আজ মঙ্গলবার ৭রা মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ রজব ১৪৪৭ হিজরি
বাবুই পাখির অদ্ভুত বাসা: প্রকৃতির স্থপতি রহস্য!
মেটা বর্ণনা: বাবুই পাখির বাসা তৈরির অবিশ্বাস্য গল্প—পুরুষ পাখির পরিশ্রম, নকশা এবং মেয়ে পাখির চয়ন। বাংলাদেশের এই পাখির জীবনধারা, তথ্য এবং ছবি সহ বিস্তারিত। প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য!
একবার ঢাকার উপকণ্ঠে একটা গ্রামে গিয়ে দেখি, একটা পাম গাছে ঝুলছে অদ্ভুত আকারের বাসা, যেন কোনো স্থপতির হাতে তৈরি। স্থানীয়রা বললেন, এটা বাবুই পাখির কাজ। সেই থেকে আমার মনে প্রশ্ন জাগে: এই ছোট্ট পাখিটা কীভাবে এমন জটিল বাসা তৈরি করে? বাবুই পাখি, যাকে ইংরেজিতে Baya Weaver বলে, শুধু বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের একটা চেনা মুখ নয়, এর বাসা তৈরির গল্প প্রকৃতির এক অদ্ভুত রহস্য। পুরুষ পাখির অদম্য পরিশ্রম, মেয়ে পাখির কঠোর পরীক্ষা আর বাসার নকশা যা মানুষের ইঞ্জিনিয়ারিংকে চ্যালেঞ্জ করে—এ সবকিছু নিয়ে আজকের এই গভীর আলোচনা। যদি আপনি প্রকৃতি প্রেমী হোন বা শুধু কৌতূহলী, তাহলে এই বাবুই পাখির বাসা তৈরির গল্প আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে। চলুন, এই ছোট্ট স্থপতির জগতে ঢুকে পড়ি।
![]() |
| ঘাসের সূক্ষ্ম বুননে ঝুলন্ত বাসা—বাবুই পাখির হাত ধরে প্রকৃতি দেখায় তার নিখুঁত স্থাপত্যশিল্প। |
বাবুই পাখির পরিচয় এবং বিতরণ
বাবুই পাখি, বৈজ্ঞানিক নাম Process Philippines, একটা ছোট গান গাওয়া পাখি যা Weaverbird পরিবারের অন্তর্গত। আমি যখন বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য প্রকৃতি-সংক্রান্ত কনটেন্ট লিখতাম, তখন দেখেছি এই পাখি দক্ষিণ এশিয়ার একটা আইকন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এরা সাধারণত দেখা যায়। বাংলাদেশে এরা গ্রামীণ এলাকায়, ধানের খেতের কাছে বা পাম গাছে বাসা বাঁধে। পুরুষ পাখির হলুদ মাথা এবং বুকের রঙ এদের সহজে চেনা যায়, বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে। মেয়ে পাখিরা বাদামি এবং কম আকর্ষণীয়। এরা সামাজিক পাখি, কলোনিতে বাস করে, যেখানে ২০-৩০টা বাসা একসাথে থাকতে পারে।
বাবুই পাখির জীবনচক্র
এদের জীবনচক্র প্রকৃতির একটা নাটক। প্রজনন মৌসুমে, যা সাধারণত বর্ষাকালে হয়, পুরুষ পাখি বাসা তৈরি করে মেয়ে পাখিকে আকর্ষণ করে। আমার একটা রিপোর্টিংয়ের সময় গিয়ে দেখেছি, একটা কলোনিতে কয়েকটা পুরুষ পাখি একসাথে বাসা তৈরি করছে, যেন কোনো কম্পিটিশন চলছে। এরা সারা বছর খাবার খোঁজে, কীটপতঙ্গ এবং বীজ খায়। শীতে এরা আরও সামাজিক হয়ে ওঠে। বাসা তৈরির প্রক্রিয়া: পুরুষ পাখির পরিশ্রম বাবুই পাখির বাসা তৈরি প্রকৃতির একটা মাস্টারপিস। পুরুষ পাখি একাই এই কাজ করে, আর এতে ১৮ দিন লাগতে পারে। প্রথমে 'হেলমেট স্টেজ'—যা ৮ দিন লাগে—যেখানে বাসার উপরের অংশ তৈরি হয়। আমি যখন এই টপিক নিয়ে রিসার্চ করছিলাম, তখন দেখি যে একটা পুরুষ পাখি একটা বাসা তৈরিতে ৫০০ বার উপকরণ নিয়ে আসে! এটা শুধু পরিশ্রম নয়, একটা জেদ।
