আজ মঙ্গলবার, ১০ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫ই নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি
পাঁচ গোলের থ্রিলারে আবাহনীকে হারিয়ে দাপট দেখালো মোহামেডান
রোমাঞ্চকর পাঁচ গোলের লড়াইয়ে আবাহনীকে ৩-২ গোলে হারাল মোহামেডান। লীগে প্রথম জয় পেলেও দুই দলের লড়াই ছিল চোখ ধাঁধানো উত্তেজনায় ভরপুর।
মোহামেডান বনাম আবাহনী ফুটবল ম্যাচে গোল উদযাপন করছেন মোহামেডান খেলোয়াড়রা।
বাংলাদেশ ফুটবল লীগের মাঠে বহুদিন পর ফিরে এলো নব্বই দশকের সেই উত্তেজনা, সেই আবেগ, সেই ক্লাসিক দ্বৈরথ। আবাহনী-মোহামেডান মানেই যেখানে ইতিহাস, মর্যাদা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সেখানে এই মৌসুমের প্রথম দেখায় উপহার মিলল রোমাঞ্চকর পাঁচ গোলের ঝড়। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনীকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সাদা-কালো শিবিরে ফিরল জয়ের হাসি।
এবারের লীগের তিন ম্যাচের মাথায় পাওয়া এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই নয়, বরং মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করা মোহামেডানকে ফেরালো আত্মবিশ্বাসের জায়গায়। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংকট, খেলোয়াড়দের বকেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা—এসবের মাঝেও মাঠে ছিল দারুণ লড়াই, নিখুঁত ফিনিশিং, আর দম বন্ধ করা আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ।
নিচে থাকছে পুরো ম্যাচ বিশ্লেষণ, দলীয় পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের উজ্জ্বল মুহূর্তসহ গভীর বিশ্লেষণ…
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
ম্যাচে মোট পাঁচটি গোল, টেকনিক্যাল ব্রিলিয়ান্স, দুই দলের সমান আগ্রাসন—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীরা পেয়েছেন স্মরণীয় এক বিকেল।
মোহামেডানের গোল: রহীম উদ্দিন, এমানুয়েল কেকে, স্যামুয়েল বোয়াটেং
আবাহনীর গোল: পাপন সিং, শেখ মোরমালিন
ফলাফল: মোহামেডান ৩ – আবাহনী ২
মোহামেডানের দল গোছানো না থাকা সত্ত্বেও তারা যে একযোগে খেলতে জানে, তা স্পষ্ট হয়েছে খেলায়। অপরদিকে আবাহনী দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এলেও শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরতে পারেনি।
প্রস্তুতিহীন মোহামেডান, তবুও মাঠে ছাপ রেখে দিল সাদা-কালো দল
মোহামেডানের মৌসুম শুরুর আগেই নানা শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল ক্লাবটিকে।
ক্লাব পরিচালনায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা বকেয়া
দল গঠনে অনিশ্চয়তা
পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস ক্যাম্পের অভাব
এমন অবস্থায় সাধারণত বড় ক্লাবগুলো নতুন মৌসুমে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে দেরি করে। কিন্তু মোহামেডান তার ব্যতিক্রম। দল গঠনে সময় স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা জয়ের ক্ষুধা নিয়ে মাঠে নেমেছে—যা পুরো ম্যাচ জুড়ে স্পষ্ট দেখা গেছে।
প্রথমার্ধ: মোহামেডানের আগ্রাসনে তাল হারাল আবাহনী
২০ মিনিটেই রহীম উদ্দিনের দারুণ গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই মোহামেডানের আক্রমণের ধকল সামলাতে ব্যস্ত ছিল আবাহনী ডিফেন্স। এর মাঝেই ২০ মিনিটে এক দারুণ বিল্ড-আপ থেকে গোল করেন রহীম উদ্দিন। উইং থেকে দ্রুতগতিতে উঠে বক্সে ঢুকে যে শটটি তিনি পাঠালেন, তা থামানোর সুযোগ পাননি আবাহনীর গোলরক্ষক।
কেকের ডিফেন্ডিং নৈপুণ্য–ডিফেন্ডার হয়েও গোল
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সুযোগ পেয়ে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঘানার সেন্টার ব্যাক এমানুয়েল কেকে। তার শক্তিশালী শরীরী ভাষা ও নিখুঁত দৌড় প্রতিপক্ষকে চাপের মাঝে ফেলছিল শুরু থেকেই। এই গোল দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
দ্বিতীয়ার্ধ: আবাহনীর প্রত্যাবর্তন, কিন্তু শেষ হাসি মোহামেডানের
বোয়াটেং-এর তৃতীয় গোল—ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত
৫৮ মিনিটে শান্ত হাসানের নিখুঁত অ্যাসিস্টে স্যামুয়েল বোয়াটেং দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন। তার বাম পায়ের শট সরাসরি জালে গিয়ে পড়লে স্কোরলাইন হয় ৩-০। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন বড় ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়বে মোহামেডান।
পাপন সিংয়ের দুর্দান্ত ফ্রি-রেঞ্জ শট
৭২ মিনিটে আবাহনী দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে বক্সের বাইরে থেকে সরাসরি শট নেন পাপন সিং। শটটি ছিল মাপা, শক্তিশালী এবং নিখুঁত; গোলরক্ষকের কিছু করার ছিল না।
শেখ মোরমালিনের গোল—আশা জাগানো প্রত্যাবর্তন
গোলেরেশ কাটার আগেই ৭৮ মিনিটে আবার গোল পায় আবাহনী। ভারত-বধের নায়ক শেখ মোরমালিনের সোজাসাপটা শট জালে ধাক্কা খেলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-২। এই মুহূর্ত থেকে ম্যাচের উত্তেজনা চূড়ান্তে ওঠে।
শেষ ১২ মিনিট—দুই দলের মরিয়া প্রচেষ্টা
আবাহনী চেষ্টা করেছে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে আসার
মোহামেডান ডিফেন্ডাররা ঠাণ্ডা মাথায় চাপ সামলেছে
গোলরক্ষক সাহসী সেভ দিয়ে দলকে সমতায় ফিরতে দেয়নি
অবশেষে রেফারির শেষ বাঁশিতে মোহামেডান পায় তাদের মৌসুমের প্রথম জয়।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
মোহামেডানের শক্তি
বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রভাব
উইং পজিশনে গতি ও দক্ষতা
মিডফিল্ডের সংগঠিত পাসিং
ডিফেন্স থেকে দ্রুত বিল্ড-আপ
আবাহনীর দুর্বলতা
প্রথমার্ধে সমন্বয়ের অভাব
ডিফেন্সিভ লাইনে গ্যাপ
ট্যাকটিক্যাল রিঅ্যাকশন দেরিতে নেওয়া
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
পাপন সিংয়ের গোলের পর আবাহনী চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু মোহামেডানের দৃঢ় ডিফেন্স পুরো ১৫ মিনিট ম্যাচ ধরে রাখে—এটাই ছিল ফল নির্ধারক।
বল দখলে আবাহনী এগিয়ে: ৫৮%
শট অন টার্গেট: মোহামেডান ৬, আবাহনী ৪
কর্নার: আবাহনী ৭, মোহামেডান ৪
ফাউল: মোহামেডান ১২, আবাহনী ৯
বসুন্ধরা কিংস, ব্রাদার্স ও পুলিশ এফসির ম্যাচ আপডেট
বসুন্ধরা কিংস ২-০ আরামবাগ
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ২-০ ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব
পুলিশ এফসি ০-০ ফর্টিস এফসি
এ জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস।
। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাঁচ গোলের থ্রিলার, দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে সমর্থকরা পেয়েছেন ফুটবল উৎসবের স্বাদ। আবাহনী যদিও ম্যাচে দারুণভাবে ফিরেছিল, তবে মোহামেডানের জয়ের ক্ষুধা ও দৃঢ়তা তাদের ম্যাচের প্রকৃত নায়ক বানিয়েছে।
মৌসুমের বাকি সময়েও এই দুই দলের লড়াই জমে উঠবে—এটি নিশ্চিত।
প্রশ্ন: মোহামেডান কেন মৌসুম শুরুর আগে দল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল?
উত্তর: ক্লাব পরিচালনায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বকেয়া পরিশোধের জটিলতা এবং দলে খেলোয়াড় নেওয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে এমনটি হয়েছিল।
প্রশ্ন: ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় কে?
উত্তর: স্যামুয়েল বোয়াটেং। তিনি গোল করেছেন, আক্রমণ সাজিয়েছেন এবং চাপের মুহূর্তে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রশ্ন: আবাহনী কোথায় ভুল করেছে?
উত্তর: ডিফেন্সের ভুল, প্রথমার্ধে মনোযোগের ঘাটতি এবং ট্যাকটিক্যাল সাড়া দিতে দেরি করা।
প্রশ্ন: পাঁচ গোলের ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট কোনটি?
উত্তর: পাপন সিংয়ের গোল ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছিল। তবে শেষ ১৫ মিনিটে মোহামেডানের ডিফেন্স ম্যাচ বাঁচিয়ে দেয়।
আপনি যদি নিয়মিত বাংলাদেশের ফুটবল আপডেট, বিশ্লেষণ ও ব্রেকিং স্পোর্টস নিউজ পেতে চান, তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট বুকমার্ক করুন এবং Facebook পেজে Follow দিন। প্রতিদিনের সেরা স্পোর্টস কভারেজ, এক্সক্লুসিভ নিউজ আর গভীর বিশ্লেষণ—সবই পাবেন এক জায়গায়!

0 Comments