Advertisement

0

২০২৫ সালের পদার্থে চূড়ান্ত নোবেল পেলেন কোয়ান্টাম ত্রয়ী প্রমাণিত

 

আজ মঙ্গলবার, ২২ই আশ্বিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৭ই অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

২০২৫ সালের পদার্থে চূড়ান্ত নোবেল পেলেন কোয়ান্টাম ত্রয়ী প্রমাণিত

২০২৫ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরেট ও জন মার্টিনিস। কোয়ান্টাম টানেলিং ও এনার্জি কোয়ান্টাইজেশনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার, ২২ই আশ্বিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৭ই অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরেট ও জন মার্টিনিস পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন— কোয়ান্টাম টানেলিং ও এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন গবেষণার জন্য।

পদার্থবিজ্ঞানের জগতে ইতিহাস তৈরি হলো ২০২৫ সালে। এ বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিজ্ঞানী— জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরেট এবং জন মার্টিনিস। তাদের যুগান্তকারী গবেষণা ম্যাক্রোস্কোপিকোয়ান্টামেকানিক্যাল টানেলিং এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞানের ধারণাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানায়, তাদের এই গবেষণা “কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার বাস্তব প্রয়োগের দ্বার খুলে দিয়েছে”— যা ভবিষ্যতের কম্পিউটিং, শক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভিত্তি হতে পারে।

নোবেল কমিটির ঘোষণা: কোয়ান্টাম যুগের দরজা খুলে গেল

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি তিন মার্কিন গবেষককে ২০২৫ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে।

একাডেমির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:

“তাদের আবিষ্কার কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার সীমাকে প্রসারিত করেছে এবং বাস্তব জগতের সাথে কোয়ান্টাম বিশ্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।”

এই বক্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সম্ভাবনার ইঙ্গিত— যেখানে কোয়ান্টামেকানিক্স আর কেবল ক্ষুদ্র কণার জগতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মানব জীবনের প্রতিটি প্রেক্ষাপটে যুক্ত হবে।

তিন বিজ্ঞানীর অবদান: বাস্তব সার্কিটে কোয়ান্টাম আচরণ

জন ক্লার্ক: কোয়ান্টাম টানেলিংয়ের অগ্রদূত

জন ক্লার্ক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সুপারকন্ডাকটিভ সার্কিট নিয়ে। তার গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অবস্থায় একটি ইলেকট্রন বা কণা দেওয়ালের মধ্য দিয়ে ‘টানেল’ করে যেতে পারে, যা আগে শুধুই তত্ত্ব হিসেবে বিবেচিত হতো।

এই ঘটনাকে বলা হয় Quantum Tunneling— যা এখন কোয়ান্টাম কম্পিউটারের প্রাথমিক ভিত্তি।

মিশেল দেভোরেট: ইলেকট্রিক সার্কিটে কোয়ান্টাম দোলন

দেভোরেট দেখিয়েছেন, ইলেকট্রিক সার্কিটও ক্ষুদ্র কোয়ান্টাম সিস্টেমের মতো আচরণ করতে পারে। অর্থাৎ, এটি নির্দিষ্ট কোয়ান্টাইজড এনার্জি স্তর শোষণ ও নির্গত করে, যেভাবে একটি পরমাণু করে থাকে।

জন মার্টিনিস: কোয়ান্টাম ডিভাইসকে বাস্তবে রূপদান

মার্টিনিসেই তাত্ত্বিক ধারণাগুলোকে বাস্তব ডিভাইসে রূপ দিয়েছেন। তার নির্মিত সুপারকন্ডাক্টিং কিউবিট সার্কিট আজকের আধুনিকোয়ান্টাম কম্পিউটারের অন্যতম মূল উপাদান।

কোয়ান্টামেকানিক্স: অদ্ভুত কিন্তু বাস্তব

 কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?

