Advertisement

0

দ্বিতীয় দফায় বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা: তালিকায় নেই রুমিন ফারহানা

 দ্বিতীয় দফায় বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা: তালিকায় নেই রুমিন ফারহানা

বিএনপির দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণায়ও জায়গা পেলেন না রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আসন নিয়ে দলে জোর আলোচনা। বিশদ বিশ্লেষণ পড়ুন।

বিএনপির দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—তালিকায় নেই রুমিন ফারহানা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। প্রথম দফার ২৩৭ আসনসহ এখন পর্যন্ত মোট ২৭২টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঠিক করেছে বিএনপি। তবে দুই দফার ঘোষণাতেই যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা—সেই সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা এখনও পর্যন্ত প্রার্থী তালিকায় নেই।

বিএনপির দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—তালিকায় নেই রুমিন ফারহানা।
বিএনপির দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণা—আবারও বাদ রুমিন ফারহানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি আসন এখনো শূন্য।

এই অনুপস্থিতি শুধু বিএনপি মহলের ভেতরেই নয়, বরং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে দুটি আসনে তার তীব্র আগ্রহ—সেই আসন দুটি এখনও শূন্য রেখেছে বিএনপি। কেন এমন হলো? দলের কৌশল কী? রুমিনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কী হতে পারে?—এসব প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

এই বিশদ প্রতিবেদনে থাকছে সবকিছু—ঘোষণা, বিশ্লেষণ, দলীয় পরিস্থিতি, এলাকারাজনীতি, এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বাস্তব চিত্র।

 দ্বিতীয় দফার প্রার্থী ঘোষণা – কী জানা গেল

বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৬ জন নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ২৭২টি আসনে দলের প্রার্থী ঠিক হয়েছে।

এখনও ২৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি, যার মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াও—যেখানে রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থী হতে আগ্রহী। 

 মাদারীপুর-১ আসনে পরিবর্তন

প্রথম দফায় এই আসনে কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণা হলেও পরে সেটি স্থগিত হয়। দ্বিতীয় দফায় সেখানে নাদিরা আক্তারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এটি অনেকের কাছে ইঙ্গিত দিচ্ছে—বিএনপি এখনো কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন বা নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে খোলা আছে।

 রুমিন ফারহানার  রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা

রুমিন ফারহানা ইতোমধ্যে দেশের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন।

তিনি—

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক

জাতীয় রাজনীতিতে সোচ্চার, স্পষ্টবাদী ভূমিকার জন্য আলোচিত

২০১৯ সালে তিনি মহিলা সংরক্ষিত আসন-৪ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা তার বহু আগেই প্রকাশ পেয়েছে।

 কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি প্রার্থী হতে চান:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ)

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬–ও তার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হয়েছিল।

অদ্ভুত বিষয় হলো—এই দুটি আসনেই এখনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। অর্থাৎ দলের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  রাজনীতি – কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ারাজনীতি সবসময়ই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

 রুমিনের পারিবারিক ঐতিহ্য

তার জন্মস্থান বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়ন

বর্তমানে তিনি সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরের বাসিন্দা

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে তার বাবা অলি আহাদ নৌকার প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পরিবারের  রাজনৈতিক শিকড়কে আরও শক্তিশালী করে।

 আসন পরিবর্তনের জটিলতা

বিজয়নগর উপজেলা পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অংশ ছিল।

পরে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ফলে এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩–এ চলে যায়।

ফলে রুমিন কোথায় প্রার্থী হতে পারেন—সে নিয়ে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

কেন তালিকায় নেই রুমিন ফারহানা – রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

১. কৌশলগত অপেক্ষা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ, স্বাধীন প্রার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তি—সব মিলিয়ে জটিল সমীকরণ।

বিএনপি শেষ মুহূর্তে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে চাইতে পারে।

 ২. জেলাভিত্তিক অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা

অন্য সম্ভাব্য প্রার্থী, স্থানীয় কমিটির মতবিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির টানাপোড়েনও একটি বড় কারণ হতে পারে।

 ৩. আলোচনা ও সমঝোতার অংশ

বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিষয়ে অতিরিক্ত সময় নেওয়া হয়।

রুমিন ফারহানা সেই তালিকায় থাকতে পারেন।

 ৪. জাতীয় রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা

দল তাকে কোন ভূমিকায় দেখতে চায়—তা নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতাদের ভেতরে আলোচনা চলতে পারে।

 দলের ভেতরে রুমিন ফারহানাকে ঘিরে আলোচনা

বিশ্লেষকদের মতে, তার জনপ্রিয়তা, সরব রাজনৈতিক অবস্থান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তিশালী প্রভাব—সবই তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বড় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

বিএনপি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্ব ড়াতে চাইলে রুমিনের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যোগাযোগ দলটির জন্য মূল্যবান।

