Advertisement

0

সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ



সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এনবিআরের ১৪ কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারকে অশান্ত করার চেষ্টা দমনেই শাস্তির খড়গ: এনবিআরের ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

সরকারি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে জাতীয় রাজস্বোর্ড (এনবিআর)-এর ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলা এবং নানা ধরনের অশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান শুধু এনবিআর নয়, বরং সমগ্র সরকারি প্রশাসন জুড়েই চলবে বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা।

সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ
সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ

বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলার প্রতিবাদ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এনবিআরের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ১৪ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনকে দুপুরে এবং ৬ জনকে রাতে বরখাস্ত করা হয়েছে। বদলির আদেশ ‘নিপীড়নমূলক’ দাবি করে তা ছিঁড়ে ফেলা এবং সামাজিকভাবে প্রতিবাদ জানানোই ছিল তাদের অপরাধ।

এনবিআর পুনর্গঠন: আন্দোলনের সূত্রপাত

গত ১২ মে সরকার এনবিআরকে বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি বিভাগে বিভাজন করে অধ্যাদেশ জারি করে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতিতে যান।

এ আন্দোলনের প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতেও। ব্যবসায়ী মহল থেকে অভিযোগ ওঠে, এই অস্থিরতার কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, রাজস্ব আদায় হ্রাস পেয়েছে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কঠোর শৃঙ্খলা বিধান: ২০১৮ ও ২০২৫ সালের সংশোধনী

সরকার এরই মধ্যে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ ও ২০২৫ সালের দুটি সংশোধনী অধ্যাদেশ এনেছে, যেখানে কোনো কর্মচারী কর্তব্যে অবহেলা করলে বা আন্দোলনে যুক্ত হলে তদন্ত ছাড়াই বরখাস্ত করা যেতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কেউ সরকারের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯’-এর আলোকে বলা হয়, কোনো পোস্ট বা মন্তব্য যদি শৃঙ্খলা বিঘ্ন করে কিংবা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধিমালানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত: ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শুরু

দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. কামারুজ্জামান, ঢাকা পূর্ব কাস্টমস কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, আয়কর বিভাগের অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা প্রমুখ।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক

সরকারের কঠোর অবস্থানের পর আন্দোলনকারী অনেক কর্মকর্তা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইল নিষ্ক্রিয় করেছেন। কেউ কেউ চাকরি হারানোর শঙ্কায় নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।

সচিবালয়ে বৈষম্য ও অন্তঃক্যাডার সংকট

সচিবালয়ে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে পদোন্নতি ও পদায়ন সংক্রান্ত বৈষম্য বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি।

উপদেষ্টা পরিষদের উদ্যোগ ও নমনীয় সংশোধন

গত ৩ জুলাই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি চাকরি আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু নমনীয়তা আনা হবে। তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সুপারিশ ছাড়াও কোনো কর্মচারীকে শাস্তি দেওয়া যাবে না – এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

#এনবিআর কর্মকর্তা বরখাস্ত #সরকারি চাকরি আইন ২০২৫ #জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

#এনবিআর আন্দোলন #ড. মুহাম্মদ ইউনূস #সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা

#দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত #ফেসবুক পোস্ট সরকারি চাকরি #ক্যাডার বৈষম্য বাংলাদেশ

❓ FAQ (প্রশ্নোত্তর)

এনবিআরের কর্মকর্তাদের কেন বরখাস্ত করা হয়েছে?

এনবিআরের কর্মকর্তারা বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলা ও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন।

এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কোন আইনের ভিত্তিতে হয়েছে?

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং ২০২৫-এর সংশোধনী অনুযায়ী, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তদন্ত ছাড়াও চাকরি থেকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে।

এনবিআরের আন্দোলনের প্রভাব কী ছিল?

আন্দোলনের ফলে রাজস্ব আদায় কমেছে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই সংকটের সমাধানে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

সরকার চাকরি আইনের সংশোধনসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নমনীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেছে।

এনবিআরের পরিবর্তন কীভাবে হয়েছে?

সরকার এনবিআরকে বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব্যবস্থাপনা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠন করেছে।

আরও তথ্য পড়ুন সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধনী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন রিপোর্ট ওয়েবসাইটে।

Post a Comment

0 Comments