অনশন ভাঙাতে কেন ডাবের পানি খাওয়ানো হয় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
দীর্ঘ অনশনে শরীরের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ে। ডাবের পানি কেন অনশন ভাঙাতে সবচেয়ে উপযোগী তা পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যাসহ জানুন বিস্তারিত।
ডাবের পানি দিয়ে অনশন ভাঙানোর বৈজ্ঞানিক রহস্য যা আপনি জানেন না
অনশন ভাঙাতে ডাবের পানি ব্যবহারের পেছনে লুকিয়ে আছে চমৎকার বিজ্ঞান। ভারতের মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনকারী নেতারা শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্য বহন করে আসছেন। কিন্তু এর পেছনের চিকিৎসাবিজ্ঞান কতজন সত্যিই জানেন। আজকের এই গভীর আলোচনায় আমরা উন্মোচন করব সেই সব তথ্য যা আপনার স্বাস্থ্য সচেতনতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।
অনশনে শরীর যেভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করে
মানবদেহ একটি অসাধারণ যন্ত্র যা খাবার ছাড়া বেশ কিছুদিন টিকে থাকতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে শরীরের ভেতরে ঘটে যায় ভয়াবহ সব পরিবর্তন। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শরীর লিভারে জমা থাকা গ্লাইকোজেন ব্যবহার করে। এরপর শুরু হয় আসল সংকট।
প্রথম ৭২ ঘণ্টায় যা ঘটে
শরীর যখন বুঝতে পারে খাবার আসছে না তখন সে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এই সময়ে লিভার ফ্যাট থেকে কিটোন বডি তৈরি করতে শুরু করে। মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে এটি গ্লুকোজের বিকল্প হয়ে ওঠে। তবে এই প্রক্রিয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত চাপের। রক্তে ইনসুলিন কমতে থাকে আর গ্লুকাগন বাড়তে থাকে।
শরীরের পানির ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। কোষগুলো সঙ্কুচিত হতে থাকে। রক্তচাপ নামতে শুরু করে কারণ রক্তের আয়তন কমে যায়। হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে কারণ তার পেশিগুলোও শক্তি পায় না।
এক সপ্তাহ পরের ভয়াবহ চিত্র
সাত দিন অতিক্রম করার পর শরীর প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে। এর মানে হলো পেশি ক্ষয় হচ্ছে। হার্টের পেশিও এর থেকে রেহাই পায় না। এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে। সামান্য ইনফেকশনও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে কারণ তাকে বিষাক্ত কিটোন বডি ফিল্টার করতে হচ্ছে। হজমতন্ত্রের দেয়াল পাতলা হয়ে যায়। পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় কিন্তু খাবার না থাকায় এটি দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে।
রিফিডিং সিনড্রোম ভয়ংকর বাস্তবতা
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিশেষ শব্দ আছে যা অনেকেই জানেন না। রিফিডিং সিনড্রোম মানে হলো দীর্ঘ অনাহারের পর হঠাৎ খাবার খেলে শরীরে যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়। এটি এতটাই ভয়ংকর যে মানুষ মারা পর্যন্ত যেতে পারে।
কেন এই সিনড্রোম হয়
দীর্ঘদিন না খাওয়ার ফলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা কমে যায়। বিশেষ করে ফসফেট পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম এবং থায়ামিন। হঠাৎ খাবার খেলে ইনসুলিন দ্রুত বেড়ে যায়। এই ইনসুলিন কোষগুলোকে নির্দেশ দেয় গ্লুকোজ শোষণ করতে। কিন্তু গ্লুকোজ শোষণের জন্য দরকার ফসফেট।
রক্তে যেটুকু ফসফেট ছিল তা কোষে চলে যায়। হঠাৎ রক্তে ফসফেট একদম কমে যায়। এর ফলে হার্ট অনিয়মিত হতে শুরু করে। শ্বাসযন্ত্রের পেশি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। মস্তিষ্কে খিঁচুনি হতে পারে। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মুক্ত হওয়া বন্দিশিবিরের অনেক মানুষ মারা গিয়েছিলেন এই কারণে। তারা বেঁচে গিয়েছিলেন কিন্তু হঠাৎ খাবার দেওয়ায় তাদের শরীর সামলাতে পারেনি।
