নেইমারকে টপকে বিশ্ব রেকর্ড এখন মেসির আর্জেন্টিনার বিধ্বংসী জয়
নেইমারকে টপকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের বিশ্ব রেকর্ড এখন লিওনেল মেসির। পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ৬-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।
মায়ামির গ্যালারিতে এক সপ্তাহ আগেও ছিলেন দর্শক, আর আজ সেই মেসি মাঠে নেমে ভেঙে দিলেনা নেইমারের বিশ্ব রেকর্ড! ফুটবল বুঝি এমনই—যেখানে কিংবদন্তি কখনও বিশ্রামে থাকে না।
মেসির ছোঁয়ায় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়
ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি মানেই একের পর এক রেকর্ড ভাঙার গল্প। এবার তিনি ছুঁলেন এমন এক উচ্চতা, যা নেইমারের মতো মহাতারকাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের বিশ্ব রেকর্ড এখন মেসির দখলে।
১১ অক্টোবর মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে বিশ্রামে ছিলেন মেসি। কিন্তু ফিরে এসেই যেন ঝড় তুললেন মাঠে—৬-০ ব্যবধানে পুয়ের্তো রিকোকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে ফেললেন ফুটবল জাদুকর।
নেইমারকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি — নতুন বিশ্ব রেকর্ডের গল্প
পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসি গোল করতে না পারলেও দুটি দারুণ অ্যাসিস্ট করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর মোট অ্যাসিস্ট দাঁড়াল ৬০টি — যা নেইমারের ৫৯ অ্যাসিস্টকে পেছনে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টধারীদের তালিকা
অবস্থান ফুটবলার দেশ অ্যাসিস্ট
১ লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা ৬০
২ নেইমার ব্রাজিল ৫৯
৩ ল্যান্ডন ডোনোভন যুক্তরাষ্ট্র ৫৮
৪ ফ্রেঙ্ক পুসকাস হাঙ্গেরি ৫৩
৫ কেভিন ডি ব্রুইন বেলজিয়াম ৫৩
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, ৩৭ বছর বয়সেও মেসির খেলার ধার, নিখুঁত ভিশন এবং পাসের নিপুণতা একটুও কমেনি।
পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিধ্বংসী জয়
বাংলাদেশ সময় ভোরে মায়ামির চেজ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও পুয়ের্তো রিকো। শুরু থেকেই দাপট দেখায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
প্রথমার্ধেই ম্যাচ শেষ
১৪ মিনিটে প্রথম গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, সহায়তা করেনিকোলাস গঞ্জালেস।
২২ মিনিটে মেসির উড়ন্ত পাস থেকে গঞ্জালো মন্তিয়েলের গোল।
৩৬ মিনিটে হোসে লোপেজের অ্যাসিস্টে দ্বিতীয়বার স্কোরশিটে নাম লেখান ম্যাক অ্যালিস্টার।
হাফটাইমে স্কোরলাইন: আর্জেন্টিনা ৩-০ পুয়ের্তো রিকো।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলবন্যা
৬৪ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন পুয়ের্তো রিকোর স্টিভেন এচেভেরিয়া।
৭৯ ও ৮৪ মিনিটে জোড়া গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।
শেষ গোলটিতে মেসির অ্যাসিস্ট—যেটিই তাঁর বিশ্ব রেকর্ড গড়া অ্যাসিস্ট।
ফাইনাল স্কোর: আর্জেন্টিনা ৬-০ পুয়ের্তো রিকো।
মেসির রেকর্ডের তাৎপর্য – শুধু সংখ্যা নয়, উত্তরাধিকারের প্রমাণ
লিওনেল মেসির এই রেকর্ড শুধুই পরিসংখ্যান নয়, এটি তাঁর ফুটবল মস্তিষ্ক ও নেতৃত্বের প্রতীক।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
“মেসি শুধু গোলদাতা নন, তিনি সৃজনশীলতার প্রতীক। বল পায়ের কাছে এলেই নতুন কিছুর জন্ম হয়।”
নেইমারের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারকেও ছাড়িয়ে যাওয়া প্রমাণ করে, মেসি এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে প্রভাবশালী প্লেমেকার।
আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক সাফল্য – বিশ্বকাপের পথে অপ্রতিরোধ্য
