Advertisement

0

২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বঙ্গভবন

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী।


 ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তার জীবন, ক্যারিয়ার ও বিচারিক দর্শনের বিশ্লেষণ।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বঙ্গভবন

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেওয়ার এই মুহূর্ত শুধু একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে আইন অঙ্গনে কাজ করা এই বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগ কোন পথে এগোবে—সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিকতা

রোববার, ২৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই শপথের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা শপথ গ্রহণের তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নিয়োগের সাংবিধানিক ভিত্তি

এর আগে ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়—

সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়ায় তা আইনগতভাবে পূর্ণ বৈধতা লাভ করে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর কর্মজীবনের শুরু

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর আইন পেশায় যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে।                    

তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য ধাপগুলো হলো—            

১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু

১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ

২০০৫ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

২০২৪ সালের ১২ আগস্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ

২০২৫ সালে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ

এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছেন, যা দেশের বিচারিক নজিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষাজীবন ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা

শিক্ষাজীবনে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ছিলেন মেধাবী ও মনোযোগী শিক্ষার্থী।

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা—

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম

যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম

আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ফলে তার বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বৈশ্বিক আইনি মানদণ্ডের প্রতিফলন দেখা যায় বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বিচারিক দর্শন ও আইনি অবস্থান

আইন বিশ্লেষকদের মতে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বিচারিক দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

সংবিধানের মৌলিক চেতনার প্রতি দৃঢ় অনুগত থাকা

নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া

বিচারিক স্বাধীনতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আপসহীন মনোভাব

যুক্তিনির্ভর ও ভারসাম্যপূর্ণ রায় প্রদান

তার পূর্ববর্তী রায়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি কখনোই জনপ্রিয়তার চাপে নয়, বরং আইনের ভাষা ও ন্যায়বোধের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

নতুন প্রধান বিচারপতির সামনে চ্যালেঞ্জ

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে—

মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও বিচার বিলম্ব

নিম্ন আদালতে মামলার চাপ

ডিজিটাল জুডিশিয়ারি বাস্তবায়ন

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনআস্থার প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আইন অঙ্গনের প্রত্যাশা

সুপ্রিম কোর্টের একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতে, তার নেতৃত্বে—

মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে

বিচার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে

সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির পথ সহজ হবে

আইন অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব

প্রধান বিচারপতির পদ শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম স্তম্ভ। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিচার বিভাগে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন

২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত পটভূমি এবং দৃঢ় বিচারিক অবস্থানের কারণে তার নেতৃত্বে বিচার বিভাগ আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হবে—এমন প্রত্যাশাই দেশবাসীর।                       

আপনি যদি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা, সংবিধান ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়োগ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ নিয়মিত পেতে চান, তাহলে Dhaka News–এর সঙ্গে থাকুন।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী কবে প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন

২৮ ডিসেম্বর সকালে বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

তিনি কোন নম্বর প্রধান বিচারপতি

তিনি বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি।

শপথ বাক্য কে পাঠ করান

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করান।

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কী

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম এবং যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার নিয়োগ কবে কার্যকর হয়

শপথ গ্রহণের তারিখ থেকেই তার নিয়োগ কার্যকর হয়।


{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "News Article",

  "headline": "২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী",

  "description": "বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তার জীবন, ক্যারিয়ার ও বিচারিক দর্শনের বিশ্লেষণ।",

  "date Published": "2025-12-28",

  "author": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  }

}

Post a Comment

0 Comments