চিকিৎসকরা কীভাবে এড়ান এই বিপদ
অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা জানেন অনশন ভাঙানো একটি শিল্প। এটি ধীরে ধীরে করতে হয়। প্রথমে দিতে হয় শুধু তরল। সেই তরলে থাকতে হবে ইলেকট্রোলাইট। থাকতে হবে সামান্য গ্লুকোজ কিন্তু খুব বেশি নয়। থাকতে হবে খনিজ পদার্থ। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটি হতে হবে সহজপাচ্য।
এখানেই ডাবের পানি অনন্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতি যেন বিশেষভাবে এটি তৈরি করেছে এই কাজের জন্য।
ডাবের পানির জাদুকরী রসায়ন
একটি সবুজ ডাবের ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রায় ২০০ থেকে ১০০০ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানি। এই পানি কোনো সাধারণ পানি নয়। এটি প্রকৃতির তৈরি সবচেয়ে নিখুঁত ইলেকট্রোলাইট দ্রবণ।
পুষ্টি উপাদানের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
প্রতি ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে থাকে প্রায় ২৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এটি হার্টের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য। পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রের সিগন্যাল পরিবহনে সাহায্য করে। পেশির সংকোচনের জন্য এটি অত্যাবশ্যক।
সোডিয়াম থাকে ১০৫ মিলিগ্রাম। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কোষের বাইরের তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে। ম্যাগনেসিয়াম থাকে ২৫ মিলিগ্রাম যা ৩০০টিরও বেশি এনজাইম প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
ক্যালসিয়াম ফসফরাস জিংক আয়রন এবং কপার সবই আছে সামান্য পরিমাণে। কিন্তু এই সামান্য পরিমাণই দুর্বল শরীরের জন্য যথেষ্ট।
শর্করা এবং অ্যামিনো এসিড
ডাবের পানিতে শর্করা থাকে মাত্র ৪ থেকে ৫ গ্রাম প্রতি ১০০ মিলিলিটারে। এই পরিমাণ একদম আদর্শ। এটি রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বাড়ায় না। ধীরে ধীরে শক্তি দেয়।
আছে ১৭ ধরনের অ্যামিনো এসিড। এর মধ্যে আলানিন আর্জিনিন সিস্টিন এবং সেরিন উল্লেখযোগ্য। এগুলো প্রোটিন তৈরির ভিত্তি। দুর্বল শরীরে টিস্যু মেরামতের জন্য এগুলো অপরিহার্য।
ফাইটোহরমোন এবং এনজাইম
ডাবের পানিতে আছে সাইটোকাইনিন নামক এক ধরনের উদ্ভিদ হরমোন। গবেষণায় দেখা গেছে এটি অ্যান্টি এজিং বৈশিষ্ট্য রাখে। এটি কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
আছে বিভিন্ন এনজাইম যেমন ফসফেটেজ ডিহাইড্রোজিনেজ ডায়াস্টেজ পারঅক্সিডেজ এবং পলিমারেজ। এই এনজাইমগুলো হজমে সাহায্য করে। দুর্বল পাকস্থলীকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করে।
ডাবের পানি বনাম অন্যান্য তরল
অনেকে প্রশ্ন করেন সাধারণ পানি কেন যথেষ্ট নয়। বা কেন ফলের রস দেওয়া হয় না। এর উত্তর লুকিয়ে আছে রসায়নে।
সাধারণ পানির সীমাবদ্ধতা
সাধারণ পানিতে ইলেকট্রোলাইট নেই। এটি শুধু জলশূন্যতা দূর করতে পারে। কিন্তু সোডিয়াম পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম দিতে পারে না। দীর্ঘ অনশনের পর যা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো ইলেকট্রোলাইট। সাধারণ পানি এক্ষেত্রে অকার্যকর।
উপরন্তু অতিরিক্ত সাধারণ পানি পান করলে রক্তের ইলেকট্রোলাইট আরও পাতলা হয়ে যায়। এটি হাইপোনেট্রিমিয়া তৈরি করতে পারে। এতে মস্তিষ্ক ফুলে যেতে পারে।
ফলের রসের বিপদ
কমলার রস আম বা আপেলের রস পুষ্টিকর সত্যি। কিন্তু এতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি। প্রতি ১০০ মিলিলিটার কমলার রসে থাকে ১০ থেকে ১২ গ্রাম চিনি। এটি ডাবের পানির দ্বিগুণ।
