আজ শনিবার ১০রা কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি
উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ফেসবুকে অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জ্বালানি উপদেষ্টার
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ফেসবুকে লিখেছেন—“অধ্যাদেশ দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে।” বিস্তারিত এক্সপ্লোর করুন।
সময়ের সবচেয়ে জরুরি রাজনৈতিক আলোচনা: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা। বিশেষ করে
জ্বালানি উপদেষ্টা ফেসবুকে পোস্ট করছেন, যেখানে তিনি উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জানিয়েছেন — বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রতীকী ছবি। |
যিনি একই সঙ্গে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সামাজিক মিডিয়ায় একজন শক্তিশালী হুক দিলেন তাঁর অবস্থানিয়ে। তিনি জানিয়েছেন, “প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন রাজনৈতিক দলের বৈঠকে আমার নামও একটি তালিকায় আছে”—এতে স্পষ্ট হয় যে উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা শুধুই সংবাদ নয়, বরং রাজনৈতিক ভাঙন ও বিতর্কের সীমানায় রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাক তিনি কী বলছেন, কেন বলছেন এবং এ সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হতে পারে।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের বক্তব্য
তিনি নিজেই বলছেন, “একটি দলের তালিকায় আমার নামও আছে” — যা স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
তিনি দাবি করেছেন, “আমি পক্ষপাতদুষ্ট চিন্তা করতে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভ্যস্ত নই। সবসময় কোনো অনুরাগ–বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি বলছেন, যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে—তাই নিষ্পত্তি করা জরুরি।
তিনি একটি বিশেষ প্রস্তাব দিচ্ছেন:
“অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টাবৃন্দ, বিশেষ সহকারীবৃন্দ এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত সকল কর্মকর্তারা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের (যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন) কোনো লাভজনক পদে অংশ নিতে পারবেনা।”
সঙ্গে শর্ত দিয়েছেন—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যারা পদত্যাগ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
কেন এই পদক্ষেপ জরুরি মনে করছেন?
রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই বলেন, ‘উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নেই’—যাতে কার্যক্ষম সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
উপদেষ্টারা দায়িত্বে থাকাকালীনির্বাচিত হওয়ার আগের অবস্থান যদি সংকেত দেয়—সেক্ষেত্রে জনগণের আস্থা নষ্ট হতে পারে।
এ-রূপ অধ্যাদেশ যদি দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি উপদেষ্টাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এক ধরণের “স্বরূপ দায়িত্ববোধ ও পরিষ্কারতার চুক্তি” হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচন ও নির্বাচনের আগে সরে আসা সরকারের ভূমিকায় ব্যাপক মনোযোগ রয়েছে।
একটি অন্তর্বর্তী সরকার বা উপদেষ্টা পরিষদ যদি নিরপেক্ষতার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন হয়—তাহলে সেটি সরকারের স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য সংকেত হতে পারে।
এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে যখন তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ উত্থাপিত হয়েছে।
প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ
একটি অধ্যাদেশ জারি করার পরিকল্পনা আইনগতভাবে শক্তিশালী—এটি উপদেষ্টাদের পরবর্তীভাবে লাভজনক পদ ছেড়ে দিয়ে নিরপেক্ষ থাকতে উৎসাহিত করবে।
তবে এটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে: কী ভাবে “লাভজনক পদ” সংজ্ঞায়িত হবে? মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী নিয়ম বা আইন কি এই ধরনের শাসন দেয়?
