Advertisement

0

ডাকসুর প্রথম সভা প্রমাণিত পরিবর্তনের সূচনা ও সিনেট সদস্য নির্বাচন

 


ডাকসুর প্রথম সভা প্রমাণিত পরিবর্তনের সূচনা ও সিনেট সদস্য নির্বাচন

মেটা ডেসক্রিপশন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসুর প্রথম সভায় ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি সিনেট সদস্য মনোনীত হয়েছেন। জানুন বিস্তারিত কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

ডাকসুর প্রথম সভা প্রমাণিত পরিবর্তনের সূচনা ও সিনেট সদস্য নির্বাচন
ডাকসুর প্রথম সভা



 ডাকসুর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত: শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সূচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সবসময়ই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম প্রতীক। ২০২৫ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুনেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের দপ্তর সংলগ্ন কক্ষে অনুষ্ঠিত হলো কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভা।

সভায় উপস্থাপিত হয় নতুন পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সিনেটে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধির মনোনয়ন।

ডাকসুর ইতিহাস ও প্রমাণিত প্রভাব

ডাকসুর ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবময়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি গণতান্ত্রিক আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই ডাকসুর ভূমিকা প্রমাণিত।

ছাত্র সমাজের কণ্ঠস্বর হিসেবে ডাকসু সবসময় শিক্ষার্থীদের দাবি ও সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছে। তাই ডাকসুর প্রতিটি সভা শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট](https://www.du.ac.bd)

 ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের পটভূমি

২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন ছিল দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হওয়া সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচন।

* ভোটে অংশ নেয় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।* ভিপি নির্বাচিত হন সাদিকায়েম।

* জিএস হিসেবে দায়িত্ব পান এস এম ফরহাদ। * এজিএস পদে বিজয়ী হন মহিউদ্দীন খান।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, এই নির্বাচিত নেতৃত্ব ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

 প্রথম সভায় কারা কারা উপস্থিত ছিলেন?

১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসুর প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন—

* ভিপি সাদিকায়েম  * জিএস এস এম ফরহাদ * এজিএস মহিউদ্দীন খান

 বিভিন্ন বিভাগের নির্বাচিত সদস্য

 বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান

সভাটি অনুষ্ঠিত হয় উপাচার্যের দপ্তর সংলগ্ন কক্ষে।

 উপাচার্যের সভাপতিত্বে কার্যক্রম পরিচালনা

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভার সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন—

 “শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাদের কল্যাণে ডাকসুর ভূমিকা অপরিসীম। আশা করি, নবনির্বাচিত পরিষদ দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে।”

 সিনেট সদস্য নির্বাচনে ৫ ছাত্র প্রতিনিধির নাম ঘোষণা

সভা শেষে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন—

1. সাদিকা কায়েম (ভিপি)

2. এস এম ফরহাদ (জিএস)

3. মহিউদ্দীন খান (এজিএস)

4. সাবিকুন্নাহার তামান্না (সদস্য)

5. আসিফ আবদুল্লাহ (পরিবহন সম্পাদক)

এটি প্রমাণ করে যে, ডাকসুর নেতৃত্ব শুধু কার্যনির্বাহী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও প্রভাবিস্তার করতে সক্ষম।

 ভিপি সাদিকায়েমের বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

সভা শেষে ভিপি সাদিকায়েম বলেন—

“আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ শুরু হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা সমাধান ও তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো।”

তার এই ঘোষণা শিক্ষার্থীদের মাঝে এক নতুন আশা ও আস্থা তৈরি করেছে।

 জিএস এম ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দীনের দায়িত্ব

জিএস এম ফরহাদ বলেন—

 “ডাকসু কেবল সাংগঠনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং একাডেমিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নেও কাজ করবে।”

অন্যদিকে, এজিএস মহিউদ্দীন খান বলেন—

 “ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

 নারী প্রতিনিধি সাবিকুন্নাহার তামান্নার অন্তর্ভুক্তি

ডাকসুর সিনেট সদস্য হিসেবে নারী প্রতিনিধি সাবিকুন্নাহার তামান্নার অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার্থীদের কাছে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

এটি নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য নিয়ে আসবে।

পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহর নির্বাচিত হওয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো পরিবহন সংকট। তাই পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহর সিনেটে অন্তর্ভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শিক্ষার্থীরা আশা করছে, তার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বাস ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয় ঘটবে।

 শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ডাকসুর ভূমিকা

ডাকসুর দায়িত্ব শুধু নির্বাচন বা সভা নয়। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো—

* আবাসন সংকট দূর করা * লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি

* ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা * সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ডাকসু হবে এইসব সমস্যার প্রমাণিত সমাধান করর কেন্দ্রবিন্দু।

 আগামীর করণীয় ও প্রমাণিত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা

আগামী দিনে ডাকসুর সামনে যে করণীয়গুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়—

1. শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক নীতি গ্রহণ

2. গবেষণা ও একাডেমিক উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া

3. সাশ্রয়ী ক্যান্টিন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা

4. সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো

5. ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রমাণিতভাবে শক্তিশালী করা

FAQ Section (প্রশ্নোত্তর)

Q1: ডাকসুর প্রথম সভায় কতজন প্রতিনিধি সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন?

👉 মোট ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি সিনেট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

Q2: ভিপি সাদিকায়েমের প্রধান ঘোষণা কী ছিল?

👉 তিনি জানিয়েছেন যে, আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হবে।

Q3: কেন সিনেটে ডাকসুর প্রতিনিধি থাকা গুরুত্বপূর্ণ?`

👉 কারণ সিনেট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী সংস্থা, যেখানে ছাত্রদের মতামত পৌঁছানো জরুরি।

Q4: ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়?

👉 ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

Q5: শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানে ডাকসু কীভাবে কাজ করবে?

👉 আবাসন, পরিবহন, একাডেমিক সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।


Post a Comment

0 Comments