আজ শনিবার ১০ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা শাবান ১৪৪৭ হিজরি
তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী
ঢাকা নিউজ ডেস্ক
তানজিদ তামিমের অনবদ্য সেঞ্চুরি ও বিনুরা–হাসান মুরাদের বোলিংয়ে চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিপিএল শিরোপা জিতল রাজশাহী।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, তানজিদ তামিম, বিপিএল ফাইনাল—এই তিনটি নামই শুক্রবারেরাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হতাশায় ডুবিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তানজিদ তামিমের ব্যাট থেকে আসা অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচটি একপেশে রূপ নেয়। এই ফাইনাল শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়, এটি ছিল আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা ও চাপ সামলানোর ক্লাসিক উদাহরণ।
![]() |
| চাপের ফাইনালে তানজিদ তামিমের অনবদ্য সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিপিএল ট্রফি উঁচিয়ে ধরল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। |
ফাইনালের সংক্ষিপ্ত ফলাফল এক নজরে
ভেন্যু: শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর
ফলাফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স জয়ী
ব্যবধান: ৬৩ রান
রাজশাহী: ৪ উইকেটে ১৭৪ রান
চট্টগ্রাম: ১৭.৫ ওভারে ১১১ রান অলআউট
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তানজিদ তামিম
তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি: ফাইনালের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংস
ফাইনালের মঞ্চে সেঞ্চুরি করা সব সময়ই বিশেষ কিছু। আর তানজিদ তামিম সেটিকে রূপ দিলেন এক অনন্য অধ্যায়ে। ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংসে তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, হিসেবি এবং একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক।
এই ইনিংসে ছিল
৬টি চার
৭টি বিশাল ছক্কা
স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৬১
প্রথম বল থেকেই তানজিদ বুঝিয়ে দেন, তিনি বড় কিছু করতে এসেছেন। পাওয়ার প্লেতে ঝুঁকি না নিয়ে গ্যাপ খুঁজে রানেওয়া, মাঝের ওভারে স্পিনারদের উপর চড়াও হওয়া এবং শেষ দিকে বড় শট—সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি পরিপূর্ণ টি–টোয়েন্টি ইনিংস।
বিপিএল ইতিহাসে তানজিদ তামিমের অবস্থান
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে তানজিদ তামিম বিপিএলের ইতিহাসে নিজের জায়গা আরও শক্ত করলেন।
গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড
বিপিএলে তানজিদের মোট সেঞ্চুরি: ৩টি
বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান
তার ওপরে কেবল ক্রিস গেইল, যার আছে ৫টি সেঞ্চুরি
এর আগে
২০২৪ বিপিএলে খুলনার হয়ে ৬৫ বলে ১১৬
২০২৫ বিপিএলে ঢাকার হয়ে রাজশাহীর বিপক্ষে ৬৪ বলে ১০৮
ফাইনালের সেঞ্চুরি তাই কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি তার মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ।
উদ্বোধনী জুটি: রাজশাহীর শক্ত ভিত
সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে তানজিদ গড়েন ১০.২ ওভারে ৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই জুটি রাজশাহীকে এনে দেয় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ।
সাহিবজাদা ফারহান
৩০ বলে ৩০ রান
স্ট্রাইক রোটেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ফারহান আউট হলেও তানজিদ ছন্দ হারাননি। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের গতি বাড়াতে থাকেন।
মিডল ওভারে কেন উইলিয়ামসনের অবদান
ফারহানের বিদায়ের পর কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তানজিদ।
কেন উইলিয়ামসন
২৪ রান
চাপ সামলে ইনিংস গড়ার ভূমিকা
এই জুটিই রাজশাহীর ইনিংসকে ১৭০–এর ঘরে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
চট্টগ্রামের রান তাড়ায় ধসের শুরু
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস।