উপকরণ সংগ্রহ ধানের পাতা, ঘাস এবং পাম ফ্রন্ডের লম্বা স্ট্রিপ: প্রত্যেকটা ২০-৬০ সেন্টিমিটার লম্বা। চোয়ালের সাহায্যে স্ট্রিপ ছিঁড়ে নেয় এবং বুনে। ভেজা কাদা বা গোবর দিয়ে ভিতরে লেপে দেয়, যা বাসাকে মজবুত করে। বুনন কৌশল
পুরুষ পাখি তার চোয়াল দিয়ে গিঁট দেয়, যা মানুষের হাতে করা অসম্ভব। এই কৌশল জটিল, যেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। বিজ্ঞানীরা বলেন, এতে প্রত্যেক গিঁট সচেতনভাবে দেয়া হয় যাতে বাসা বাতাসে ছিঁড়ে না যায়।
বাসার নকশা: প্রকৃতির ইঞ্জিনিয়ারিং
বাসাটা দেখতে উল্টানো ফ্লাস্কের মতো। তিনটা প্রধান অংশ: উপরের অংশ: গাছের ডালে আটকানো, যা বাসাকে ঝুলিয়ে রাখে। মাঝের চেম্বার: ডিম এবং ছানাদের জন্য, প্রশস্ত এবং নিরাপদ। নিচের প্রবেশপথ: সরু টিউব, নিচের দিকে মুখ করা, যা শিকারীদের থেকে রক্ষা করে। এই নকশা শিকারীদের থেকে সুরক্ষা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, সাপ বা অন্য পাখি প্রবেশ করতে গেলে পড়ে যায়। বাসা প্রায়শই পানির উপর ঝোলে, যা অতিরিক্ত সুরক্ষা। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই নকশা আধুনিক স্থাপত্যের সাথে তুলনীয়।
![]() |
| ঘাসের সূক্ষ্ম বুননে ঝুলন্ত বাসা—বাবুই পাখির হাত ধরে প্রকৃতি দেখায় তার নিখুঁত স্থাপত্যশিল্প। |
মেয়ে পাখির ভূমিকা: কঠোর পরীক্ষক
পুরুষ পাখির পরিশ্রমের পর মেয়ে পাখি আসে পরিদর্শনে। সে বাসা খুঁটিয়ে দেখে, যদি পছন্দ না হয়, তাহলে ছেড়ে যায় বা ছিঁড়ে ফেলে। আমি এটা দেখে অবাক হয়েছিলাম—এটা যেন একটা প্রেমের গল্প, যেখানে পরিশ্রমই চাবিকাঠি। যদি বাসা পছন্দ হয়, তাহলে মেয়ে পাখি ভিতরে ডিম পাড়ে। একটা পুরুষ পাখি এক মৌসুমে একাধিক বাসা তৈরি করতে পারে, যতক্ষণ না সঙ্গী পায়। এই প্রক্রিয়া প্রকৃতির নির্বাচনের একটা উদাহরণ।
প্রত্যাখ্যানের পর কী হয়
- পুরুষ পাখি বাসা ছেড়ে দেয় বা ছিঁড়ে ফেলে।
- নতুন করে শুরু করে, যা জীবনের একটা পাঠ: ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়ানো।
- কখনো একটা কলোনিতে একাধিক চেষ্টা করে।
বাংলাদেশে বাবুই পাখির উপস্থিতি এবং সংরক্ষণ
বাংলাদেশে বাবুই পাখি গ্রামীণ জীবনের অংশ। ধানের খেত, নদীর ধারে এরা বাসা বাঁধে। কিন্তু শহুরে উন্নয়ন, কীটনাশক এবং জলবায়ু পরিবর্তন এদের হুমকি। আমি একটা রিপোর্টে দেখেছি, কিছু এলাকায় এদের সংখ্যা কমছে। সংরক্ষণের জন্য গাছ রক্ষা এবং সচেতনতা দরকার। বাংলাদেশের সাহিত্যে, যেমন রবীন্দ্রনাথের কবিতায়, এরা প্রতীক।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিজ্ঞানীরা বাবুই পাখির বাসাকে অধ্যয়ন করে। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, বাসা লম্বা টিউব সাপের থেকে রক্ষা করে। অন্য গবেষণায়, মেয়ে পাখি বাসার লোকেশন দেখে চয়ন করে, যেমন বাতাস থেকে সুরক্ষিত জায়গা। আমার মতে, এটা প্রকৃতির ইভোলিউশনের উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই কৌশল মানুষের স্থাপত্যে অনুপ্রেরণা দিতে পারে। উদাহরণ: কাদার ব্যবহার ক্লাইমেট কন্ট্রোল করে। কিছু লোককথায় বলা হয়, এরা জোনাকি ব্যবহার করে আলো জ্বালায়, যদিও বিজ্ঞানীরা এটা লোককথা বলে।