দীর্ঘ অনশনের পর হঠাৎ এত চিনি গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যায়। অগ্ন্যাশয় হঠাৎ প্রচুর ইনসুলিন নিঃসরণ করে। এটি রিফিডিং সিনড্রোম ট্রিগার করতে পারে।
উপরন্তু বাজারের জুসে যোগ করা হয় প্রিজারভেটিভ কালার এবং অতিরিক্ত চিনি। এগুলো দুর্বল পাকস্থলীর জন্য বোঝা।
ওআরএস বা ইলেকট্রোলাইট দ্রবণ
চিকিৎসকরা ওআরএস ব্যবহার করেন ডায়রিয়ার চিকিৎসায়। এতে আছে সোডিয়াম ক্লোরাইড পটাশিয়াম এবং গ্লুকোজ। তবে এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। এর স্বাদ অনেকের কাছে অপ্রীতিকর।
ডাবের পানি প্রাকৃতিক এবং সুস্বাদু। এতে আছে ওআরএসের চেয়ে বেশি উপাদান। আছে ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এনজাইম যা কৃত্রিম দ্রবণে পাওয়া যায় না।
সাংস্কৃতিকভাবেও ডাবের পানি বেশি গ্রহণযোগ্য। ধর্মীয় কোনো বাধা নেই। শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন নেই।
দেহে ডাবের পানির ক্রিয়া ধাপে ধাপে
এবার দেখা যাক অনশন ভাঙানোর পর ডাবের পানি শরীরে ঠিক কী করে।
প্রথম ১৫ মিনিট মুখ থেকে পাকস্থলী
ডাবের পানি মুখে নেওয়ার সাথে সাথে মুখের লালাগ্রন্থি সক্রিয় হয়। দীর্ঘদিন পর খাদ্যনালীতে কিছু প্রবেশ করছে বলে মস্তিষ্ক সংকেত পায়। পাকস্থলী প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
ডাবের পানি পাকস্থলীতে পৌঁছায়। এর হালকা ক্ষারীয় প্রকৃতি অতিরিক্ত অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করে। জ্বালাপোড়া কমে। পাকস্থলীর দেয়ালে একটি সুরক্ষাকারী আবরণ তৈরি হয়।
ম্যাগনেসিয়াম পাকস্থলীর পেশিকে শিথিল করে। ব্যথা কমে। পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। বমি বমি ভাব দূর হয়।
৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষণ
ডাবের পানি ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায়। এখানেই মূল শোষণ ঘটে। সোডিয়াম এবং গ্লুকোজ একসাথে শোষিত হয়। এটি একটি বিশেষ পদ্ধতি যাকে বলে সোডিয়াম গ্লুকোজ কো ট্রান্সপোর্ট।
এই প্রক্রিয়ায় পানি দ্রুত রক্তে চলে আসে। জলশূন্যতা দূর হতে শুরু করে। পটাশিয়াম শোষিত হয় এবং কোষের ভেতরে প্রবেশ করে। কোষগুলো আবার ফুলে উঠতে শুরু করে।
ম্যাগনেসিয়াম শোষিত হয় এবং এনজাইম সক্রিয় করতে শুরু করে। শরীরের হাজারো রাসায়নিক প্রক্রিয়া আবার চালু হয়।
১ থেকে ৩ ঘণ্টা রক্ত এবং কোষে বিতরণ
রক্তে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। হার্ট আরও নিয়মিত স্পন্দন শুরু করে। রক্তচাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। মস্তিষ্কে গ্লুকোজ সরবরাহ বাড়ে।
ব্যক্তি আরও সজাগ অনুভব করেন। মাথা ঘোরা কমে। দুর্বলতা কমতে শুরু করে। কিডনি আবার সক্রিয়ভাবে প্রস্রাব তৈরি করতে শুরু করে। এটি একটি ভালো লক্ষণ যে শরীর পুনরুদ্ধার হচ্ছে।
পেশিগুলো পটাশিয়াম পায়। তারা আবার সংকোচনের ক্ষমতা ফিরে পায়। শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়।
৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পুনরুদ্ধার শুরু
পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় শরীর ধীরে ধীরে অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়। হজমতন্ত্র আবার এনজাইম তৈরি করতে শুরু করে। পাকস্থলী এবং অন্ত্রের গতিবিধি স্বাভাবিক হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হতে শুরু করে। শ্বেত রক্তকণিকা আবার কাজ করতে পারে। শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা ফিরে পায়।
লিভার আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে পারে। হরমোনের ভারসাম্য ফিরে আসতে শুরু করে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলে
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ডাবের পানি নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে।
