Advertisement

0

পৃথিবীর নিচে ‘ঢাকনা খুললে’ বেরিয়ে আসে ৭০ হাজার সাপ: কানাডার নার্সিসে প্রকৃতির অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী

পৃথিবীর নিচে ‘ঢাকনা খুললে’ বেরিয়ে আসে ৭০ হাজার সাপ: কানাডার নার্সিসে প্রকৃতির অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী

Dhaka News Desk | Science & Nature

প্রথমে মনে হবে—পৃথিবীর এক শান্ত প্রেইরি। বরফঢাকা ফাঁকা মাঠ, চারদিকে নির্জনতা। কিন্তু বসন্তের রোদ উঠতেই ঘটে এমন দৃশ্য, যা দেখলে শিহরণ ও বিস্ময় একই সঙ্গে ভর করবে মন!
মনে হবে—মাটির ঢাকনা খুলে গেছে, আর পাতাল থেকে উথলে উঠছে ৭০ হাজারেরও বেশি সাপ!

স্বপ্ন নয়, কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের নার্সিস স্নেক ডেনসে প্রতি বছর এমনই ঘটে। বিশ্বে আর কোথাও একসঙ্গে এত গারটার সাপ বের হতে দেখা যায় না। তাই অনেকের কাছে এই জায়গা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘সাপের রাজধানী’

কানাডার নার্সিসে ঘটে এমন এক দৃশ্য, যা পৃথিবীর আর কোথাও নেই! শীত শেষে সাত হাজার নয়—পুরো ৭০ হাজারেরও বেশি গার্টার সাপ একসঙ্গে বেরিয়ে আসে ভূগর্ভ থেকে। প্রকৃতির এই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত দেখতে প্রতি বছর হাজারো মানুষ ভিড় জমায় নার্সিস স্নেক ডেনে।

শীত এলেই পাতালে নেমে যায় সাপের সৈন্যদল

নার্সিস অঞ্চলের নিচে রয়েছে বিশাল চুনাপাথরের গুহা। উপরিভাগে মাত্র পাতলা মাটির স্তর।
শীতে তাপমাত্রা যখন নামতে থাকে হিমাঙ্কের ৩০–৪০ ডিগ্রি নিচে, তখন রেড-সাইডেড গারটার সাপদের টিকে থাকার একমাত্র উপায়—হাইবারনেশন

সারা শীত গুহায় জড়ো হয়ে একে অন্যের শরীরের উষ্ণতায় বেঁচে থাকে তারা। হাজার হাজার সাপ একসঙ্গে ঘন হয়ে থাকা—একটা স্বাভাবিক survival strategy

বরফ গলতেই শুরু হয় জীবনের জাগরণ

এপ্রিলের শেষ দিক।
গুহার ভিতরে প্রথম নড়েচড়ে বসে পুরুষ সাপেরা।
তারপর একে একে উঠে আসে মাটির ওপরে—রোদে গা গরম করার জন্য।

কিন্তু প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশ শুরু হয় যখন মেয়ে সাপেরা বেরিয়ে আসে।

প্রকৃতির অদ্ভুত নাটক—‘মেটিং বল’

একটি মেয়ে সাপকে ঘিরে শত শত পুরুষ সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে ফেলে। দেখতে মনে হয় জীবন্ত সাপ দিয়ে তৈরি কোনো নড়তে থাকা গোলক।

এই দৃশ্যকে বলা হয়—‘মেটিং বল’
ফারোমোন, সময়-সংকেত আর প্রাকৃতিক প্রবৃত্তির নিখুঁত সমন্বয়ে এই ‘রোমাঞ্চকর’ প্রজনন-উৎসব কয়েক দিন ধরে চলে। এ সময়ে পুরুষ সাপেরা খাওয়াদাওয়াও বন্ধ রাখে—মেয়েকে আকৃষ্ট করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

এমন দৃশ্য পৃথিবীর আর কোথাও এভাবে দেখা যায় না।

কেন নার্সিসই সাপদের ‘বিশ্বের রাজধানী’?

✔ চুনাপাথরের গুহা শীতে উষ্ণতা ধরে রাখে
✔ অতিমাত্রায় ঠান্ডা জলবায়ুতে ওপরে থাকা অসম্ভব
✔ হাজার হাজার সাপ একসঙ্গে থাকলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে
✔ ভূগর্ভের জটিল সুড়ঙ্গ সাপদের প্রাকৃতিক নিরাপদ আশ্রয়

একসময় মৃত্যু ফাঁদ, এখন বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষণকেন্দ্র

১৯৮০-এর দশকে ইউরোপীয় বস settlers সাপ দেখে আতঙ্কে হাজারে হাজারে মেরে ফেলত। বাণিজ্যিকভাবেও সংগ্রহ করা হতো।
ফলে সংখ্যা ভয়ংকরভাবে কমে যায়।

পরে বিজ্ঞানীরা গুরুত্ব বুঝে গবেষণা শুরু করেন।
ম্যানিটোবা ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস এলাকা রক্ষায় এগিয়ে আসে। তৈরি হয়:

  • স্নেক ফেন্স

  • স্নেক টানেল

  • পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম

  • বিশেষ গবেষণা অঞ্চল

এখন নার্সিস স্নেক ডেনস বিশ্বের সবচেয়ে বড় গারটার সাপ সংরক্ষণকেন্দ্র

এখন সাপ দেখতে ভিড় জমায় হাজারো পর্যটক

বসন্তজুড়ে এখানে চলে উৎসবের মতো ভিড়।

স্কুল বাস, পর্যটক, নেচার ফটোগ্রাফার, গবেষক, ভ্রমণ ব্লগার

উইনিপেগ থেকে দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার।
পার্কের ভেতরে সারা ও স্যাম নামে দুই বিশাল সাপের ভাস্কর্যও রয়েছে—এলাকার পরিচয়ের প্রতীক।

কখন গেলে দেখা মিলবে ৭০ হাজার সাপের?

সেরা সময়: এপ্রিলের শেষ – মে’র প্রথম সপ্তাহ
 বরফ গলার পর ১০–১২ দিন
 রোদ থাকলে সাপ ওপরে উঠে বেশি দেখা যায়
 মেঘলা দিনে থাকে পাতালেই ভয় নয়, এ এক নিখুঁত বিবর্তনের পাঠ

নার্সিসে দাঁড়ালে মানুষ বুঝতে পারে—
সাপ মানে শুধু ভয়, আতঙ্ক বা অন্ধবিশ্বাস নয়।
প্রকৃতি কত অসাধারণভাবে নিজেকে সাজিয়ে রাখে—তার এক জীবন্ত উদাহরণ এই পাতালের রাজ্য।

৭০ হাজার সাপ একসাথে বেরিয়ে আসার এই দৃশ্য শুধু চোখ ধাঁধিয়ে দেয় না—মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনোই একমাত্র ফুল-পাখিতে সীমাবদ্ধ নয়।

Post a Comment

0 Comments