আজ সোমবার ২৫রা কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ নভেম্বার ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পরীক্ষায় নতুনিয়ম: বড় পরিবর্তন ২০২৫ থেকে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পরীক্ষার কাঠামো বদল! এখন থেকে ফাইনাল পরীক্ষায় ৮০% নম্বর, ধারাবাহিক মূল্যায়নে ২০%। জেনে নিন নতুনিয়মের বিস্তারিত।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন: নতুনিয়মে কী থাকছে?
লেখক: সিনিয়র কনটেন্ট ক্রিয়েটর, Dhaka News | তারিখ: ১০ নভেম্বর ২০২৫
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরীক্ষানীতি প্রকাশিত—শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ফাইনাল পরীক্ষার নতুন অনুপাত ঘোষণা!
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University) এবার তাদের স্নাতক (সম্মান) প্রগ্রামের পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই পরিবর্তন ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হবে।
এটি শুধু নিয়ম পরিবর্তন নয়, বরং মূল্যায়ন কাঠামো ও প্রশ্নের ধরনে একটি যুগান্তকারী সংস্কার।
কেন পরিবর্তন আনল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রতি বছর প্রায় **২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী** স্নাতক, মাস্টার্স ও অনার্স কোর্সে ভর্তি থাকে। এত বিশাল পরিসরে একক মানদণ্ডে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষায় —
“এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই ও পরীক্ষার মান উন্নয়ন।”
নতুন পরীক্ষার কাঠামো: কীভাবে বদলেছে নম্বর ও সময়?
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে তত্ত্বীয় (Theoretical) কোর্সের পূর্ণমান ও প্রশ্নের কাঠামো নিচের মতো হবে
| কোর্সের ক্রেডিট | প্রশ্ন সংখ্যা | উত্তর দিতে হবে | পূর্ণমান | সময় |
| --------------- | ------------- | -------------- | -------- | ------- |
| ৪ ক্রেডিট | ১২টি প্রশ্ন | ৮টি প্রশ্ন | ৮০ নম্বর | ৪ ঘণ্টা |
| ৩ ক্রেডিট | ৯টি প্রশ্ন | ৬টি প্রশ্ন | ৬০ নম্বর | ৩ ঘণ্টা |
| ২ ক্রেডিট | ৬টি প্রশ্ন | ৪টি প্রশ্ন | ৪০ নম্বর | ২ ঘণ্টা |
প্রয়োজনে প্রতিটি প্রশ্নে সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্ন (ক, খ, গ / a, b, c) থাকতে পারবে।
ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment) এখন বাধ্যতামূলক
নতুনিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি তত্ত্বীয় কোর্সে মোট ২০% নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত হবে।
অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ: শিক্ষার্থীর পাঠ্যবিষয়ের প্রয়োগ দক্ষতা যাচাই
ক্লাস উপস্থিতি: নিয়মিত অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা
ইন-কোর্স পরীক্ষা: ধারাবাহিক মূল্যায়নের মূল ভিত্তি
ক্রেডিটভেদে নম্বর বিভাজন
| কোর্সের ক্রেডিট | অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ | উপস্থিতি | ইন-কোর্স পরীক্ষা | মোট নম্বর |
| --------------- | -------------------- | -------- | ---------------- | --------- |
| ৪ ক্রেডিট | ৫ | ৫ | ১০ | ২০ |
| ৩ ক্রেডিট | ৪ | ৩ | ৮ | ১৫ |
| ২ ক্রেডিট | ৩ | ২ | ৫ | ১০ |
ব্যবহারিক (Practical) কোর্সের নিয়ম অপরিবর্তিত
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
“ব্যবহারিকোর্সের মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিলেবাস অনুযায়ী পরিচালিত হবে।”
অর্থাৎ, ল্যাবরেটরি, ফিল্ডওয়ার্ক বা প্রজেক্টভিত্তিক বিষয়গুলোর জন্য পূর্বের নিয়মই বহাল থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত — এটি কি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক?