ইলেকট্রোলাইট পুনঃস্থাপনে কার্যকারিতা
আমেরিকান কলেজ অফ স্পোর্টস মেডিসিনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে ডাবের পানি কৃত্রিম স্পোর্টস ড্রিংকের মতোই কার্যকর ইলেকট্রোলাইট পুনঃস্থাপনে। তবে এতে কম চিনি এবং বেশি পটাশিয়াম থাকায় হার্টের জন্য বেশি উপকারী।
ইন্টারনেশনাল জার্নাল অফ ফুড সায়েন্সে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় বলা হয় ডাবের পানির ইলেকট্রোলাইট সংমিশ্রণ মানুষের রক্তরসের খুবই কাছাকাছি। এটি দ্রুত শোষিত হয় এবং কোষে পৌঁছায়।
হজমতন্ত্রের ওপর প্রভাব
ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশনের গবেষকরা দেখেছেন ডাবের পানি পাকস্থলীর আলসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য প্রদাহ কমায়।
ডাবের পানিতে থাকা ফাইবার প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এটি উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে খাদ্য জোগায়। দীর্ঘ অনশনের পর যখন অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া প্রায় মরে যায় তখন এটি তাদের পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি এজিং
শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে ডাবের পানিতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এগুলো ফ্রি র্যাডিক্যাল নষ্ট করে। দীর্ঘ অনশনে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ে। ডাবের পানি এটি কমাতে সাহায্য করে।
সাইটোকাইনিন নামক উপাদানটি কোষের মৃত্যু রোধ করে। টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যখন শরীরের কোষগুলো দীর্ঘ অভুক্ত অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিডনি এবং লিভারে সুরক্ষা
ফিলিপাইন্সের একটি গবেষণায় দেখা গেছে ডাবের পানি কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি প্রস্রাবের সাথে খনিজ পদার্থ বের করে দেয়। কিডনির নালিকা পরিষ্কার রাখে।
ভারতের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে ডাবের পানি লিভারকে টক্সিন থেকে রক্ষা করে। দীর্ঘ অনশনে লিভারে বিষাক্ত কিটোন বডি জমা হয়। ডাবের পানি এগুলো দ্রুত নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
অনশন ভাঙানোর সঠিক প্রক্রিয়া
শুধু ডাবের পানি দিলেই হয় না। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
প্রথম ঘণ্টা অত্যন্ত সতর্কতা
প্রথমে দিতে হবে মাত্র কয়েক চামচ ডাবের পানি। দেখতে হবে ব্যক্তি কেমন সহ্য করছেন। বমি হচ্ছে কিনা। পেটে ব্যথা হচ্ছে কিনা।
যদি সব ঠিক থাকে তাহলে ১৫ মিনিট পর আরো একটু দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রথম ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ মিলিলিটার।
এ সময় ব্যক্তিকে বসে বা আধশোয়া অবস্থায় রাখতে হবে। হঠাৎ দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় ঘণ্টা
যদি প্রথম ঘণ্টা ভালোভাবে কাটে তাহলে পরবর্তী দুই ঘণ্টায় মোট ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। তবে একবারে নয় ধীরে ধীরে।
এ সময় অন্যান্য তরল যুক্ত করা যেতে পারে। হালকা লবণপানি। পাতলা চালের মাড়। লেবু পানি। তবে অল্প পরিমাণে।
ব্যক্তির শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে। রক্তচাপ মাপতে হবে। নাড়ির গতি দেখতে হবে। প্রস্রাব হচ্ছে কিনা চেক করতে হবে।
ছয় ঘণ্টা পর
ছয় ঘণ্টা পর যদি সব ঠিক থাকে তাহলে আধা তরল খাবার দেওয়া শুরু করা যায়। খিচুড়ি। দইয়ের সাথে কলা। পাতলা স্যুপ।
তবে পরিমাণ হতে হবে খুবই কম। প্রথম খাবার মাত্র ২ থেকে ৩ চামচ। এরপর ২ ঘণ্টা অন্তর অল্প অল্প করে দিতে হবে।
এভাবে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যে ফিরতে হবে।
ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিতে ডাবের পানি
ভারতীয় উপমহাদেশে ডাবের পানি শুধু পানীয় নয় এটি সংস্কৃতির অংশ।
ধর্মীয় গুরুত্ব
হিন্দু ধর্মে নারকেল পবিত্র। মন্দিরে প্রসাদ হিসেবে নারকেল দেওয়া হয়। ডাবের পানিকে শুদ্ধ মনে করা হয়। তাই ধর্মীয় উপবাস ভাঙাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
ইসলামে এর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা নেই। এটি হালাল এবং পবিত্র। রমজানে ইফতারে অনেকে ডাবের পানি পান করেন।
খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মেও এটি গ্রহণযোগ্য। তাই সব ধর্মের মানুষের জন্য এটি একটি নিরাপদ পছন্দ।
ঐতিহাসিক ব্যবহার
মহাত্মা গান্ধী তাঁর একাধিক অনশনে ডাবের পানি দিয়ে অনশন ভেঙেছেন। তিনি বলতেন ডাবের পানি প্রকৃতির উপহার যা শরীরকে কোনো ক্ষতি না করে শক্তি দেয়।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অনেক নেতাকে ডাবের পানি দিয়ে অনশন ভাঙাতে দেখা গেছে। এটি একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী বিভিন্ন আন্দোলনে এই ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক প্রতীক
অনশন ভাঙাতে ডাবের পানি দেওয়া একটি শান্তির প্রতীক। এটি বোঝায় সংকট শেষ হয়েছে। আলোচনা শুরু হয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।
ডাবের সবুজ রং নতুন শুরুর প্রতীক। স্বচ্ছ পানি পবিত্রতার প্রতীক। এটি মিডিয়ায় একটি শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল বার্তা দেয়।
রাজনৈতিক আন্দোলনে এটি একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে। জনগণ এটি আশা করে। এটি না হলে মনে হয় অনশন সঠিকভাবে ভাঙানো হয়নি।
সতর্কতা এবং ব্যতিক্রম
যদিও ডাবের পানি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ তবুও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।
কিডনি রোগীদের জন্য
যাদের ক্রনিক কিডনি ডিজিজ আছে তাদের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম একটি সমস্যা হতে পারে। কিডনি যদি সঠিকভাবে পটাশিয়াম বের করতে না পারে তাহলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত পটাশিয়াম হার্টের জন্য বিপজ্জনক। এটি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত ঘটাতে পারে। তাই কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে।
চিকিৎসক হয়তো কম পটাশিয়ামযুক্ত তরল ব্যবহার করতে বলবেন। বা পরিমাণ কমিয়ে দেবেন।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। যদিও পরিমাণে কম তবুও ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্ক হতে হবে। বিশেষত যারা ইনসুলিন নেন।
দীর্ঘ অনশনের পর রক্তে গ্লুকোজ অনেক কম থাকে। এ অবস্থায় ডাবের পানি দিলে গ্লুকোজ হঠাৎ বাড়তে পারে। তবে সাধারণত এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য মাত্রায় থাকে।
চিকিৎসক রক্তের গ্লুকোজ মনিটর করবেন। প্রয়োজনে ইনসুলিনের ডোজ সমন্বয় করবেন।
হার্টের ওষুধ গ্রহণকারীদের জন্য
যারা হার্টের জন্য পটাশিয়াম স্পেয়ারিং ডাইউরেটিক বা এসিই ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ খান তাদেরও সতর্ক হতে হবে। এই ওষুধগুলো শরীরে পটাশিয়াম ধরে রাখে।
ডাবের পানি থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম পেলে রক্তে মাত্রা বেশি হয়ে যেতে পারে। এটি হাইপারক্যালেমিয়া তৈরি করতে পারে যা হার্টের ছন্দ বিঘ্নিত করে।
এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক অন্য বিকল্প বেছে নিতে পারেন। যেমন পাতলা ওআরএস বা গ্লুকোজ স্যালাইন।
এলার্জি
কিছু মানুষের নারকেলে এলার্জি থাকতে পারে। যদিও এটি বিরল তবুও সম্ভব। এলার্জি হলে মুখ ফুলে যাওয়া শ্বাসকষ্ট র্যাশ হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ডাবের পানি বন্ধ করতে হবে। এন্টিহিস্টামিন দিতে হবে। মারাত্মক ক্ষেত্রে এপিনেফ্রিন প্রয়োজন হতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডাবের পানির অবস্থান
