Advertisement

0

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘে আহ্বান: সামাজিক ব্যবসা ও তরুণ প্রজন্মই নতুন সভ্যতার স্থপতি

 ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘে আহ্বান: সামাজিক ব্যবসা ও তরুণ প্রজন্মই নতুন সভ্যতার স্থপতি

মেটা ডেসক্রিপশন

জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নতুন সভ্যতার স্থপতি হবে তরুণ প্রজন্ম, আর সামাজিক ব্যবসাই হবে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘে আহ্বান সামাজিক ব্যবসা ও তরুণ প্রজন্মই নতুন সভ্যতার স্থপতি
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস 

ভূমিকা: নতুন সভ্যতা গড়ার ডাক

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া এক প্রভাবশালী বক্তৃতায় বলেছেন, তরুণ প্রজন্মই হবে নতুন সভ্যতার প্রধান স্থপতি। তিনি স্পষ্ট করে দেন—শুধু মুনাফাভিত্তিক অর্থনীতি দিয়ে পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং দরকার সামাজিক ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং যুবসমাজের সৃজনশীলতা, যা একত্রে টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক ন্যায়ের ভিত্তি গড়তে পারে।

সামাজিক ব্যবসা ও নতুন অর্থনৈতিক দর্শন

ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মূলত মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অথচ মানুষের কল্যাণ উপেক্ষিত হচ্ছে। তাঁর প্রস্তাবিত সামাজিক ব্যবসা মডেলাভকে নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনকে প্রধান লক্ষ্য বানায়।

সামাজিক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হলো মানুষ, প্রকৃতি ও টেকসই উন্নয়ন।

এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ক্রীড়ার মতো খাতে ইতিমধ্যেই কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

এক ডলারের মাইক্রোক্রেডিট থেকে শুরু হলেও আজ এটি বৈশ্বিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

👉 বিস্তারিত: Green Bank – Nobel Prize

তরুণ প্রজন্ম: নতুন সভ্যতার স্থপতি

ড. ইউনূস বলেন—“তরুণদের কল্পনা সীমাহীন। তারা শুধু বর্তমানকে দেখে না, বরং ভবিষ্যতকে কল্পনা করতে পারে।”

নতুন সভ্যতা গড়তে তরুণদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করতে হবে।

প্রযুক্তি ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে তারা জলবায়ু পরিবর্তন, বেকারত্ব ও বৈষম্যের মতো সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

তাঁর মতে, যেখানে কল্পনা নেতৃত্ব দেয়, সেখানে উদ্ভাবন অনুসরণ করে।

জাতিসংঘে ড. ইউনূসের সতর্কবার্তা

তিনি বৈশ্বিক সংকটগুলো তুলে ধরেন—

জলবায়ু পরিবর্তনের দাবানল

বৈষম্যের বিস্তার

যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতি

বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি

ড. ইউনূস বলেন, এই সংকটগুলো আলাদা নয়, বরং একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই সমাধানও হতে হবে সমন্বিত ও টেকসই।

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে এগোলেও প্রবল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে—

১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া

জলবায়ু দুর্যোগের ঘনঘন আঘাত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি

তিনি সতর্ক করেন, এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমানো বিপরীত প্রভাব ফেলবে। বরং প্রযুক্তি সহায়তা ও ন্যায্য রূপান্তর জরুরি।

প্রযুক্তি ও সামাজিক ব্যবসার যুগলবন্দি

ড. ইউনূস ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে নতুন অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে দেখছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে বিপ্লব আনতে পারে।

ব্লকচেইন ও IoT: স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি: টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

👉 রেফারেন্স: UN Sustainable Development Goals

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংস্কারের ডাক

ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি মানুষের ওপরে মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই ধারা বদলাতে হবে।

ব্যবসাকে কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং সামাজিক কল্যাণের ইঞ্জিন হিসেবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করতে হবে।

সম্পদের কেন্দ্রীভবন নয়, বরং ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে হবে।

বৈশ্বিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি আরও জোরদার করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতি ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করছে।

বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই কৃষি চালু করা জরুরি।

তরুণদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গি: এক নতুন ভোর

তাঁর বক্তৃতার শেষাংশ ছিল অনুপ্রেরণামূলক—

“চলুন আমরা নতুন এক তরঙ্গের স্থপতি হই, যেটি ন্যায়, টেকসই উন্নয়ন এবং আশার ওপর গড়া এক পৃথিবী।”

তিনি আহ্বান জানান একটি পৃথিবী গড়ার জন্য, যেখানে সামাজিক ব্যবসা, প্রযুক্তি ও তরুণদের সৃজনশীলতা মিলিয়ে মানবজাতির জন্য নতুন ভোর নিয়ে আসবে।

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে কী বিষয়ে বক্তৃতা করেছেন?

👉 তিনি সামাজিক ব্যবসা, তরুণ প্রজন্ম ও প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন।

প্রশ্ন ২: তাঁর মতে নতুন সভ্যতার স্থপতি কারা হবে?

👉 তরুণ প্রজন্ম।

প্রশ্ন ৩: সামাজিক ব্যবসা কী?

👉 এটি এমন একটি ব্যবসা যেখানে মুনাফার পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

প্রশ্ন ৪: তিনি বাংলাদেশের কোন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন?

👉 রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

প্রশ্ন ৫: প্রযুক্তির ভূমিকা কীভাবে দেখছেন তিনি?

👉 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে তিনি টেকসই উন্নয়নের চালিকা শক্তি হিসেবে দেখছেন।

উপসংহার

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ বক্তৃতা শুধু একটি দিকনির্দেশনা নয়, বরং এক নতুন সভ্যতারূপরেখা। তিনি প্রমাণ করেছেন, সামাজিক ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং তরুণ প্রজন্ম একত্রে হলে পৃথিবীকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈষম্যের অন্ধকারের মাঝেও তাঁর আহ্বান মানবতার জন্য এক নতুন ভোরের বার্তা।

👉 সূত্র: United Nations, Nobel Prize, SDGs

Post a Comment

0 Comments