Advertisement

0

মিয়ানমারে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দাবি জান্তা প্রধানের, প্রশ্নে গণতন্ত্র

 মিয়ানমারে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দাবি জান্তা প্রধানের, প্রশ্নে গণতন্ত্র

মিয়ানমারে পাঁচ বছর পর সামরিক জান্তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন। অবাধ ও সুষ্ঠু দাবি করলেও সহিংসতা, দমননীতি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগে প্রশ্নবিদ্ধ ভোট।

মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে ভোট প্রদান শেষে বক্তব্য দিচ্ছেন সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং

মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে ভোট প্রদান শেষে বক্তব্য দিচ্ছেন সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং

সামরিক জান্তার অধীনে জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে দাবি করেছেন মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং, তবে বাস্তবতায় গণতন্ত্র নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে মিয়ানমার। প্রায় পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, ভোট হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠু। কিন্তু বাস্তবতা, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং কঠোর সেনা নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য—তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে।

মিয়ানমারে নির্বাচন: প্রেক্ষাপট ও সময়কাল

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার কার্যত একটি সেনাশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী, যার ফলে দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি।

এই নির্বাচনের পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো

অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন

বেসামরিক রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ সীমিত

সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ

দেশজুড়ে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকট

জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের বক্তব্য

রোববারাজধানী নেইপিদোতে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বলেন, মিয়ানমারে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।

তার বক্তব্যের মূল দিকগুলো

নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বলে দাবি

সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার কথা উল্লেখ

আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থন

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক বাহিনী নিজেদের নাম কলঙ্কিত হতে দেবে না।

ভোটগ্রহণের বাস্তব চিত্র

স্থানীয় সময় সকাল থেকেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইয়াঙ্গুনসহ কয়েকটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র খোলা হলেও উপস্থিতি ছিল সীমিত।

বিশেষভাবে নজর কাড়ে

অং সান সু চির পরিত্যক্ত বাড়ির কাছাকাছি ভোটকেন্দ্র

কঠোর নিরাপত্তা ও সেনা নজরদারি

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা

এটি স্পষ্ট করে দেয়, নির্বাচন হলেও পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়।

অং সান সু চি ও গণতান্ত্রিক শক্তির অনুপস্থিতি

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি বর্তমানে বন্দি। তার দল কার্যত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে

প্রধান বিরোধী শক্তি ছাড়া নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য

ভোটারদের প্রকৃত পছন্দ প্রকাশের সুযোগ আছে কি না

এই নির্বাচন আদৌ গণতন্ত্রের পথে কোনো অগ্রগতি কিনা

সহিংসতা ও মানবিক সংকট

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

চলতি বছরের মার্চে

একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প

বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ

মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়

এই অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

গণমাধ্যম ও তথ্য নিয়ন্ত্রণ

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক জান্তা

খাদ্য সংকট সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখছে

গবেষক ও ত্রাণকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে

স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া অবাধ নির্বাচন কতটা সম্ভব—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান।

তাদের উদ্বেগের জায়গাগুলো

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি না দেওয়া

সহিংসতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগের অভাব

অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতি

অনেক দেশ এই নির্বাচনকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন মূলত

সামরিক জান্তার বৈধতা প্রদর্শনের প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল

অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার একটি ধাপ

তাদের মতে, প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন

রাজনৈতিক সংলাপ

সব দলের অংশগ্রহণ

সহিংসতার অবসান

আসিয়ান ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব

মিয়ানমারের পরিস্থিতি আসিয়ান জোটের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

কারণ

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে

শরণার্থী সংকট বাড়ছে

কূটনৈতিক সমাধান জটিল হয়ে উঠছে

এই নির্বাচন আসিয়ানীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভবিষ্যৎ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে

এই নির্বাচন যদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি না পায়, তাহলে

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকতে পারে

আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়তে পারে

অভ্যন্তরীণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে

অন্যদিকে, জান্তা সরকার এটিকে ক্ষমতায় থাকার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে দাবি করলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সহিংসতা, রাজনৈতিক বন্দিত্ব, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন প্রকৃত গণতন্ত্রের মানদণ্ডে কতটা উত্তীর্ণ—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি, এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ জানতে নিয়মিত অনুসরণ করুন Dhaka News। নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

মিয়ানমারে নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচন কে পরিচালনা করছে

সামরিক জান্তার তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে।

অং সান সু চি কি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেনা, তিনি বর্তমানে বন্দি এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে।

আন্তর্জাতিক মহল কেনির্বাচন নিয়ে সন্দিহান

সহিংসতা, রাজনৈতিক দমননীতি ও স্বাধীন গণমাধ্যমের অভাবের কারণে।

এই নির্বাচন কি মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা অনিশ্চিত।


{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "News Article",

  "headline": "মিয়ানমারে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দাবি জান্তা প্রধানের, প্রশ্নে গণতন্ত্র",

  "description": "মিয়ানমারে সামরিক জান্তার অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দাবি ও বাস্তবতার বিশ্লেষণ।",

  "author": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "date Published": "2025-12-28"

}


Post a Comment

0 Comments