শনিবার : ১২ই আশ্বিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ : ২৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ : ৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি
বাংলাদেশের জাতিসংঘ ভাষণ: প্রমাণিত সংস্কার, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের আলটিমেট রোডম্যাপ
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে জানালেন বাংলাদেশের মুক্ত ও প্রমাণিত সংস্কার পরিকল্পনা। ফোকাস: নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘেবাংলাদেশের জাতিসংঘ ভাষণ: প্রমাণিত সংস্কার, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের আলটিমেট রোডম্যাপবাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNA) ৮০তম অধিবেশনে বাংলায় দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা দিলেন— আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
ভাষণে তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রমাণিত সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং বলেন, “যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সংস্কার বাস্তবায়নে আর কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না।”
জাতীয় নির্বাচন ও প্রমাণিত সংস্কারের আলটিমেট রোডম্যাপ
বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন যাতে মুক্ত, সুষ্ঠু ও প্রমাণিতভাবে স্বচ্ছ হয়, সেজন্য ইউনূস সরকার ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে।
এই কমিশনগুলো বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন, নারী অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের সুপারিশ দিয়েছে।
আপনি কি জানেন?
এটি প্রথমবার কোনো সরকার নির্বাহী আদেশ চাপিয়ে না দিয়ে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে সংস্কার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রমাণিত গুরুত্ব
৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করে গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন— “এটি এমন এক প্রমাণিত কাঠামো, যা ভবিষ্যতের সব সরকারকে সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করবে।”
জাতিসংঘ অফিসিয়াল বিবৃতি পড়ুন
মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের মুক্ত অবস্থান
ইউনূস তার ভাষণে জানান—
✔ বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছে।
✔ জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন ৩ বছরের জন্য বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে।
✔ অতীতের স্বৈরশাসনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে জাতিসংঘকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংস্কার: জনগণের সম্পদের প্রমাণিত সুরক্ষা
অতীত সরকারের অপব্যবহার ও দুর্নীতির সমালোচনা করে ইউনূস বলেন—
“অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তোলা হয়েছে জনসম্পদ চুরির মাধ্যমে।”
বর্তমান সরকার কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার করছে। এতে করে জনগণের সম্পদ আর কখনো উন্নয়নের নামে আত্মসাৎ হবে না।
বিশ্বব্যাংক রিপোর্ট দেখুন
তরুণ প্রজন্ম: মুক্ত সমাজ পরিবর্তনের চালিকাশক্তি
ইউনূস মনে করেন— তরুণরাই বাংলাদেশকে মুক্ত, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে রূপান্তর করবে।
তাদের জন্য সরকার বিনিয়োগ করছে:
তথ্যপ্রযুক্তি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
নবায়নযোগ্য শক্তি
উদ্যোক্তা উন্নয়ন
লক্ষ্য হলো— তরুণদেরকে প্রমাণিত উদ্যোক্তা ও সমাজ পরিবর্তনের নেতা হিসেবে গড়ে তোলা।
রোহিঙ্গা সংকট: প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমাধান
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউনূস।
তিনি বলেন:
রাখাইন রাজ্যের বৈষম্যমূলক নীতি পরিবর্তন ছাড়া সমাধান অসম্ভব।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।
UNHCR রিপোর্ট পড়ুন
আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রমাণিত টেকসই উন্নয়ন
বাংলাদেশ সম্প্রতি প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে জাতিসংঘের পানি সংক্রান্ত কনভেনশনে যোগ দিয়েছে।
এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা, সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার ও টেকসই উন্নয়নের আলটিমেট রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।
বহুপক্ষীয় কূটনীতি: বিশ্ব শান্তির প্রমাণিত সমাধান
জাতিসংঘের ৮০তম বর্ষপূর্তিতে ড. ইউনূস বলেন—
“বহুপক্ষীয় কূটনীতিই মানবজাতির শেষ ভরসা।”
তিনি আহ্বান জানান স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও একত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
বাংলাদেশ কবে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করছে?
আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রমাণিত সংস্কার কমিশন কয়টি গঠন করা হয়েছে?
মোট ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কী প্রমাণিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
রাখাইন রাজ্যের নীতি পরিবর্তনের আহ্বান, আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয়।
তরুণদের জন্য কী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
তথ্যপ্রযুক্তি, AI, নবায়নযোগ্য শক্তি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সরকার বিনিয়োগ করছে।
কেন বহুপক্ষীয় কূটনীতি অপরিহার্য?
একক রাষ্ট্র কোনো বৈশ্বিক সংকট সমাধান করতে পারে না। বহুপক্ষীয় কূটনীতিই শেষ ভরসা।
0 Comments