আধুনিক হাসপাতালগুলো কীভাবে দেখছে ডাবের পানিকে।
জরুরি বিভাগে ব্যবহার
কিছু দেশে বিশেষত দক্ষিণ এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় হাসপাতালে ডাবের পানি সরবরাহ করা হয়। ডায়রিয়া জ্বর বা হালকা জলশূন্যতার রোগীদের জন্য।
তবে গুরুতর ক্ষেত্রে শিরায় স্যালাইন দেওয়া হয়। কারণ এটি দ্রুত কাজ করে এবং মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ডাবের পানি সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রধান চিকিৎসা নয়।
পুষ্টিবিদদের সুপারিশ
পুষ্টিবিদরা ডাবের পানিকে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে সুপারিশ করেন। তবে তারা বলেন এটি জাদুকরী নয়। এটি একটি ভালো ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয়।
তারা সতর্ক করেন অতিরিক্ত পরিমাণে পান না করতে। দিনে এক থেকে দুই গ্লাস যথেষ্ট স্বাভাবিক অবস্থায়।
প্যাকেটজাত ডাবের পানির চেয়ে তাজা ডাব অনেক ভালো। প্যাকেটে প্রিজারভেটিভ থাকতে পারে। পুষ্টিমান কমে যেতে পারে।
ক্লিনিকাল ট্রায়াল
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ডাবের পানির ওপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। বিশেষত খেলাধুলায় এর ব্যবহার নিয়ে।
প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক। তবে আরো বড় পরিসরের গবেষণা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ওআরএসের বিকল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
তবে অনেক জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উপকারী পানীয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ অন্যান্য প্রাকৃতিক পানীয়
এবার দেখা যাক অন্যান্য প্রাকৃতিক পানীয়ের সাথে ডাবের পানির তুলনা।
ডাবের পানি বনাম লেবু পানি
লেবু পানি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তবে ইলেকট্রোলাইট খুব কম। শুধু লেবু পানি দিয়ে ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক করা সম্ভব নয়।
লেবুর অম্লতা কারো কারো পেটে জ্বালাপোড়া করতে পারে। বিশেষত দীর্ঘ অনশনের পর যখন পাকস্থলী সংবেদনশীল থাকে।
তবে লেবু পানি দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঘণ্টায় যুক্ত করা যেতে পারে। এটি স্বাদ বাড়ায় এবং ভিটামিন সি দেয়।
ডাবের পানি বনাম তরমুজের রস
তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি। এতে লাইকোপিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। পটাশিয়াম আছে কিন্তু ডাবের পানির চেয়ে কম।
তরমুজে চিনি বেশি। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি। তাই দীর্ঘ অনশনের পর প্রথম পানীয় হিসেবে এটি ডাবের পানির চেয়ে কম আদর্শ।
তবে তরমুজ খুবই হাইড্রেটিং। পরবর্তী পর্যায়ে এটি ভালো খাবার।
ডাবের পানি বনাম আখের রস
আখের রস শক্তিদায়ক। এতে প্রাকৃতিক চিনি প্রচুর। খনিজ পদার্থও আছে। তবে এর চিনির পরিমাণ অনেক বেশি।
প্রতি ১০০ মিলিলিটার আখের রসে ১৫ থেকে ২০ গ্রাম চিনি থাকতে পারে। এটি দীর্ঘ অনশনের পর রিস্কি।
আখের রস খুব মিষ্টি হওয়ায় পেট খারাপ করতে পারে। হজম করতে সময় লাগে।
ডাবের পানি বনাম দুধ
দুধ সম্পূর্ণ খাবার। এতে প্রোটিন ফ্যাট কার্বোহাইড্রেট সবই আছে। তবে এটি তরল নয় বরং আধা কঠিন।
দীর্ঘ অনশনের পর দুধ হজম করা কঠিন। এটি পেটে ভারী লাগতে পারে। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে সমস্যা আরো বেশি।
দুধ দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন থেকে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে প্রথম পানীয় হিসেবে নয়।
ব্যবহারিক পরামর্শ এবং টিপস
