Advertisement

0

ট্রাম্পের নিষেধ অমান্য করে গাজায় ফের হামলা চালাল ইসরায়েল

 ট্রাম্পের নিষেধ অমান্য করে গাজায় ফের হামলা চালাল ইসরায়েল

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে গাজায় ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবারের হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি।

ট্রাম্পের নিষেধ অমান্য করে গাজায় ফের হামলা চালাল ইসরায়েল
 ট্রাম্পের নিষেধ অমান্য করে গাজায় ফের হামলা 

গাজা যেন অবরুদ্ধ মৃত্যুপুরী। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়টি। তিনি ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে গাজায় হামলা বন্ধ রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল তা মানেনি। প্রশ্ন উঠছে—এবার কি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে?

গাজায় নতুন করে সহিংসতা

গাজার সিভিল ডিফেন্সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর থেকে টানা বিমান হামলা ও আর্টিলারি শেলিং চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

পশ্চিম গাজায় এক ড্রোন হামলায় নিহত হন এক ফিলিস্তিনি, আহত হন অনেকেই।

আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে হামলায় দুই শিশু নিহত এবং আটজন আহত হন।

নুসেইরাত ক্যাম্প ও তুফাহ এলাকায় বোমা বর্ষণে নিহত অন্তত পাঁচজন, যাদের মধ্যে একজন কিশোরীও ছিলেন।

আল-মাওয়াসিকে পূর্বে ইসরায়েল “মানবিক নিরাপদ অঞ্চল” ঘোষণা করেছিল। অথচ সেখানেও হামলা চলায় আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে।

ফিলিস্তিনিদের ফেরার পথে গুলি

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজা নগরীর উত্তরে নিজ ঘরে ফেরার চেষ্টা করা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা।

নেতজারিম করিডরের পাশ দিয়ে উত্তরে ফেরার সময় তাদের হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর গাজা এখনো যুদ্ধক্ষেত্র এবং সেখানে ফিলিস্তিনিদের ফেরার অনুমতি নেই।

ট্রাম্পের প্রস্তাব ও ইসরায়েলের অবস্থান

হামাস আংশিকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে হামলা থামাতে বলেছিলেন। তার প্রস্তাবে ছিল:

৭২ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি

বন্দি বিনিময়

হামাসের নিরস্ত্রীকরণ

ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার

তবে এই উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার আগেই ইসরায়েল নতুন হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করছে, গাজায় মানবিক সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

খাবার ও পানির অভাব: অবরুদ্ধ অবস্থায় সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।

চিকিৎসা সংকট: ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে আহতরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেনা।

শিশুদের অবস্থা: UNICEF জানিয়েছে, অবিরাম হামলায় শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপদ অঞ্চলে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

তবুও ইসরায়েল এখনো সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিকূটনীতিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা বলছেন:

ইসরায়েল এখনো মনে করে, সামরিক চাপ ছাড়া হামাসকে দুর্বল করা সম্ভব নয়।

ট্রাম্প রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে চাইলেও ইসরায়েলের ভিন্ন অগ্রাধিকার রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে এই দ্বন্দ্ব সমাধানা হলে নতুন আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ইসরায়েল কেন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাজায় হামলা চালালো?

উত্তর: ইসরায়েল মনে করছে হামাসকে দুর্বল না করলে তারা গাজা থেকে সেনা সরাতে পারবে না। তাই সামরিকৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা।

প্রশ্ন ২: আল-মাওয়াসি এলাকায় হামলা কেন বিতর্ক তৈরি করেছে?

উত্তর: কারণ এটি ছিল ঘোষিত “মানবিক নিরাপদ অঞ্চল”। সেখানে হামলায় শিশু নিহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।

প্রশ্ন ৩: গাজার সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি কেমন?

উত্তর: ভয়াবহ। খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। হামলায় প্রতিদিনই প্রাণহানি ঘটছে।

প্রশ্ন ৪: ট্রাম্পের প্রস্তাবে কী ছিল?

উত্তর: যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার—এই চারটি বিষয় উল্লেখ ছিল।

প্রশ্ন ৫: আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী?

উত্তর: জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়েই যাচ্ছে।

গাজায় নতুন করে রক্তপাত প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা এখন আগের চেয়ে জরুরি। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান যদি উপেক্ষিত হয়, তবে শুধু গাজা নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য আরও গভীর অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত হতে পারে। বিশ্ববাসীর জন্য এখন একটাই বার্তা—মানবতার স্বার্থে যুদ্ধ থামাতে হবে, না হলে বিপর্যয় আরও ভয়াবহ হবে।

Post a Comment

0 Comments