Advertisement

0

নতুন পে স্কেল: নির্বাচনের মুখে অর্থনীতিতে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা

 নতুন পে স্কেল: নির্বাচনের মুখে অর্থনীতিতে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা


নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণা কি আইনি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে? মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাত ও রাজস্ব সংকটের পূর্ণ বিশ্লেষণ।

নতুন পে স্কেল—শুনতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর মনে হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি এখন ভয়াবহ প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। মূল কীওয়ার্ড নতুন পে স্কেল বাংলাদেশ এখন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নির্বাচনের মুখে একটি বড় অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার ঠিক আগে, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ দেশেরাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি সংকটে থাকা অর্থনীতির জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তুলে ধরা প্রতীকী ছবি
নির্বাচনের মুখে নতুন পে স্কেল ঘোষণা। স্বস্তির খবর নাকি সংকটে থাকা অর্থনীতির জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা—এই প্রশ্নই ঘুরছে চারদিকে।


 কী প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন পে স্কেলে

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী

• সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা

• সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা

• মোট গ্রেড অপরিবর্তিত, ২০টি

• বেতন অনুপাত কমিয়ে ১:৮

• বাস্তবায়নে প্রয়োজন অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা

বর্তমানে প্রায়

• ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী

• ৯ লাখ পেনশনভোগী

এই ব্যয় কাঠামোর আওতায় রয়েছে।

 নির্বাচনের আগে সিদ্ধান্ত—আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকারের এখতিয়ার নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে এসেছে।

 অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা

সংবিধান ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী

• তফসিল ঘোষণার পর সরকারুটিন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকে

• বড় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকে না

• অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নয়

আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বৈধতার ঘাটতিতে ভুগছে।

 অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রভাব শুধু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

 বেসরকারি খাতের ওপর চাপ

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত বর্তমানে

• বিনিয়োগ সংকটে

• ব্যাংক ঋণের চাপে

• রফতানি আয় হ্রাসে

• উচ্চ সুদহারে জর্জরিত

এই পরিস্থিতিতে সরকারি বেতন বৃদ্ধি বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির চাপ তৈরি করবে, যা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বহন করতে পারবে না।

 শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকি

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন এমনিতেই ব্যাহত।

 শিল্প উদ্যোক্তাদের সংকট

• উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে

• প্রতিযোগিতা কমেছে

• নতুন বিনিয়োগ স্থবির

• কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমেছে

এই বাস্তবতায় নতুন পে স্কেল শিল্প খাতকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।

 পোশাক শিল্পে অস্থিরতার আশঙ্কা

বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পোশাক শিল্প।

 কেন সবচেয়ে ঝুঁকিতে গার্মেন্টস খাত

• শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় মজুরি চাপ বেশি

• আন্তর্জাতিক্রেতাদের মূল্যচাপ

• রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব

নতুন পে স্কেল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে উসকে দিতে পারে, যা আন্দোলন ও উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে।

 বাজারে মূল্যস্ফীতির ভয়াবহ চক্র

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি পে স্কেলের পর তিন দফায় বাজারে দাম বাড়ে।

 মূল্যস্ফীতির তিন ধাপ

• ঘোষণার পর

• বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণে

• নতুন বেতন কার্যকর হলে

অতীত অভিজ্ঞতায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমানে যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি, সেখানে এটি ২০ থেকে ২৫ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

 রাজস্ব আয় ও অর্থায়নের প্রশ্ন

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—টাকা আসবে কোথা থেকে।

 রাজস্ব সংকটের বাস্তবতা

• ৩০ বছরে সর্বনিম্ন রাজস্ব আয়

• নির্বাহী ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণ

• উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত

অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার উৎস নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

 ভ্যাট ও কর বাড়ানোর ঝুঁকি

রাজস্বাড়াতে গেলে

• ভ্যাট বাড়ানোর চাপ আসবে

• পরোক্ষ করের বোঝা পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর

• নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে এটি সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

 দুর্নীতি কমবে—এই যুক্তি কতটা বাস্তব

অতীতেও বেতন বাড়ানো হয়েছে দুর্নীতি কমানোর যুক্তিতে।

বাস্তবতা হলো

• দুর্নীতির কাঠামোগত সংস্কার হয়নি

• জবাবদিহি বাড়েনি

• সেবার মানে বড় পরিবর্তন আসেনি

অর্থাৎ, বেতন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হয় না।

 রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সরকারের চাপ

এই সিদ্ধান্তের ফলে

• পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বড় আর্থিক চাপের মুখে পড়বে

• বাজেট ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হবে

• রাজনৈতিক দায় বর্তাবে ভবিষ্যতের ওপর

অনির্বাচিত সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।

নতুন পে স্কেল কাগজে-কলমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও বাস্তবে এটি দেশের অর্থনীতি, শিল্প, বাজার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গভীর ঝুঁকি। নির্বাচনের মুখে এমন সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক রীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সংকটে থাকা অর্থনীতির জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

নীতিনির্ধারকদের এখনই ভাবতে হবে, স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাই দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

Dhaka News–এর সঙ্গে থাকুন, বিশ্লেষণমূলক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পেতে।

প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকার কি নতুন পে স্কেল দিতে পারে

উত্তর: আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের তফসিলের পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

প্রশ্ন: নতুন পে স্কেলে বাজারে দাম বাড়বে কি

উত্তর: অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পে স্কেলের পর নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রশ্ন: বেসরকারি খাত কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে

উত্তর: বেতন বৃদ্ধির চাপ, উৎপাদন ব্যয় ও বিনিয়োগ সংকট বেসরকারি খাতকে বড় ঝুঁকিতে ফেলবে।

প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্ত কি ভবিষ্যৎ সরকার পরিবর্তন করতে পারবে

উত্তর: পারবে, তবে তাতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হবে।



{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "Article",

  "headline": "নতুন পে স্কেল: নির্বাচনের মুখে অর্থনীতিতে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা",

  "description": "নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার আইনি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের গভীর বিশ্লেষণ",

  "author": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "Dhaka News"

  },

  "mainEntityOfPage": {

    "@type": "Webpage",

    "@id": "https://www.dhakanews.com"

  }

}

Post a Comment

0 Comments