আপনি যদি কখনো দীর্ঘ উপবাস বা অনশন ভাঙান তাহলে এই টিপসগুলো মনে রাখবেন।
সঠিক ডাব নির্বাচন
তাজা সবুজ ডাব বেছে নিন। বয়স্ক বাদামী ডাবের পানি কম থাকে এবং স্বাদ ভালো নয়। ডাবের খোসায় কোনো দাগ বা গন্ধ থাকা উচিত নয়।
ডাব কাটার আগে বাইরের খোসা ভালোভাবে ধুয়ে নিন। পরিষ্কার ছুরি ব্যবহার করুন। কাটার পর পরই পান করুন।
প্যাকেট জাত ডাবের পানি কিনলে মেয়াদ দেখুন। উপাদান তালিকা পড়ুন। কোনো অতিরিক্ত চিনি বা ফ্লেভার না থাকাটা ভালো।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
প্রথম ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিলিটারের বেশি নয়। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন। এক নিঃশ্বাসে পুরো পান করবেন না।
পরবর্তী ২ থেকে ৩ ঘণ্টায় মোট ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত নিরাপদ। এর বেশি হলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
সারাদিনে সর্বোচ্চ ১ থেকে ১ দশমিক ৫ লিটার। এর বেশি অতিরিক্ত হবে।
সংরক্ষণ
ডাব কাটার পর যদি সাথে সাথে পান না করেন তাহলে রেফ্রিজারেটরে রাখুন। তবে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে পান করে ফেলুন। এর বেশি রাখলে পুষ্টিমান কমে যায়।
প্যাকেটজাত ডাবের পানি খোলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করুন। ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি অনশনের সময়কাল ৭ দিনের বেশি হয় তাহলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অনশন ভাঙা উচিত। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভালো।
যদি কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকে ডায়াবেটিস হার্ট ডিজিজ কিডনি সমস্যা তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অনশনের সময় যদি অজ্ঞান হয়ে যান খিঁচুনি হয় বা গুরুতর দুর্বলতা অনুভব করেন তাহলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
ডাবের পানি দিয়ে অনশন ভাঙানো শুধু একটি ঐতিহ্য নয়। এটি বিজ্ঞানসম্মত একটি পদ্ধতি। প্রকৃতি যেন মানুষের এই বিশেষ প্রয়োজনের জন্য ডাবের পানিকে নিখুঁতভাবে ডিজাইন করেছে।
এর ইলেকট্রোলাইট সংমিশ্রণ রক্তের কাছাকাছি। এর চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত। এর পিএইচ পাকস্থলী বান্ধব। এতে আছে প্রয়োজনীয় এনজাইম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
দীর্ঘ অনশনে শরীর যখন ভেঙে পড়ে তখন তাকে আবার জাগিয়ে তুলতে দরকার এমন কিছু যা নিরাপদ কার্যকর এবং সহজপাচ্য। ডাবের পানি সেই তিনটি শর্তই পূরণ করে।
তবে মনে রাখতে হবে দীর্ঘ অনশন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি শেষ অবলম্বন হওয়া উচিত। যদি অনশন করতেই হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে করা উচিত। এবং ভাঙার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।
ডাবের পানি একটি আশীর্বাদ কিন্তু এটি একাই যথেষ্ট নয়। এর সাথে দরকার চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত যত্ন পর্যবেক্ষণ এবং ধৈর্য।
এই জ্ঞান আমাদের সাহায্য করে বুঝতে যে আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের পেছনে গভীর বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে। তারা হয়তো পটাশিয়াম বা ইলেকট্রোলাইটের নাম জানতেন না কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে জানতেন কোনটি কাজ করে।
আধুনিক বিজ্ঞান সেই প্রাচীন জ্ঞানকে প্রমাণ করেছে এবং আরো গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছে। এটি ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক সুন্দর মেলবন্ধন।
আপনার স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ান। এই তথ্যগুলো পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। কারণ সঠিক জ্ঞানই সুস্বাস্থ্যের প্রথম ধাপ।
