
-
হজরত ঈসা (আ.) জীবিত অবস্থায় আসমানে উত্তোলিত হন
-
হজরত ইদ্রিস (আ.)-কে আসমানে তোলা হয়
-
হজরত দাউদ (আ.)-কে নবুয়তের সম্মানে ভূষিত করা হয়
-
গাজওয়ায়ে খায়বারে মুসলমানদের বিজয়
-
মাদায়েন ও কাদিসিয়ার ঐতিহাসিক বিজয়
-
হজরত আদম (আ.)-কে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়
-
হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া পুনর্মিলন ঘটান জাবালে রহমতে
-
হজরত নূহ (আ.)-কে তুফান থেকে রক্ষা করা
-
হজরত সোলায়মান (আ.) হারানো বাদশাহী ফিরে পান
-
হজরত ইয়াকুব (আ.) হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন
-
হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় যান
-
হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে শাহাদত বরণ করেন
মহররম মাস: স্মৃতি, শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক
এই মাসটি কেবল ইতিহাস নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক। আশুরার শিক্ষা হলো—জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ত্যাগ, ধৈর্য ও আত্মনিবেদন।
কারবালার ঘটনা আশুরার সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়, যেখানে ইয়াজিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইমাম হোসাইন (রা.) শহিদ হন।
❓Frequently Asked Questions (FAQ)
প্রশ্ন: আশুরার দিনে মুসলিমরা কী করতেন?
উত্তর: আশুরার দিনে মুসলিমরা রোজা রাখতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন ও আত্মশুদ্ধির আমল করতেন।
প্রশ্ন: আশুরার দিনে কী ঘটে?
উত্তর: বহু ঐতিহাসিক ঘটনা যেমন মুসা (আ.)-এর মুক্তি, নূহ (আ.)-এর তুফান পরবর্তী অবতরণ এবং কারবালার ট্র্যাজেডি এদিনেই ঘটে।
প্রশ্ন: আশুরা পালন করতে কী করণীয়?
উত্তর: ৯ ও ১০ মহররম বা ১০ ও ১১ তারিখ রোজা রাখা, দান খয়রাত করা, ইবাদত-বন্দেগিতে সময় ব্যয় করা।
প্রশ্ন: আশুরার শোক পালন কি ইসলামসম্মত?
উত্তর: আত্মশুদ্ধির রোজা এবং ইবাদত-উপাসনা ইসলামসম্মত; মাতম ও আত্মআঘাত করা বিদআত।
প্রশ্ন: আশুরার দিনে শিশুদের জন্য কী শিক্ষা দেওয়া উচিত?উত্তর: সত্য, ধৈর্য, আত্মত্যাগ এবং আল্লাহভীতি—এই চারটি মূল্যবোধ আশুরা থেকে শিশুদের শেখানো উচিত।
শিশুদের শেখানো উচিত।

0 Comments