শিক্ষাবিদ ও পরীক্ষানীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের চাপ কমাবে এবং নিরবচ্ছিন্ন শেখার পরিবেশ তৈরি করবে।
সুবিধাগুলো
* পরীক্ষার একদিনের ওপর নির্ভরতা কমবে
* ক্লাসে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ বাড়বে
* ধারাবাহিক মূল্যায়নের কারণে শিক্ষকের সক্রিয় ভূমিকা বৃদ্ধি পাবে
* আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে
কলেজগুলোর শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে
ধারাবাহিক মূল্যায়নের মানদণ্ডে একরূপতা বজায় রাখা কঠিন
ইন-কোর্স পরীক্ষার ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে শক্ত মনিটরিং দরকার
আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা
বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন — University of London, University of Melbourne, বা Delhi University, ইতিমধ্যেই ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত সেই ধারারই একটি উন্নত প্রয়াস, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বাস্তবভিত্তিক করে তুলবে।
শিক্ষার্থীরা কী ভাবছে?
ঢাকার একটি সরকারি কলেজের ছাত্র মো. রায়হান বলেন,
“আগে শুধু ফাইনাল পরীক্ষার সময় পড়তাম, এখন নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু এতে শেখা সত্যিই বাড়বে।”
অন্যদিকে এক শিক্ষার্থী উদ্বেগ জানিয়ে বলেন,
“সব কলেজে ধারাবাহিক মূল্যায়ন সঠিকভাবে হবে কিনা, সেটি নিয়ে সন্দেহ আছে।”
নতুন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী —
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি কার্যকর হবে।
সুতরাং, ২০২৫ সাল থেকে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম বর্ষের স্নাতক পরীক্ষায়ই শিক্ষার্থীরা নতুন কাঠামোতে অংশ নেবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কলেজে ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণ শুরু করেছে, যাতে শিক্ষকরা নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে,
“সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য সফটওয়্যারভিত্তিক মূল্যায়ন রেকর্ড সিস্টেম চালু করা হবে।”
শিক্ষানীতিতে এটি একটি “Policy Shift”
এই পরিবর্তন কেবল পরীক্ষা কাঠামো নয় — এটি একটি “Policy Reform”।
এর মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে পৌঁছানোর পথে এক ধাপ এগোল।
বাংলাদেশিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANKERS)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক স্তরের মূল্যায়নে ধারাবাহিক পরীক্ষা চালু করলে শিক্ষার্থীদের রেজাল্টের বৈষম্য ৩০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,
“এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং পরীক্ষাভীতি কমাবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
1. নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকুন
2. অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ গুরুত্ব দিন
3. ইন-কোর্স পরীক্ষার প্রস্তুতি আগেভাগেই নিন
4. প্রশ্নের ধরন বুঝে লেখার অনুশীলন করুন
5. সময় ব্যবস্থাপনা শিখুন
প্রশ্ন ১: নতুনিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে?
উত্তর: ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনার্স প্রোগ্রামে এই নিয়ম কার্যকর হবে।
প্রশ্ন ২: ফাইনাল পরীক্ষায় কত নম্বর থাকবে?
উত্তর: মোট নম্বরের ৮০% ফাইনাল পরীক্ষায়, ২০% ধারাবাহিক মূল্যায়নে নির্ধারিত।
প্রশ্ন ৩: ব্যবহারিক পরীক্ষায় কোনো পরিবর্তন আছে কি?
উত্তর: না, ব্যবহারিকোর্সের মূল্যায়ন পূর্বের সিলেবাস অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
প্রশ্ন ৪: ইন-কোর্স পরীক্ষার ফলাফল কীভাবে গণনা হবে?
উত্তর:দুটি ইন-কোর্স পরীক্ষার গড় নম্বর গণনা করা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নতুন পরীক্ষা কাঠামো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এটি শুধু নম্বরের হিসাব নয় — বরং শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক শেখা ও আত্মউন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা।
যদি আপনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা শিক্ষক হন, তবে এখনই নতুনিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে প্রস্তুতি নিন।
সর্বশেষ শিক্ষা সংবাদ, নীতি পরিবর্তন ও পরীক্ষা আপডেট পেতে Dhaka News এর ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন।
National University Bangladesh issues new exam rules for Honors program 2024–25 — 80% final exam, 20% continuous assessment.
0 Comments