মানব সমাজ আজ যে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দোরগোড়ায়— তার পেছনে কোয়ান্টাম তত্ত্বের অবদান অপরিসীম। কিন্তু এতদিন এটি ছিল অণু-পরমাণুর জগতে সীমাবদ্ধ।

এই তিন বিজ্ঞানীর কাজ প্রমাণ করেছে— কোয়ান্টাম আচরণকে বৃহদাকার সিস্টেমেও প্রয়োগ করা যায়। অর্থাৎ, “ক্ষুদ্র জগতের নিয়ম” এখন বড় মাপের বৈদ্যুতিক সার্কিটেও কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখানেই শুরু

প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ড. এলিজাবেথ ক্রাউন বলেন—

“এটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি ভবিষ্যতের কম্পিউটিংয়ের নীলনকশা। তাদের কাজ ছাড়া কোয়ান্টাম কম্পিউটার কখনও সম্ভব হতো না।”

বিশ্লেষকদের মতে, এ আবিষ্কার আগামী দশকের মধ্যে কোয়ান্টাম যোগাযোগ, নিরাপদ এনক্রিপশন এবং অতিদ্রুত তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাবে।

পুরস্কার ও মূল্যমান

পুরস্কার অর্থ: ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার

বিজয়ীর সংখ্যা: ৩ জন

পুরস্কার প্রদান: ১০ ডিসেম্বর, স্টকহোমে

অনুষ্ঠান উপলক্ষ: আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী

পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ভিন্নতা

গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল গিয়েছিল মেশিন লার্নিং ও নিউরাল নেটওয়ার্ক উদ্ভাবকদের হাতে— জন জে হপফিল্ড ও জেওফ্রে ই হিন্টন।

কিন্তু এ বছর পুরস্কারটি তত্ত্ব থেকে বাস্তবে— “ফিজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং” পর্যায়ে চলে এসেছে, যা বিজ্ঞানচর্চার দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ব্যবহার ক্ষেত্র

কোয়ান্টাম কম্পিউটার: অসীম তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা

কোয়ান্টাম সেন্সর: অতিসংবেদনশীল মাপযন্ত্র

কোয়ান্টাম যোগাযোগ: হ্যাক-প্রুফ ডেটা ট্রান্সমিশন

কোয়ান্টাম ইলেকট্রনিক্স: ভবিষ্যতের স্মার্ট সার্কিট প্রযুক্তি

পাঠকের জন্য জানুন: Quantum Tunneling কীভাবে কাজ করে

একটি বল কল্পনা করুন, যা পাহাড়ের এক পাশে আটকে আছে। সাধারণভাবে এটি দেয়াল পেরোতে পারবে না। কিন্তু কোয়ান্টাম স্তরে কণাগুলো এমনভাবে আচরণ করে যেন দেয়াল পেরিয়ে অন্য পাশে চলে যায়, শক্তি হারানো ছাড়াই।

এই অদ্ভুত আচরণই “Quantum Tunneling”— যা এখন বাস্তব যন্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নোবেল পুরস্কারের ধারা ও সময়সূচি

বিভাগ তারিখ বিষয়

চিকিৎসা ৬ অক্টোবর মানব জিন গবেষণা

পদার্থ ৭ অক্টোবর কোয়ান্টাম টানেলিং

রসায়ন ৮ অক্টোবর আসন্ন ঘোষণা

সাহিত্য ৯ অক্টোবর নির্ধারিত

শান্তি ১০ অক্টোবর আসন্ন

অর্থনীতি ১৩ অক্টোবর চূড়ান্ত ঘোষণা

ASK: পাঠকের প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: কোয়ান্টামেকানিক্যাল টানেলিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: এটি পদার্থের মৌলিক সীমা ভেঙে দেয়। এর মাধ্যমে শক্তি ও তথ্য নতুনভাবে পরিবাহিত হতে পারে।

প্রশ্ন ২: এই আবিষ্কারের বাস্তব প্রয়োগ কী?

উত্তর: কোয়ান্টাম কম্পিউটার, নিরাপদ যোগাযোগ, ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তিতে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

প্রশ্ন ৩: পুরস্কার অর্থ কত?

উত্তর: মোট ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার তিনজনের মধ্যে ভাগ হবে।

কোয়ান্টাম বাস্তবতার নতুন অধ্যায়

২০২৫ সালের পদার্থে নোবেল পুরস্কার শুধু তিনজন বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি নয়, বরং মানবজাতির প্রযুক্তিগত যাত্রার এক নতুন দিগন্ত।

তাদের আবিষ্কার প্রমাণ করেছে— কোয়ান্টামেকানিক্স কেবল তত্ত্ব নয়, বাস্তবের অংশও হতে পারে।

 মূল টেকওয়ে: ভবিষ্যতের প্রতিটি কম্পিউটার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শক্তি প্রযুক্তির ভিত গড়ে উঠছে আজকের এই আবিষ্কারের ওপর।





Post a Comment

0 Comments