তৃতীয় ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বিনুরা ফার্নান্দো একই ওভারে ফেরানাইম শেখ ৯
মাহমুদুল হাসান জয় ০
এরপর থেকেই স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়তে থাকে।
মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা
চট্টগ্রামের মিডল অর্ডার এই ফাইনালে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
আউট হওয়া ব্যাটাররা
হাসানাওয়াজ ১১
জাহিদুজ্জামান ১১
শেখ মেহেদী ৪
১৪ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৯২ রান। ম্যাচ তখন প্রায় রাজশাহীর হাতের মুঠোয়।
তাহির বেগের লড়াই, কিন্তু যথেষ্ট নয়
তাহির বেগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন।
তাহির বেগ
৩৯ রান
ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোর
শেষ দিকে আসিফ আলী ১৬ বলে ২১ রান করলেও তাতে ম্যাচের ভাগ্য বদলায়নি।
বোলিংয়ে রাজশাহীর নিয়ন্ত্রিত আধিপত্য
এই ফাইনালে রাজশাহীর বোলাররা ছিলেনিখুঁত।
বিনুরা ফার্নান্দো
৪ ওভার
৯ রান
৪ উইকেট
হাসান মুরাদ
৩ উইকেট
১৫ রান
এই দুটি স্পেলই চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেয়।
কৌশলগত বিশ্লেষণ: কেন রাজশাহী এগিয়ে ছিল
এই ফাইনালে রাজশাহী এগিয়ে ছিল তিনটি জায়গায়।
প্রথমত
শক্তিশালী ওপেনিং জুটি
দ্বিতীয়ত
চাপ সামলে ইনিংস গড়ার অভিজ্ঞতা
তৃতীয়ত
ডেথ ওভারে নিখুঁত বোলিং পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম যেখানে বারবার উইকেট হারিয়েছে, রাজশাহী সেখানে ধৈর্য ধরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।
চট্টগ্রামের হতাশা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা
চট্টগ্রাম রয়্যালসের জন্য এটি ছিল আরেকটি হৃদয়ভাঙা ফাইনাল। শিরোপার খুব কাছে গিয়েও আবারও ব্যর্থতা।
বিশ্লেষকদের মতে, তাদের দরকার
আরও স্থিতিশীল ওপেনিং
মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ ব্যাটার
চাপের ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা
বাংলাদেশি ক্রিকেটে এই ফাইনালের প্রভাব
এই ফাইনাল প্রমাণ করেছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে তরুণ ব্যাটারদের উত্থান কতটা আশাব্যঞ্জক। তানজিদ তামিম এখন জাতীয় দলের জন্যও বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
চট্টগ্রামকে হতাশায় ডুবিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দ্বিতীয়বারের শিরোপা জয় শুধু একটি ট্রফির গল্প নয়, এটি পরিকল্পনা, ধৈর্য ও সাহসের জয়গাথা। তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি এবং বোলারদের শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্স এই ফাইনালকে স্মরণীয় করে রাখবে বহুদিন। বিপিএলের ইতিহাসে এই ম্যাচ একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হয়ে থাকবে।
আপনি যদি এমন গভীর বিশ্লেষণ, ব্রেকিং স্পোর্টস নিউজ ও এক্সক্লুসিভ ফিচার নিয়মিত পড়তে চান, তাহলে এখনই Dhaka News ফলো করুন এবং শেয়ার করুন এই প্রতিবেদনটি।
প্রশ্ন: বিপিএল ফাইনালে কে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন
উত্তর: তানজিদ তামিম।
প্রশ্ন: রাজশাহী কয় রানে জয় পেয়েছে
উত্তর: ৬৩ রানে।
উত্তর: এটি তার তৃতীয় বিপিএল সেঞ্চুরি।
প্রশ্ন: চট্টগ্রামের পক্ষে সর্বোচ্চ রান কে করেছেন
উত্তর: তাহির বেগ, ৩৯ রান।
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "News Article",
"headline": "তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী",
"description": "তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি ও রাজশাহীর বোলিংয়ে চট্টগ্রামকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিপিএল শিরোপা জয়।",
"author": {
"@type": "Person",
"name": "Dhaka News Sports Desk"
},
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "Dhaka News",
"logo": {
"@type": "Image Object",
"URL": "https://dhakanews.com/logo.png"
}
},
"date Published": "2026-01-23",
"mainEntityOfPage": {
"@type": "Webpage",
"@id": "https://dhakanews.com"
}
}

0 Comments