বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নন খালেদা জিয়া: কী জানালেন বিএনপি মহাসচিব
![]() |
| লেখক -আলতাব মোল্লা |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল জানালেন—খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো বিদেশে নেওয়ার মতো নয়। চিকিৎসা, মেডিকেল বোর্ড ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত।
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
![]() |
| বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নন খালেদা জিয়া”—সংবাদ সম্মেলনে জানালেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। |
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে তার চিকিৎসা, অবস্থা ও বিদেশে নেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। শনিবার বিকেলে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান—খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি এখনো বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয়।
এই বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তার চিকিৎসা কোথায় দাঁড়িয়ে, চিকিৎসকেরা কী বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী, এবং সামনে কী ঘটতে পারে?
চলুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা যাক।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ আপডেট
এভারকেয়ার হাসপাতালে কয়েকদিনের সংকট
বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়া গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা “সংকটাপন্ন”।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত টিম
তিনি জানান—দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক, লন্ডনের বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট
—সবাই মিলে একটি বৃহৎ মেডিকেল বোর্ড থেকে তার চিকিৎসা পরিচালনা করছেন।
মেডিকেল বোর্ডের গতরাতের বৈঠক
মির্জা ফখরুল বলেন—
গত শুক্রবার রাতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বোর্ডের বৈঠক হয়। সেখানে
● সর্বশেষ টেস্ট রিপোর্ট
● চিকিৎসার পদ্ধতি
● ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পরিকল্পনা
এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তাদের অভিমত—খালেদা জিয়ার চিকিৎসা জটিল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং এখনই বিদেশে নেওয়া কঠিন।
“বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই”— কেন এমন বলছেন চিকিৎসকেরা?
বর্তমান পরিস্থিতি বিপজ্জনক
চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার—লিভার, কিডনি, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস
চোখের সমস্যা, রক্তে সংক্রমণ।
এ সব মিলিয়ে একটি অত্যন্ত জটিল ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন তৈরি হয়েছে।
মূল বাধা: ফ্লাইং কন্ডিশন
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশ নেওয়ার জন্য রোগীর শ্বাসযন্ত্র, কার্ডিও সিস্টেম এবং সংক্রমণের অবস্থা একটি নির্দিষ্ট স্থিতিশীল মাত্রায় থাকতে হয়।
চিকিৎসকদের ভাষায়—
“সেই স্থিতিশীল অবস্থায় তিনি এখনো পৌঁছাননি।”
বিদেশ নেওয়ার প্রস্তুতি— কী কী করা হয়েছে?
যদিও এখনই নেওয়া সম্ভব নয়, তবে প্রয়োজন হলে যেন দেরি না হয়, সেজন্য কয়েকটি উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—
১. সম্ভাব্য গন্তব্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ
যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা
—চিকিৎসার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে এগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
২. ভিসা প্রসেস
চিকিৎসকরা বলেন—যখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে, তখনই পদক্ষেপ নেবে পরিবার ও দল।
অনেক্ষেত্রেই মেডিকেল ভিসার জন্য বিশেষ ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়—সেগুলোর প্রস্তুতিও চলছে।
৩. এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং প্রসেস
বিশেষ চিকিৎসা সহ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: একদিকে উদ্বেগ, অন্যদিকে অভিযোগ
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার দোয়া প্রার্থনা
দেশেরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস
খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় সংকেত—জাতীয় ঐক্যের মানসিকতা তৈরি হতে পারে।
বিএনপির অভিযোগ: “সরকার দায়ী”
বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা একাধিক অভিযোগ তুলেছেন— কারাগারে ‘স্লো পয়জন’, জুলুম-নির্যাতনের ইতিহাস, অদক্ষ চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে অবস্থার অবনতি।
যদিও এসব দাবির প্রমাণ নেই, তবে রাজনৈতিকভাবে এটি বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্লেষণ: খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কেন এত জটিল?
১. বয়সজনিত জটিলতা
৭৯ বছর বয়সে শরীর স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
2. বহু বছর ধরে চলা দীর্ঘস্থায়ী রোগ
লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হাড়েরোগ, ডায়াবেটিস।
এসব দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা শ্বাসযন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
3. ইমিউনিটি লেভেল নিচে
সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।
4. আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফ্লাইং রিস্ক
যে রোগীরা শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তা বা লাইফ সাপোর্টে থাকেন—তাদের বিদেশে নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
চিকিৎসকদের যুক্তি—“উড়োজাহাজে সামান্য চাপের পরিবর্তনও বিপজ্জনক হতে পারে।”
পরিবারের অবস্থান: বিদেশে নেওয়ার পক্ষে
“যত দ্রুত সম্ভব বিদেশে উন্নত চিকিৎসা।”
তারা বিশ্বাস করেন— যুক্তরাজ্যে, জার্মানিতে
—খালেদা জিয়ার জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা পাওয়া যাবে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চিকিৎসকেরাই দেবেন।
বিএনপির ভেতরে উদ্বেগ: নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
● সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল
● দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মোনাজাত
● কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশেষ সভা
সব মিলিয়ে দলটির মধ্যে উৎকণ্ঠা চরম পর্যায়ে।
হাসপাতালের ভেতরের অবস্থা: চিকিৎসায় কী কী করা হচ্ছে?
● উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক
● রক্ত পরিশোধনসহ বিশেষায়িত থেরাপি
● লিভার সাপোর্ট
● অক্সিজেন থেরাপি
● নিয়মিত স্ক্যান ও টেস্ট
● আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের অনলাইন মনিটরিং
চিকিৎসকরা কী বলছেন?
“থেরাপি চলছে, তবে অবস্থার উন্নতি স্লো। যতক্ষণ না স্টেবল হচ্ছেন, বিদেশে নেওয়া অসম্ভব।”
গণমাধ্যম ও জনমতের প্রতিক্রিয়া
অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব—সব জায়গায় রীতিমতো আলোচনা চলছে।
অনেকে দাবি করছেন—
● সরকারের ওপর চাপ বাড়বে
● নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে
অন্যদিকে
● মানবিকারণে অনেকেই বিদেশে নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
সামনে কী হতে পারে?
তিনটি সম্ভাবনা


0 Comments