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ইতোমধ্যেই টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
১৮ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট, শীর্ষে সমাপ্তি।
গত দুই প্রীতি ম্যাচেও জয় (ভেনেজুয়েলাকে ১-০, পুয়ের্তো রিকোকে ৬-০)।
মেসি, মার্তিনেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, গঞ্জালেস—এই চারজনের সমন্বয়ে গড়া দলের আক্রমণভাগ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ – কেন মেসির অ্যাসিস্ট এত গুরুত্বপূর্ণ
নিখুঁত পাসের শিল্প
মেসির পাস মানেই গোলের সুযোগ। তিনি বলটি এমনভাবে দেন, যাতে সহখেলোয়াড় শুধু স্পর্শ করলেই হয়।
মাঠ পড়ার ক্ষমতা
মেসি বুঝে ফেলেন কখন কোথায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে।
একজন প্লেমেকার হিসেবে তাঁর “ভিশন অফ দ্য গেম” তুলনাহীন।
অ্যাসিস্ট মানে দলকে খেলার মধ্যে রাখা। মেসি জানেন, গোলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলীয় জয়।
![]() |
| “আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা মেসির নেতৃত্বে গোল উদযাপন করছেন নেইমারকে ছাড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ডের রাতে।” |
“লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করার পর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করছেন — মেসি বিশ্ব রেকর্ড অ্যাসিস্ট ৬০।”
অতীতের রেকর্ড ও তুলনা
নেইমার (৫৯ অ্যাসিস্ট): ব্রাজিলের হয়ে দারুণ প্লেমেকার হলেও চোট ও অনিয়মিত খেলার কারণে থেমে গেছে তাঁর অগ্রযাত্রা।
ডোনোভন (৫৮ অ্যাসিস্ট): যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি, যিনি উত্তর আমেরিকান ফুটবলের প্রতীক।
পুসকাস (৫৩ অ্যাসিস্ট): ১৯৫০-এর দশকে ইউরোপীয় ফুটবলের জাদুকর।
ডি ব্রুইন (৫৩ অ্যাসিস্ট): আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা পাসার, তবে জাতীয় দলের ম্যাচ সংখ্যা কম।
এই তুলনায় মেসির ধারাবাহিকতা একেবারেই অনন্য।
মেসির ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রেকর্ডসমূহ
রেকর্ড সংখ্যা
আন্তর্জাতিক গোল ১০৮
আন্তর্জাতিক অ্যাসিস্ট ৬০
আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১৮০+
বিশ্বকাপ গোল ১৩
কোপা আমেরিকা জয় ২
ব্যালন ডি’অর ৮
প্রশ্নোত্তর (Q&A)
❓ প্রশ্ন ১: মেসি কি এখনও জাতীয় দলে খেলছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মেসি এখনও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে সক্রিয়ভাবে খেলছেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
❓ প্রশ্ন ২: নেইমার কি আবারেকর্ডটি ফিরে পেতে পারেন?
উত্তর: সম্ভব, তবে চোট ও খেলার অনিয়মিততার কারণে তা কঠিন।
❓ প্রশ্ন ৩: মেসির অ্যাসিস্ট কেন এত মূল্যবান?
উত্তর: কারণ তাঁর প্রতিটি অ্যাসিস্টই গোল নিশ্চিত করে এবং খেলার ফলাফল পরিবর্তন করে দেয়।
❓ প্রশ্ন ৪: এই রেকর্ড কি ফিফা দ্বারা স্বীকৃত?
উত্তর: হ্যাঁ, ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই রেকর্ডটি বৈধ।
মেসির উত্তরাধিকার আরও দৃঢ় হলো
লিওনেল মেসির নাম এখন কেবল গোলস্কোরারের তালিকায় নয়, বরং বিশ্বের সেরা প্লেমেকারদের শীর্ষে।
নেইমারকে ছাড়িয়ে তিনি দেখালেন, বয়স শুধু সংখ্যা—দক্ষতা ও দৃঢ়তা থাকলে ইতিহাস লেখা যায় যেকোনো বয়সেই।
এই ম্যাচে শুধু রেকর্ডই হয়নি, ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এক নতুন অধ্যায়:
“মেসি মানে অনুপ্রেরণা, মেসি মানে ফুটবলের কবিতা।”
⚽ আপনি কি মনে করেন মেসির এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে? নিচে কমেন্টে আপনার মতামত জানান!
👉 আরও ফুটবল বিশ্লেষণ ও এক্সক্লুসিভ আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের স্পোর্টস ব্লগে।


0 Comments