আজ শুক্রবার ৬রা অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১ নভেম্বার ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি
শরীর হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া রোগ জিবিএস—লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে সতর্কবার্তা
জিবিএস রোগে হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞদের সর্বশেষ সতর্কতা জানুন।
জিবিএস লক্ষণ ও চিকিৎসা
gbs-disease-symptoms-treatment-bangladesh
জিবিএস, স্বাস্থ্যখবর, বাংলাদেশ, পক্ষাঘাত, স্নায়ুরোগ, গিয়ান-বারে সিনড্রোম, শ্বাসকষ্ট, চিকিৎসা, আইসিইউ, নিউরোলজি, রোগলক্ষণ, হঠাৎ অবশ, হেলথ আপডেট, breaking news, Dhaka health
ঢাকায় জিবিএস রোগে বাড়ছে আতঙ্ক—বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
![]() |
শরীর হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া কখনোই সাধারণ নয়। জিবিএস বা গিলিয়েন-বারে সিনড্রোম দ্রুত চিকিৎসা ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে। প্রথম লক্ষণেই সতর্ক হোন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন। |
শরীর হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া রোগ জিবিএস—লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে সতর্ক করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গিয়ান-বারে সিনড্রোম (GBS) সম্পর্কে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন—প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে এই স্নায়ুরোগ দ্রুত পক্ষাঘাতে রূপ নিতে পারে।
What Happened (5W)
What: জিবিএস রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি
Who: ৩০–৩৫ বছর বয়সী পুরুষদের ঝুঁকি বেশি; সব বয়সে হতে পারে
Where: ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি হাসপাতালে নতুন রোগী শনাক্ত
When: গত দুই সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
Why: ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ পরবর্তী জটিলতা বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের
সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন—
“হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিনঝিন অনুভূতি বা শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসুন। জিবিএস চিকিৎসায় দেরি করলে রোগীর জীবন হুমকিতে পড়ে।”
কী এই জিবিএস?
গিয়ান-বারে সিনড্রোম (GBS) একটি অটোইমিউন স্নায়ুরোগ যেখানে রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম পেরিফেরাল স্নায়ুকে আক্রমণ করে। ফলে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চলাফেরা থেকে শুরু করে শ্বাস নেওয়া পর্যন্ত সব কিছুই ব্যাহত হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়—
“এটা মানবদেহের মাদারবোর্ডে আঘাত।”
লক্ষণ—যা দেখলেই সতর্ক হবেন
ব্রিটেনের NHS ও দেশীয় নিউরোলজিস্টদের তথ্য অনুযায়ী:
-
পায়ের পাতা, আঙুলে ঝিনঝিনি
-
ধীরে ধীরে পা → কোমর → হাত → মুখ অবশ হয়ে যাওয়া
-
পেশি ব্যথা, হাঁটতে না পারা
-
শ্বাস নিতে কষ্ট
-
খাবার গিলতে বা চিবাতে সমস্যা
-
মুখ ঝুলে পড়া
-
ডাবল ভিশন
রোগীদের এক-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়ে ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হয়।
কারণ—কেন হয় জিবিএস?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে—
জিবিএস-এর সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা।
তবে এগুলো পর দেখা যায় প্রায়ই জিবিএস শুরু হয়:
-
ভাইরাস সংক্রমণ (হার্পিস, এপস্টাইন-বার, জিকা)
-
ডায়রিয়া (ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর সংক্রমণ)
-
ইনফ্লুয়েঞ্জা
-
সার্জারি পরবর্তী জটিলতা
-
খুব কম ক্ষেত্রে—ফ্লুর টিকা পরেও হতে পারে
চিকিৎসা—যা করতে হয় দ্রুত
বাংলাদেশের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন—
“জিবিএস রোগে সময়ই সব। ৭–১৪ দিনের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে রোগী পুরোপুরি সেরে উঠতে পারে।”
প্রধান চিকিৎসা:
-
ইমিউনোথেরাপি (IVIG)
-
প্লাজমা এক্সচেঞ্জ (Plasmapheresis)
-
ফিজিওথেরাপি
-
ব্যথানাশক
-
শ্বাসকষ্টে আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন
-
রক্ত জমাট রোধে ওষুধ ও কমপ্রেশন স্টকিংস
সুস্থ হতে সময় লাগে:
-
হালকা ক্ষেত্রে: ৪–৬ সপ্তাহ
-
গুরুতর ক্ষেত্রে: ৬ মাস–৩ বছর
ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন—
“জিবিএস রোগীর ৮৫%–৯০% সম্পূর্ণ সুস্থ হয়। তবে দেরিতে চিকিৎসা নিলে স্থায়ী দুর্বলতা থেকে যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান—
“বাংলাদেশে রোগীর সচেতনতা কম। অনেকেই এটিকে সাধারণ দুর্বলতা ধরে বাড়িতে থাকে—এটাই সবচেয়ে বড় ভুল।”
জনগণের জন্য পরামর্শ
-
পা ঝিনঝিন বা অবশ হলে অবহেলা করবেন না
-
শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান
-
সাম্প্রতিক ভাইরাস, ডায়রিয়া বা ফ্লুর পর শরীর লক্ষ করুন
-
নিজে থেকে কোনো স্টেরয়েড বা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না
-
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
1. জিবিএস কি ছোঁয়াচে রোগ?
না। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়।
2. কীভাবে বুঝব আমার জিবিএস হয়েছে?
হঠাৎ পায়ের পাতা থেকে অবশভাব শুরু হয়ে ধীরে ধীরে উপরের দিকে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
3. জিবিএস কি সম্পূর্ণ সারানো যায়?
হ্যাঁ, সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়।
4. কারা বেশি ঝুঁকিতে?
৩০–৩৫ বছর বয়সী পুরুষদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি।
5. চিকিৎসা কোথায় পাওয়া যায়?
বাংলাদেশের সব বড় হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে জিবিএস চিকিৎসা হয়।

0 Comments