আপনার কি এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন আছে। আপনার অভিজ্ঞতা কী। কমেন্টে জানান। আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।
প্রশ্ন অনশনের কতদিন পর সাধারণ খাবার খাওয়া নিরাপদ
উত্তর: এটি নির্ভর করে অনশনের সময়কালের ওপর। ২৪ ঘণ্টার অনশনের পর ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবারে ফেরা যায়। কিন্তু ৭ দিন বা তার বেশি সময়ের অনশনের পর সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারে ৭ থেকে ১০ দিন লাগতে পারে।
প্রশ্ন রিফিডিং সিনড্রোম কতটা সাধারণ
উত্তর: দীর্ঘমেয়াদী অনাহারের পর হঠাৎ খাবার খেলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে রিফিডিং সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই ঝুঁকি ১ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা যায়।
প্রশ্ন ডায়াবেটিস রোগী কি নিরাপদে ডাবের পানি পান করতে পারেন অনশন ভাঙার সময়
উত্তর:হ্যাঁ তবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। ডাবের পানিতে যে পরিমাণ চিনি আছে তা সাধারণত নিয়ন্ত্রিত এবং নিরাপদ। তবে রক্তের গ্লুকোজ নিয়মিত মনিটর করতে হবে এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন সমন্বয় করতে হবে।
প্রশ্ন প্যাকেটজাত ডাবের পানি কি তাজা ডাবের মতো কার্যকর
উত্তর:তাজা ডাব সবসময় ভালো। তবে ভালো মানের প্যাকেটজাত ডাবের পানিও কার্যকর যদি তাতে কোনো অতিরিক্ত চিনি বা প্রিজারভেটিভ না থাকে। লেবেল ভালোভাবে পড়ুন এবং ১০০ শতাংশ খাঁটি ডাবের পানি কিনুন।
প্রশ্ন অনশনে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি কী
উত্তর: সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা জলশূন্যতা এবং অঙ্গ বিকলতা। হার্ট কিডনি এবং লিভার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী অনশন মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য।
প্রশ্ন জুস বা অন্যান্য পানীয়ের পরিবর্তে শুধু ডাবের পানি কেন
উত্তর : ডাবের পানির ইলেকট্রোলাইট সংমিশ্রণ রক্তের খুব কাছাকাছি। এর চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত। এটি সহজপাচ্য এবং পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া করে না। অন্যান্য পানীয়তে হয় বেশি চিনি নয়তো কম ইলেকট্রোলাইট থাকে। ডাবের পানির ভারসাম্য আদর্শ।
প্রশ্ন অনশন কি শরীরের জন্য কোনোভাবে উপকারী
উত্তর: নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদী উপবাস যেমন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী অনশন ক্ষতিকর। এটি শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে করা উচিত এবং সেক্ষেত্রেও চিকিৎসা তত্ত্বাবধান থাকা জরুরি।
প্রশ্ন ডাবের পানি কি শিশুদের জন্য নিরাপদ অনশন ভাঙার ক্ষেত্রে
উত্তর: শিশুদের কখনো দীর্ঘমেয়াদী অনশন করানো উচিত নয়। তবে যদি কোনো কারণে শিশু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে তাহলে ডাবের পানি নিরাপদ বিকল্প। কিন্তু অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এবং পরিমাণ শিশুর ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
আপনার স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাক। সুস্থ থাকুন। আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখুন। জ্ঞানই শক্তি এবং সঠিক জ্ঞান জীবন বাঁচাতে পারে।
এই পোস্টটি যদি আপনার কাজে লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করুন। আপনার এক শেয়ার অন্যদের সচেতন করতে পারে। আর আমাদের পেজটি ফলো করুন নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক গভীর এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের জন্য।

.jpg)
0 Comments