Advertisement

0

বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক বৈশ্বিক সহবস্থানে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

 বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক বৈশ্বিক সহবস্থানে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা







আজ শুক্রবার ৬রা অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১ নভেম্বার ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি

সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় জাতি হলেও যে কোনো আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রস্তুত। নির্বাচন, সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও জোর দেন।

সশস্ত্রবাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা; সেনা কর্মকর্তা ও অতিথিরা উপস্থিত।

বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক ও বৈশ্বিক সহবস্থানে বাংলাদেশ বিশ্বাসী: প্রধান উপদেষ্টা

সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য দিচ্ছেন; সামরিক কর্মকর্তারা ও অতিথিরা উপস্থিত।
সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধান উপদেষ্টার জোরালো বার্তা—বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয়, তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত। বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক বৈশ্বিক সহাবস্থান আর শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ভিত্তি


বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। কিন্তু শান্তি ধরে রাখতে শক্তির প্রয়োজন—বিশেষ করে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনের সময়। সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে সেই বাস্তবতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন বাংলাদেশের প্রতি প্রত্যাশা।

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—বাংলাদেশ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্মানজনক ও বৈশ্বিক সহাবস্থানে বিশ্বাসী; কিন্তু যে কোনো আগ্রাসন প্রতিরোধে সশস্ত্রবাহিনীকে রাখবে সর্বদা প্রস্তুত।

 সশস্ত্রবাহিনী দিবসে প্রধান উপদেষ্টার মূল বার্তা

সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে উঠে এসেছে তিনটি মূল সুর—

  1. শান্তিপূর্র্ণ সহাবস্থান

  2. প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি

  3. গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে নির্বাচন

এগুলো মিলেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রসংস্কার ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে।

 বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক বৈশ্বিক সহাবস্থান

আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে “শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান” নীতিতে বিশ্বাসী। প্রধান উপদেষ্টা বলেন—

বাংলাদেশ কখনো আগ্রাসন চায় না এবং এমন কোনো নীতি অনুসরণ করে না যা আঞ্চলিক শান্তিকে বিঘ্নিত করে। তবে রাষ্ট্রকে রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার এবং সেনাবাহিনীর মৌলিক দায়িত্ব।

 বর্তমান বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিত কেন সংবেদনশীল?

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা

  • সামরিক জোটগুলোর পুনর্বিন্যাস

  • বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক করিডোরের নতুন সম্ভাবনা

  • সমুদ্রসীমা কেন্দ্রিক কৌশলগত গুরুত্ব

এসব কারণে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দৃঢ় করাও অপরিহার্য।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য এই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করে।

 সেনাবাহিনীর দক্ষতা উন্নয়ন—ফ্যাসিস্ট আমলের ব্যর্থতা ও নতুন দিকনির্দেশনা

প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকৃত কাজ হয়নি।

 কেন সক্ষমতা বৃদ্ধি হয়নি?

বিশ্লেষকদের মতে—

  • নিরপেক্ষতার অভাব

  • রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার

  • প্রযুক্তিগত উন্নয়ন উপেক্ষা

  • কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব

এসব কারণেই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সামরিক কাঠামো।

 অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য

বর্তমান সরকার শুরু করেছে নতুন কর্মপরিকল্পনা—

  • আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন

  • প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি

  • আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার

  • জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে শক্তিশালী উপস্থিতি

এগুলো বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 ২৪ সালের অভ্যুত্থান, জনগণের আস্থা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে—প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই কৃতিত্ব।

 জনগণের আস্থা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ সেনাবাহিনী শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়—প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা সংকট ও রাষ্ট্র সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই দেশের মেরুদণ্ড।

  • অভ্যুত্থান পরবর্তী স্থিতিশীলতা

  • প্রশাসনিক পুনর্গঠন

  • দুর্যোগ মোকাবিলা

  • মানবাধিকার সুরক্ষা

এগুলোতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা জনগণের আস্থা ফিরে পেতে সাহায্য করেছে।

 নির্বাচন ও গণতন্ত্র—বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

 কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রথম অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন

  • রাষ্ট্রসংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা

  • আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি

  • জনগণের প্রত্যাশা পূরণ

এ নির্বাচনকে অনেকেই “নতুন বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার” হিসেবে দেখছেন।

 নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা

তিনি স্পষ্ট বলেন—

  • নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সেনাবাহিনীকে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে

  • নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

  • জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে

এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গৌরব ও সাফল্য

বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। বর্তমানে ১০টি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

 এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ব্র্যান্ড মূল্য তৈরি

  • সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি

  • ভবিষ্যৎ সামরিক সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত

  • বৈদেশিক আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস

 কাতারের নতুন চাহিদা

কাতার বাংলাদেশ থেকে আরও প্রশিক্ষিত সদস্য নেবে—যা আন্তর্জাতিক আস্থার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

 ভূমিকম্পে হতাহতের প্রতি শোক—মানবিক নেতৃত্বের প্রতিফলন

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা ভূমিকম্পে হতাহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন।
এটি তাঁর মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচায়ক।

 বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের ৫টি তাৎপর্যপূর্ণ দিক আছে—

  1. আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় নতুন কূটনৈতিক অবস্থান

  2. সামরিক কাঠামো আধুনিকায়নের ঘোষণা

  3. গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার

  4. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার

  5. আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ বার্তা

বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

 নতুন বাংলাদেশের পথে দায়িত্বশীল যাত্রা

বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সহাবস্থান—এই নীতিই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য প্রমাণ করেছে—

  • বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয়

  • বাংলাদেশ প্রস্তুত

  • বাংলাদেশ পরিবর্তনের পথে

  • বাংলাদেশ নতুন ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর

রাষ্ট্রসংস্কার, প্রতিরক্ষা উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ—সব মিলিয়ে দেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ের সামনে।

এই পরিবর্তনের যাত্রা কি বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করবে? আপনার মতামত জানান।

প্রশ্ন ১: প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রধান বার্তা কী ছিল?
উত্তর: শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

প্রশ্ন ২: সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন কেন জরুরি?
উত্তর: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী রাখা অপরিহার্য।

প্রশ্ন ৩: নির্বাচনকে তিনি কেন গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন?
উত্তর: এটি নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের পথ তৈরি করবে।

প্রশ্ন ৪: জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা কী?
উত্তর: বাংলাদেশ ১০টি মিশনে সক্রিয় এবং বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ।

প্রশ্ন ৫: আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি কেমন?
উত্তর: যে কোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নতুন বাংলাদেশ, রাজনীতি, নির্বাচন ও সশস্ত্রবাহিনী বিষয়ক সর্বশেষ আপডেট পেতে নিয়মিত Dhaka News ভিজিট করুন। আপনার মতামত কমেন্টে জানান, শেয়ার করুন—আপনার অংশগ্রহণই আমাদের শক্তি।

Post a Comment

0 Comments