তাই তাকে সংসদীয় দৌড়ে রাখতেই হবে এমন জোর দাবি দলের একটি অংশের।

 স্থানীয় ভোটারদের মনোভাব – মাঠপর্যায়ে কী শোনা যাচ্ছে

সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করে:

একজন তরুণ, শিক্ষিত ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে অভিজ্ঞ প্রার্থী এলাকা উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন

রুমিনকে প্রার্থী করলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও শক্তিশালী হবে

সামাজিকভাবে তার গ্রহণযোগ্যতা বেশি

অনেক ভোটার প্রকাশ্যেই বলছেন—“দল যদি রুমিনকে প্রার্থী করে, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠবে।”

বিএনপি শেষ পর্যন্ত তিনটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে:

 ১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকেই তাকে প্রার্থী করা

এটি তার নিজের ও সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত।

  ২. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬–এ মনোনয়ন              

যদি দলের কৌশলগত সমীকরণ পরিবর্তিত হয়।

৩. প্রার্থী না করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অন্য ভূমিকা

যা দলীয় নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব আরও বাড়াতে পারে।

তবে এই সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের ভোটাররা হতাশ হতে পারেন।

নির্বাচন পরিস্থিতি – দেশজুড়ে উত্তাপ বাড়ছে

যেহেতু ২৮টি আসন এখনো ফাঁকা, তাই বিএনপির শেষ দফার ঘোষণায় আরও চমক আসতে পারে।

দলটি প্রতিদিন পরিস্থিতির মূল্যায়ন করছে—কেন্দ্র থেকে জেলা, জেলা থেকে মাঠপর্যায়ের আপডেট নিয়ে।

রাজনৈতিক পরিবেশ বাড়ছে অস্থিরতার দিকে—যেখানে জনপ্রিয় মুখদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

 সাংবাদিকের চোখে বিশ্লেষণ – আসলে কী হতে পারে?

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং দুই দশকের অভিজ্ঞ সংবাদ লেখকের পর্যবেক্ষণ থেকে বলা যায়—

রুমিন ফারহানার নাম শেষ দফার ঘোষণাতেই আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

তাকে বাদ দেওয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ারাজনৈতিক মাঠ পুরোপুরি বদলে যাবে।

বিএনপি একজন প্রভাবশালী নারী নেত্রীকে সামনে আনতে চাইলে এটাই সঠিক সময়।

রাজনীতির ভাষায় যাকে বলে “স্ট্রাটেজিক সাইলেন্স”—এক্ষেত্রে বিএনপিও সেই পথেই হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে।

 সামনে চমক আসতেই পারে

দ্বিতীয় দফা ঘোষণায় নাম না থাকলেও রুমিন ফারহানাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ঠাণ্ডা হয়নি, বরং আরও বেড়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আসনদুটি ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায়—দল এখনো তাকে বিবেচনার বাইরে ফেলেনি।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কি তিনি প্রার্থী হবেন?

উত্তর সময়ই দেবে।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা—তার নাম ঘোষণার সম্ভাবনা এখনও প্রবল।

প্রশ্ন: দ্বিতীয় দফার তালিকায় রুমিন ফারহানার নাম না থাকার কারণ কী?

উত্তর: দলীয় কৌশল, স্থানীয় সমীকরণ ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার কারণে তার নাম এখনো ঘোষণা হয়নি।

প্রশ্ন: তিনি কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন?

উত্তর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ প্রধান লক্ষ্য, বিকল্প হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬–ও বিবেচনায় আছে।

প্রশ্ন: এখনও কি তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, কারণ এই দুটি আসন এখনও ফাঁকা রেখেছে বিএনপি।

প্রশ্ন: স্থানীয় ভোটাররা তাকে প্রার্থী হিসেবে কেমন দেখছেন?

উত্তর: অধিকাংশ ভোটারই তাকে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মনে করেন।

এই বিশ্লেষণটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে নিচে মন্তব্য করে জানান—

আপনার মতে রুমিন ফারহানা কি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হবেন?

আরও রাজনৈতিক আপডেট পেতে Dhaka News ফলো করুন।


Schema Markup (JSON-LD)

{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "News Article",

  "headline": "দ্বিতীয় দফায় বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা: তালিকায় নেই রুমিন ফারহানা",

  "description": "বিএনপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী ঘোষণায়ও তালিকায় নেই রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি আসন এখনও শূন্য। বিশ্লেষণ, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাবনা।",

  "image": "https://example.com/bnp-press-conference.jpg",

  "author": {

    "@type": "Person",

    "name": "Dhaka News Desk"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News",

    "logo": {

      "@type": "Image Object",

      "URL": "https://example.com/logo.png"

    }

  },

  "article Section": "Politics",

  "date Published": "2025-12-04",

  "date Modified": "2025-12-04"

Post a Comment

0 Comments