আজ বুধবার, ১২ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
সূরা আস-সাফফাতের শেষ তিন আয়াতের আমল: কাজের বাধা দূর ও চেহারায় নূর আনার সহজ উপায়
সূরা আস-সাফফাতের শেষ তিন আয়াত ২১ বার পড়ার আমল কীভাবে কাজের বাধা দূর ও চেহারায় নূর আনে—জানুন বিস্তারিত ইসলামিমূলক আলোচনা।
আজকের সমাজে ঘুষ, দেরি, ফাইল আটকে থাকা, অফিসে হয়রানি—এসব যেন নিত্যদিনের ঘটনা। কেউ আদালতে যান, কেউ ব্যবসার কাজে, কেউ ঋণ ফেরত আনতে—কিন্তু কাজ সহজে হয় না। আবার অনেকে চান—চেহারায় নূর আসুক, মানুষ সম্মান করুক, কথা গ্রহণ করুক।
এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কালামই হলো মুমিনের আসল ভরসা। সূরা আস-সাফফাতের (Quran এর ৩৭ নম্বর সূরা) শেষ তিন আয়াতকে কেন্দ্র করে একটি আমল বহু আলেম উল্লেখ করেছেন, যা দুনিয়ার কাজ সহজ করা ও আত্মিক নূর বাড়াতে সহায়ক বলে বর্ণিত।
সূরা আস-সাফফাতের শেষ তিন আয়াত
আরবি আয়াতগুলো হলো:
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থ: “আপনার প্রতিপালক, মহিমার অধিকারী, তারা যা বলে তা থেকে পবিত্র। রাসূলদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।”
১. দুনিয়ার কাজে সহজতা পাওয়ার আমল
যখন আপনি—অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাচ্ছেন, আদালতে শুনানি আছে, কারও কাছ থেকে পাওনা আদায় করতে যাচ্ছেন, ব্যবসায়িক চুক্তি করতে যাচ্ছেন, বিয়ের প্রস্তাব দেখতে যাচ্ছেন।
তখন ঘর থেকে বের হওয়ার আগে:
করণীয়
১. সূরা আস-সাফফাতের শেষ তিন আয়াত ২১ বার পড়ুন।
২. দুই হাতে হালকা ফুঁ দিয়ে মুখে মাসেহ করুন।
৩. আকাশের দিকে মুখ করে সংক্ষেপে দোয়া করুন—“হে আল্লাহ, আমার কাজ সহজ করে দিন।”
বিশ্বাস রাখতে হবে—কাজ করানোর মালিক মানুষ নয়, আল্লাহ।
নিয়মিত করলে আল্লাহ তাআলা কাজে বরকত ও সহজতা দান করেন—এটাই মূল আশা।
২. চেহারায় নূর আনার আমল
অনেকে জানতে চান—চেহারা উজ্জ্বল ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য কী করবেন?
একই আমল এখানে প্রযোজ্য, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।
সকালবেলার বিশেষ পদ্ধতি
ফজরের জন্য ঘুম থেকে উঠেই টয়লেটে যাওয়ার আগে বিছানায় বসে ২১ বার আয়াতগুলো পড়ুন, বুকে ও মুখে ফুঁ দিন।
এই আমল পবিত্রতা-অপবিত্রতার শর্তে সীমাবদ্ধ নয়; কারণ এটি ঘুম থেকে ওঠার পরপরই করার জন্য বলা হয়েছে।
৩. আসল রহস্য: অন্তরের পবিত্রতা
শুধু আমল করলেই হবে না—গুনাহ না ছাড়লে চেহারায় স্থায়ী নূর আসে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মানুষ গুনাহ করলে তার অন্তরে কালো দাগ পড়ে; তাওবা করলে তা মুছে যায়, আর গুনাহে অবিচল থাকলে পুরো অন্তর অন্ধকার হয়ে যায়। অন্তর কালো হলে বাহ্যিক নূর স্থায়ী হয় না। তাই—হিংসা ছাড়ুন, বিদ্বেষ ত্যাগ করুন, গীবত ও মিথ্যা পরিহার করুন, নিয়মিত তাওবা করুন।
৪. রূহের নাশতা আগে, শরীরের পরে
একটি শিক্ষণীয় উপমা হলো—ঘুম থেকে উঠে আগে রূহের খাদ্য দিন।
রূহের খাদ্য কী?
কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দরূদ শরিফ, তাসবিহ
যদি সকালে শুধু শরীরের নাশতা করি, কিন্তু আত্মাকে না খাওয়াই—তাহলে নফস শক্তিশালী হয়, রূহ দুর্বল হয়। তখন গুনাহে ঝুঁকে পড়া সহজ হয়ে যায়।
৫. কেন ২১ বার?
সংখ্যাটি মূলত নিয়মিততা ও মনোসংযোগের জন্য নির্ধারিত। গুরুত্বপূর্ণ হলো—মনোযোগ, বিশ্বাস ও ধারাবাহিকতা।
৬. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এটি কোনো যাদু নয় - ১. গুনাহে লিপ্ত থেকে ফল আশা করা ঠিক নয় ২. ঘুষ দিয়ে হালাল ফল আশা করা যাবে না ৩. আমল মানে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা
দুনিয়ার কাজ সহজ করা ও চেহারায় নূর আনার আসল পথ হলো—
১. আল্লাহর স্মরণ ২. গুনাহ ত্যাগ ৩. তাওবা ৪. নিয়মিত আমল
সূরা আস-সাফফাতের শেষ তিন আয়াত ২১ বার পড়া একটি সহজ কিন্তু গভীর প্রভাববাহী আমল—যদি আন্তরিকতা থাকে।
আপনার মতামত দিন
আপনি কি এই আমল আগে করেছেন?
আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
কমেন্টে জানান—অন্যরাও উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

0 Comments