Advertisement

0

এবতেদায়ী শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে আহত বহু শিক্ষক

 




এবতেদায়ী শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে আহত বহু শিক্ষক

জাতীয়করণের দাবিতে এবতেদায়ী শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় অন্তত ৩০ শিক্ষক আহত হয়েছেন।

ঢাকা, বুধবার — জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সচিবালয়ের দিকে যাত্রা করা এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিক্ষোভ মিছিল বুধবার দুপুরে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। দাবি ছিল—সব এবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ এবং এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই পুলিশের জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় শতাধিক শিক্ষক।

এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে আহত শিক্ষক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ছবি

এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে আহত শিক্ষক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ছবি

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের ‘অতর্কিত’ হামলায় অন্তত ৩০–৩৫ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে মেডিকেলে নেওয়া হলেও চিকিৎসা দিতে দেরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।

আন্দোলনের পটভূমি এবতেদায়ী মাদ্রাসার অবস্থান বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে ইসলামিক শিক্ষা চালু রাখা এবতেদায়ী মাদ্রাসা এখনো জাতীয়করণের বাইরে। প্রায় তিন দশক ধরে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকরা সরকারি বেতন ও সুবিধাবঞ্চিত থেকে আসছেন।

দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের ব্যানারে শিক্ষকরা গত ১৩ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের মূল দাবি—চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারির ঘোষণামতে দ্রুত জাতীয়করণ বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্তি এবং প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি।

কাজী মোখলেছুর রহমান, সংগঠনের চেয়ারম্যান, বলেন,

“আমরা শান্তিপূর্ণ ভুখা মিছিল করছিলাম। কিন্তু বিগত সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী—পেটোয়া পুলিশ বাহিনী আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে আমাদের অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন।”

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: মুহূর্তের বিবরণ ঘটনার সময় ও স্থান বুধবার দুপুর ১টার দিকে প্রেস ক্লাব থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয় শিক্ষকরা। সচিবালয়ের পঞ্চম গ্রেডের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের মিছিল আটকায়। কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় জলকামান ছোড়া ও সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ।

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ মিছিলের সামনের সারিতে থাকা শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন,

“আমরা শুধু দাবি জানাতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পুলিশ জলকামান ছোড়ে, কান ফাটানো শব্দে গ্রেনেড ফাটে। শিক্ষকরা দিকহারা হয়ে পড়েন।”

আহত ও গ্রেপ্তার শিক্ষক সংগঠনের তথ্যমতে, অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, “বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেছিল, তাই তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।”

শিক্ষকদের মূল দাবিগুলো আন্দোলনকারীরা পাঁচটি প্রধান দাবিতে একত্র হয়েছেন:

জাতীয়করণের ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়ন।

১,০৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল দ্রুত অনুমোদন।

অনুদানবিহীন স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোর এমপিও আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি।

প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি ও শিক্ষক নিয়োগ।

এবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন।

এই ঘটনার তাৎপর্য শিক্ষাখাতে অবহেলা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করায় শিক্ষা খাতে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য না পাওয়ায় এই ক্ষোভ জমে উঠেছে।

শিক্ষা বিশ্লেষক অধ্যাপক শফিউল আলম বলেন,

“যখন শিক্ষককে রাস্তায় নামতে হয়, সেটি শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়—এটি নীতিগত ব্যর্থতা। সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

আইন ও নৈতিক প্রশ্ন শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে সমালোচনা উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, শিক্ষা খাতের আন্দোলনে ‘জলকামান বা গ্রেনেড’ ব্যবহার একেবারেই অনুপযুক্ত ও আতঙ্কজনক।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় শিক্ষকরা কোরআন হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন, এরপর হঠাৎই জলকামানে ভিজে যাচ্ছেন সবাই। অনেকেই লিখেছেন—

“যারা আমাদের সন্তানদের অক্ষর শেখান, তাদের ওপর জল ছুড়ে দেওয়া লজ্জার।”

সরকারের অবস্থান কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয়করণের ফাইল এখন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে রয়েছে। তিনি বলেন,

“প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা ঠিক নয়।”

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর আর আস্থা রাখতে পারছেনা।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ শিক্ষকদের প্রতি এমন আচরণ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও নজর কাড়ছে। 

US News ও Reuters এক প্রতিবেদনে বলা হয়,

“Bangladesh’s religious primary school teachers clashed with police while demanding government recognition, highlighting the country’s education inequality.”

সম্ভাব্য সমাধান ও ভবিষ্যৎ সংলাপই একমাত্র পথ বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ও শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে সরাসরি সংলাপ শুরু করলেই পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে।

শিক্ষা-সামাজিক অন্তর্ভুক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং শিক্ষকদের সম্মানজনক জীবনমানিশ্চিত করাই টেকসই সমাধান।

 এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষা খাতের অবহেলা কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে। রাষ্ট্র যখন শিক্ষকদের দাবি শুনতে ব্যর্থ হয়, তখন রাস্তাই হয়ে ওঠে তাদের শেষ ভরসা।

 আপনি যদি শিক্ষা খাতের উন্নয়ন চান, তাহলে:

বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা ছড়ান,

সোশ্যাল মিডিয়ায় শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান,

স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন তুলুন—“শিক্ষকরা কেন এখনো রাস্তায়?”

 প্রশ্ন ১: এবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ মানে কী? 

জাতীয়করণ মানে মাদ্রাসাগুলো সরকারি তত্ত্বাবধানে আনা, যাতে শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন ও সুবিধা পান এবং শিক্ষা কার্যক্রম একীভূত হয়।

প্রশ্ন ২: পুলিশের হস্তক্ষেপে কতজন আহত হয়েছেন? 

আন্দোলনকারীদের দাবি, অন্তত ৩০–৩৫ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন।

প্রশ্ন ৩: সরকারের প্রতিক্রিয়া কী? 

সরকার বলেছে, জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে, তবে আন্দোলন স্থগিত রেখে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন ৪: শিক্ষকরা পরবর্তী কর্মসূচি কী ঘোষণা করেছেন?

 তারা জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে এবং ঘোষণা না এলে তারা দেশব্যাপী কর্মবিরতি আহ্বান করবেন।

প্রশ্ন ৫: এই আন্দোলন কি শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে?

 সম্ভাবনা প্রবল। কারণ এটি ধর্মীয় শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির দাবি নতুনভাবে সামনে এনেছে।

Post a Comment

0 Comments