২৫৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা: জামায়াতের দখলে ১৭৯ আসন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াত পেল ১৭৯, এনসিপি ৩০ আসন।
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে নেতারা, ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণার মুহূর্ত, ঢাকা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও সমঝোতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো—আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামপন্থি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো একটি সুসংগঠিত ব্লকে পরিণত হতে চাইছে। সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যা রাজনৈতিক অঙ্কে বড় ধরনের বার্তা দিচ্ছে।
![]() |
| ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানের বার্তা দিল ১১ দলীয় ঐক্য—সবচেয়ে বেশি ১৭৯ আসন পেল জামায়াতে ইসলামী। |
এই প্রতিবেদনটি আপনাকে জানাবে—কে কত আসন পেল, এই সমঝোতার রাজনৈতিক তাৎপর্য কী, নির্বাচনী মাঠে এর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এর সম্ভাব্য ফলাফল।
২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা: কী সিদ্ধান্ত নিল ১১ দলীয় ঐক্য
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষণাটি পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়—এই সমঝোতা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রয়াস।
কোন দল কত আসন পেল: পূর্ণাঙ্গ তালিকা
আসন সমঝোতা অনুযায়ী বণ্টন নিম্নরূপ—
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী – ১৭৯ আসন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) – ৩০ আসন
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস – ২০ আসন
খেলাফত মজলিস – ১০ আসন
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) – ৭ আসন
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) – ৩ আসন
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি – ২ আসন
বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি – ২ আসন
মোট আসন: ২৫৩
এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট—এই জোটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে সামনে রাখা হয়েছে।
যেসব দলের আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকলে আসন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে অথবা পুনর্বিন্যাস হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শীর্ষ নেতারা
এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন দেশের আলোচিত রাজনৈতিক নেতারা—
ডা. শফিকুর রহমান – আমির, জামায়াতে ইসলামী
নাহিদ ইসলাম – আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি
অলি আহমদ – সভাপতি, এলডিপি
মাওলানা মামুনুল হক – আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
হামিদুর রহমান আযাদ – ১১ দলের সমন্বয়ক
মজিবুর রহমান মঞ্জু – চেয়ারম্যান, এবি পার্টি
নেতাদের উপস্থিতি এই ঐক্যের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
কেন এত বেশি আসন পেল জামায়াতে ইসলামী
১৭৯ আসন জামায়াতকে দেওয়ার পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে—
দেশব্যাপী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক
মাঠপর্যায়ের কর্মী শক্তি
নিয়মিত রাজনৈতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা
ইসলামপন্থি ভোটব্যাংকে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, জামায়াতকে সামনে রেখে বাকিরা একটি সমন্বিত নির্বাচনী লড়াইয়ের কৌশল নিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য এই সমঝোতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ
৩০ আসন পাওয়া এনসিপির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন। নবীন দল হয়েও তারা জাতীয় পর্যায়ে একটি দৃশ্যমান অবস্থান তৈরি করতে পারছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এই সমঝোতা এনসিপিকে ভবিষ্যতের বড় বিরোধী শক্তিতে রূপ দিতে পারে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ১১ দলীয় ঐক্য আসন্ন নির্বাচনে কয়েকটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে—
বিরোধী ভোট বিভাজন কমবে
ইসলামপন্থি ভোট একত্রিত হবে
কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
নির্বাচনী মাঠে নতুন মেরুকরণ
এটি ক্ষমতাসীনদের জন্যও একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন,
এই সমঝোতা শুধু আসন ভাগাভাগি নয়, এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা। যদি মাঠে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সাধারণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ দেখছেন এটি বিকল্প রাজনীতির সূচনা, কেউ আবার সন্দিহান বাস্তব ফলাফল নিয়ে।
সামনে কী হতে পারে
পরবর্তী ধাপে সম্ভাব্য যে বিষয়গুলো সামনে আসবে—
প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
ইশতেহার ঘোষণা
সমন্বিত নির্বাচনী প্রচারণা
আরও দল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা
২৫৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এই প্রার্থী ঘোষণা নিঃসন্দেহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বে এই জোট কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সংগঠন, ভোটার আস্থা ও নির্বাচনী পরিবেশের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ঐক্যকে আর উপেক্ষা করা যাবে না।
আপনি কি মনে করেন এই ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান এবং Dhaka News–এ চোখ রাখুন সর্বশেষ রাজনৈতিক আপডেটের জন্য।
প্রশ্ন: ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য কত আসনে প্রার্থী দিয়েছে
উত্তর: মোট ২৫৩টি আসনে।
প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশি আসন কোন দল পেয়েছে
উত্তর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ১৭৯টি আসন।
প্রশ্ন: এনসিপি কয়টি আসন পেয়েছে
উত্তর: জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৩০টি আসন।
প্রশ্ন: সব দলের আসন কি চূড়ান্ত
উত্তর: না, কয়েকটি দলের আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

0 Comments