পাশাপাশি, শর্তটি—“নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে বিধান প্রয়োগ হবে না”—এই শর্তটি প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে।
ইতিবাচক দিকগুলো
উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতার স্বার্থে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিকার হতে পারে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দিতে পারে।
ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনমত ও গণমাধ্যমের দৃষ্টিকোণ উন্নত হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক
আইন-বিধিতে শিথিলতা বা স্পষ্টতা না থাকলে উদ্ভব হতে পারে আইনি জটিলতা।
উপদেষ্টাদের উদ্যোগ বা সংশ্লিষ্টদের দ্বারা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে—“আমরা সীমাবদ্ধ হচ্ছি” বা “আমার ক্যারিয়ার বিপন্ন হবে” এমন ভাবনায়।
রাজনৈতিক দল বা দায়িত্বশীলরা হয়তো এটিকে বাধা বা বিরোধিত হিসেবে দেখবে—বিশেষ করে যদি উপদেষ্টা-সচিবা উপদেষ্টার পদ দিয়ে লোভ-রূপ দেওয়া হয়।
উদাহরণ ও তুলনায় দেখা যায়
অনেকে হয়তো বলবেন—“এটাই প্রথম নয়।” বিভিন্ন দেশে এমন নিয়ম রয়েছে যাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা নির্বাচনের পর লাভজনক সরকারী পদে অংশ নিতে পারেনা। উদাহরণস্বরূপ:
কোনো দেশ-আঞ্চলে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার অথবা পদ না নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
উন্নয়নের খাতে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য “পুনরায় নিয়োগ না হওয়া” বা “ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পদে না যাওয়ার” ধারা থাকছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেমন উপদেষ্টা নিজেই বলছেন—“পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেনা”।
ব্যতিক্রম ও পূর্ববর্তী ঘটনারেফারেন্স
ইতিমধ্যে দেশেরাজনৈতিক দলগুলো উপদেষ্টাদের মনসংযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল—“নিরপেক্ষ না হলে সরকারী সিদ্ধান্ত কি সত্যিকার প্রতিনিধিত্ব করবে?” এমন প্রশ্ন উঠেছে।
একাধিক গণমাধ্যম এটি চিহ্নিত করেছে যে—উপদেষ্টাদের মাঝে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় আসছে, এবং সেটা ‘নিরপেক্ষতা’ বা ‘পক্ষপাতহীনতা’র ধারণার প্রতি আস্থা কমাচ্ছে।
সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ
উপসংহারে বলা যায়, এই প্রস্তাবটি নিরপেক্ষতা, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর প্রচেষ্টা। উপদেষ্টাদের ওপর যেসব প্রশ্ন উঠেছে—তাতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে gesetzlichen (আইনগত) ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুপারিশগুলো হলো:
অতিসত্বর একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়ন: যে নিয়োগপ্রাপ্ত‐উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করবে তার নিয়োজক-সরকার সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষ সবাই মিলিতভাবে মূল্যায়ন করবে।
অধিকার/দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে—“লাভজনক পদ” কী সংজ্ঞায়িত হবে, কারা এতে অন্তর্ভুক্ত, শর্ত কি।
সময়সাপেক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে—নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে পদত্যাগ করার শর্ত কোথায় কোথায় প্রয়োজ্য সে বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা।
জনমত ও গণমাধ্যমের সাথে অবিরাম যোগাযোগ রাখা জরুরি—বর্তমানে উপদেষ্টা নিজেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, যা ছিল “তৎপর প্রতিক্রিয়া”।
পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্পষ্টতা ও আস্থা রাখতে হবে—উপদেষ্টাদের ভবিষ্যৎ নিয়োগ-চাকরি প্রসঙ্গ সম্পর্কে জনগণ যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।
আপনি কী মনে করছেন—এই প্রস্তাব যথেষ্ট কিনা? আপনি কি মনে করেন উপদেষ্টাদের জন্য এমন নিয়ম থাকা বাঞ্ছনীয় কি না? কমেন্ট করে জানান এবং এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন যাতে আরও অনেকে এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
Q1: এই অধ্যাদেশ কেন জরুরি?
A1: কারণ অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে—তাদের নিরপেক্ষতা কতটা নিশ্চিত, পক্ষপাত নেই কি না। উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন তার নাম তালিকায় রয়েছে।
Q2: “লাভজনক পদ” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
A2: এখানে এমন কোনো সরকারি অথবা সেবামূলক পদ বোঝানো হয়েছে যা নির্বাচিত সরকারের অংশীদারদের জন্য প্রফিট বা সুযোগ হতে পারে। উপদেষ্টা বলেছেন—“পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কোনো লাভজনক পদে কেউই অংশ নিতে পারবেনা।”
Q3: এই প্রস্তাব প্রয়োগ হলে কি পরবর্তী নির্বাচন আরও নিরপেক্ষ হবে?
A3: সম্ভাবনা রয়েছে—যদি আইন কার্যকর হয় এবং নিয়োগ/চলাচল স্বচ্ছ হয়, তাহলে জনমতের দৃষ্টিতে নির্বাচনের প্রকৃতি ও দায়িত্ববোধে ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে। তবে শুধু অধ্যাদেশেই সবকিছু সুরক্ষিত হবে না—বাস্তবায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Q4: প্রস্তাবনায় কোন শর্ত দেওয়া হয়েছে?
A4: হ্যাঁ—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যারা অন্তর্বর্তী সরকারের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রয়োগ হবে না।
Referance - Dhaka Mail , The Daily Stefan, The Business Standard,
0 Comments