প্রকৃতির পাঠ: জীবনের অনুপ্রেরণা
বাবুই পাখির গল্প আমাদের শেখায় পরিশ্রমের মূল্য। পুরুষ পাখির জেদ যেন আমাদের জীবনের ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়ানোর পাঠ দেয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিতে এরা একটা প্রতীক।
বাবুই পাখির বাসা তৈরির গল্প প্রকৃতির একটা অলৌকিকতা। পুরুষ পাখির পরিশ্রম থেকে মেয়ে পাখির চয়ন—সবকিছু একটা নাটক। আমার ২০ বছরের কনটেন্ট ক্রিয়েশনে এমন গল্পগুলোই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এই ছোট্ট পাখিটা আমাদের শেখায়, পরিশ্রম কখনো ব্যর্থ হয় না। আপনার কাছে যদি এমন কোনো গল্প থাকে, কমেন্টে শেয়ার করুন!
বাবুই পাখির বাসা কত দিনে তৈরি হয়? সাধারণত ১৮ দিন, হেলমেট স্টেজ ৮ দিন।
পুরুষ পাখি কেন বাসা তৈরি করে? মেয়ে পাখিকে আকর্ষণ করতে।
বাসার নকশা কেন নিচের দিকে মুখ করা? শিকারীদের থেকে রক্ষা করতে।
বাংলাদেশে বাবুই পাখি কোথায় দেখা যায়? গ্রামীণ এলাকা, ধানের খেত কাছে।
বাসা তৈরিতে কতটা উপকরণ লাগে? ৫০০ বার উপকরণ নিয়ে আসে।
বাবুই পাখির সংরক্ষণ কেন দরকার? জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়নের কারণে।
প্রকৃতির এই রহস্য মিস করবেন না! Dhaka News নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এক্সক্লুসিভ প্রকৃতি গল্প এবং আপডেটের জন্য। এখনই ক্লিক করুন এবং প্রকৃতির সাথে যুক্ত হোন—ট্রেন্ডিং স্টোরি মিস করবেন না!
<script type="application/ld+json"> { "@context": "https://schema.org", "@type": "NewsArticle", "headline": "বাবুই পাখির অদ্ভুত বাসা: প্রকৃতির স্থপতি রহস্য!", "image": [ "https://c8.alamy.com/comp/2GAHCJ3/munshiganj-bangladesh-26th-july-2021-a-male-baya-weaver-bird-making-a-pendulum-nest-in-shirajdikhan-photo-by-zabed-hasnain-chowdhurysopa-isipa-usa-credit-sipa-usaalamy-live-news-2GAHCJ3.jpg", "https://lookaside.fbsbx.com/lookaside/crawler/media/?media_id=635728231931805", "https://dscdn.daily-sun.com/english/uploads/news_photos/2019/08/23/Daily-sun-2019-08-23-1.jpg" ], "datePublished": "2026-01-20T18:21:00+06:00", "dateModified": "2026-01-20T18:21:00+06:00", "author": { "@type": "Person", "Md. Nazrul Islam": "অভিজ্ঞ প্রকৃতি বিশ্লেষক", "url": "https://dhakanews.com/author" }, "publisher": { "@type": "Organization", "name": "Dhaka News", "logo": { "@type": "ImageObject", "url": "https://dhakanews.com/logo.png" } }, "description": "বাবুই পাখির বাসা তৈরির বিস্তারিত গল্প, তথ্য এবং বিশ্লেষণ।", "mainEntityOfPage": { "@type": "WebPage", "@id": "https://dhakanews.com/babui-pakhi-basa" } } </script>
.jpg)

0 Comments