Advertisement

0

গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে রক্তাক্ত সহিংসতা

 আজ বৃহঃস্পতিবার ২রা শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ২১শে মহররম ১৪৪৭ হিজরি, বর্ষা-কাল.

গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় রক্তাক্ত সহিংসতা ও পুলিশের সংঘর্ষ

গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় সংঘর্ষ, ৪ জন নিহত ও ৫০ জন আহত। আওয়ামী কর্মীদের হামলা ও পুলিশের অভিযানে উত্তপ্ত শহর।

গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে রক্তাক্ত সহিংসতা
গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে রক্তাক্ত সহিংসতা


গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত "জুলাই পদযাত্রা" ঘিরে গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলেছে একের পর এক সহিংসতা। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় হামলা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুনে পুড়েছে পুলিশের গাড়ি। এতে চারজন নিহত, অন্তত নয়জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা।

পূর্বপ্রস্তুতি ও উত্তেজনার সূচনা

গতকাল সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জ পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির কেন্দ্রীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল সাড়ে নয়টা থেকেই মঞ্চ সাজানো, চেয়ার বসানো ও মাইক চালু করার কাজ চলছিল। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মাইকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থানেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা।

একই সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউএনও’র গাড়িও হামলার শিকার হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন নিয়ে তখন শঙ্কা দেখা দিলেও স্থানীয় নেতারা ঘোষণা দেন সভা হবেই।

প্রথম দফার হামলা ও সভামঞ্চ ভাঙচুর

বেলা ১টা ৩৪ মিনিটে গোপালগঞ্জ মহিলা কলেজ সেতুর দিক থেকে ৫০-৬০ জনের একটি দল বাঁশ, লাঠি হাতে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে দিতে সভাস্থলে আসে। মুহূর্তেই তারা চেয়ার, সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করে। এনসিপির কর্মীরা ও পুলিশ কোর্ট চত্বরে গিয়ে আশ্রয় নেন। পুলিশ সুপার অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে আসলে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পুনরায় সভা শুরু ও এনসিপি নেতাদের উপস্থিতি

দুপুর ২টা ৪ মিনিটে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সভামঞ্চে উপস্থিত হন এবং ২টা ৪০ মিনিটে পথসভা শেষ হয়। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শেষ বক্তব্যে সকলকে শান্ত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু নেতারা গাড়িতে উঠতেই চারদিক থেকে হামলাকারীরা আবার জড়ো হতে থাকে।

চূড়ান্ত হামলা ও পুলিশের প্রতিরোধ

গোপালগঞ্জ লেকপাড়, মহিলা কলেজ ব্রিজ ও বিসিক ব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে হামলাকারীরা সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসে। পুলিশ তাদের থামাতে চেষ্টা করে, বাঁশি বাজিয়ে সরতে বলে, কিন্তু তারা পিছিয়ে না গিয়ে সামনে আগায়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এনসিপির নেতাদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ তাদের গাড়িবহর নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেয়।

৪ নিহত, বহু গুলিবিদ্ধ ও পুলিশি অভিযান

সহিংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত ও ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে নয়জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজনৈতিক সহিংসতায় নতুন মাত্রা

এই সহিংসতা শুধু একটি দলের কর্মসূচি দমন নয়, বরং দেশে বিরোধী রাজনীতির ওপর কী ধরনের চাপ্রয়োগ চলছে, তার একটি নগ্ন উদাহরণ। নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে এই সহিংসতায় জড়িত—এটি রাজনৈতিক সহনশীলতার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

এনসিপির অবস্থান

পথসভা শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সভা করতে চেয়েছি, কিন্তু সরকারপন্থী বাহিনী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।” এনসিপি বলেছে, তারা হামলায় নিহতদের ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের জন্য দোয়ার আয়োজন করবে।

গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে রক্তাক্ত সহিংসতা
গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে রক্তাক্ত সহিংসতা

সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্ক

গোপালগঞ্জে এমন সহিংস পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য, যান চলাচল এবং স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য।

#গোপালগঞ্জ সহিংসতা  #এনসিপি পথসভা # আওয়ামী লীগ হামলা  #ছাত্রলীগ সহিংসতা

#বাংলাদেশ রাজনীতি ২০২৫  #পুলিশ সংঘর্ষ গোপালগঞ্জ  #নাহিদ ইসলাম এনসিপি

FAQs (প্রশ্নোত্তর)

১. গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা কেন সহিংস হয়ে উঠল?

এটি একটি শান্তিপূর্ণ পথসভা হিসেবে শুরু হলেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বিস্তারিত: এনসিপির অফিসিয়াল বিবৃতি

২. সহিংসতায় কতজন হতাহত হয়েছে?

ঘটনায় ৪ জন নিহত, ৯ জন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও চিকিৎসাসূত্র নিশ্চিত করেছে।

৩. এনসিপির নেতা-কর্মীরা কি পুলিশ সহযোগিতা পেয়েছেন?

হ্যাঁ, সংঘর্ষের শেষদিকে পুলিশ তাদের কার্যালয়ে আশ্রয় দেয় এবং গাড়িবহর নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

৪. এই হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের যোগসূত্র কী?

সাক্ষাৎকারে জানা যায়, হামলাকারীরা “জয় বাংলা” স্লোগান দিচ্ছিল ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছাত্রলীগ-আওয়ামী কর্মী ছিল। যদিও সরকারিভাবে এখনো কোনো গ্রেপ্তার নাম প্রকাশ পায়নি।

৫. এই ঘটনার বিচার হবে কি?

এনসিপি বিচার চাইলেও সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা এখনো অস্পষ্ট।

এনসিপি বিচার চাইলেও সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা এখনো অস্পষ্ট।

Post a Comment

0 Comments