যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি
মেটা বর্ণনা (Meta Description)
যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। ইসরায়েলের ব্যর্থতা ও গাজার মানবিক সংকটের কারণে নেয়া এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
![]() |
| যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে |
যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: কেন এখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি?
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের মতে, ইসরায়েল গত বছর জুলাইয়ে দেওয়া শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষত গাজার মানবিক সংকট ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি
গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সেনা অভিযানে প্রতিদিনই নিহত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র গত শনিবারই ৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের মতে, খাদ্য, পানি ও ওষুধ সংকট এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাজ্যের সরকার বলছে, এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়।
জাতিসংঘ গাজা সংকট প্রতিবেদন
পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও দুই রাষ্ট্র সমাধান সংকটে
যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ই-ওয়ান প্রকল্প কার্যকর হলে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে বড় বাধা।
হামাস ও জিম্মি ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান
লেবার পার্টি স্পষ্ট করেছে, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা নয়। বরং গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একইসাথে হামাসের হাতে থাকা ৪৮ জন জিম্মির মুক্তির দাবিও জোরালো করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ট্রাম্প্রশাসনের বিরোধিতা
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প্রশাসন শুরু থেকেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করছে। তবে লেবার সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও মানবিক মূল্যবোধই এখন বড় বিষয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সেখানে যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
কত দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে?
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ এখনও এ বিষয়ে দ্বিধান্বিত। যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত ইউরোপের অন্যান্য দেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
উপসংহার
যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত শুধু কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটেই নয়, বরং বৈশ্বিক মানবিক মূল্যবোধেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। গাজা ও পশ্চিম তীরের দীর্ঘদিনের দুঃখকষ্ট লাঘবে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়—আন্তর্জাতিক মহল এই সিদ্ধান্তকে কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে নেয়।
❓ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: কেন যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল?
উত্তর: গাজার মানবিক সংকট, ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা ধ্বংস হওয়ার কারণে যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রশ্ন ২: কত দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
উত্তর: জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রশ্ন ৩: যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী?
উত্তর: ট্রাম্প্রশাসন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করছে এবং যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তে তারা অসন্তুষ্ট।
প্রশ্ন ৪: হামাসের ভূমিকা কীভাবে দেখা হচ্ছে?
উত্তর: যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করেছে যে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা নয়। গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো স্থান থাকবে না।

0 Comments