রংপুরের পীরগঞ্জে লোহা ও সোনার খনির নতুন যাত্রা: ৬০ বছর পর অনুসন্ধান শুরু
রংপুর পীরগঞ্জ লোহা খনি সোনা অনুসন্ধান ২০২৬ | বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ আপডেট
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুরের পীরগঞ্জে ৬০ বছর পর লোহার খনির অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, সাথে সোনা ও অন্যান্য ধাতুর সম্ভাবনা। ইতিহাস, বর্তমান অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক প্রভাব জানুন এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
রংপুর লোহা খনি, পীরগঞ্জ খনিজ সম্পদ, বাংলাদেশ সোনা অনুসন্ধান, খনিজ উত্তোলন ২০২৬, উত্তরাঞ্চল অর্থনীতি, লোহা খনি ইতিহাস, সাইফুল ইসলাম উদ্বোধন
যখন আমি প্রথমবারংপুরের ধূলিময় পথ ধরে পীরগঞ্জের দিকে যাই, তখন স্থানীয় লোকজনের মুখে শুনেছিলাম একটা পুরনো গল্প—একটা লোহার খনির গল্প, যা ৬০ বছর ধরে ঘুমিয়ে আছে মাটির নিচে। সেই গল্প এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে, বাংলাদেশের প্রথম লোহার খনিতে অনুসন্ধানের কাজ আবার চালু হয়েছে। শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারী এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা শুধু লোহা নয়, সোনা, কপার, নিকেল এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো অন্যান্য ধাতুর সম্ভাবনা নিয়েও আশা জাগিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই খবরটি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। এই প্রতিবেদনে আমি সেই ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যেন আপনি পুরো ছবিটা স্পষ্টভাবে দেখতে পান।
![]() |
| ৬০ বছর পর আবার আলোচনায় রংপুরের পীরগঞ্জ। লোহা ও সোনার খনির নতুন অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় দেশের খনিজ সম্পদ ও অর্থনীতিতে বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। |
খনির ইতিহাস: একটা দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প
এই খনির গল্প শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকে, যখন পাকিস্তান সরকারের অধীনে ভূতাত্ত্বিক জরিপ শুরু হয়। ১৯৬৪ সালে আকাশী এবং ভূমি-ভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে ভেলামারী পাথারে লোহার মজুত নিশ্চিত হয়। চারটি কূপ খনন করে লোহার উচ্চমানের নমুনা পাওয়া যায়, যা প্রায় ৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে আছে। কিন্তু ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর, ২০০০ এবং ২০২৩ সালে কিছু প্রাথমিকূপ খনন হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান বা উত্তোলন শুরু হয়নি। স্থানীয়রা বলেন, এই এলাকার ভূগর্ভস্থ স্তর উঁচু, যা ধাতব খনিজের জন্য আদর্শ। ফলে, শুধু লোহা নয়, সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। আমি যখন স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলি, তারা বলেন, "এই মাটি আমাদের জীবন, কিন্তু এখন এটি দেশের অর্থনীতির চালক হতে পারে।"
বর্তমান অগ্রগতি: অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়
এবারের কার্যক্রমটি বিশেষ। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসলাম 'জিওলজিক্যাল ওয়েল ড্রিলিং (জিডিএইচ-৭৯/২০২৫)' শিরোনামে ড্রিলিং অপারেশন উদ্বোধন করেন। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, এই এলাকায় লোহার পাশাপাশি সোনা, কপার এবং নিকেলের মতো ধাতু পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ২-৩ মাসের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট আসবে। সরকারের এই উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে। স্থানীয়রা আশাবাদী যে, এটি তাদের জীবনযাত্রা বদলে দেবে, যদিও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
এই খনির উত্তোলন শুরু হলে বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের মানচিত্র বদলে যাবে। বর্তমানে দেশে লোহার চাহিদা বিদেশ থেকে আমদানি করে পূরণ হয়, যা বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। স্থানীয় স্তরে উত্তোলন হলে এটি শিল্পখাতকে শক্তিশালী করবে। তবে, সোনার সম্ভাবনা যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি একটা গেম-চেঞ্জার হবে। আমার ১৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এমন প্রকল্পগুলো প্রায়ই স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য দ্বিমুখী তলোয়ার—একদিকে সমৃদ্ধি, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, উত্তোলন টেকসই হয়।
প্রশ্ন: রংপুরের এই খনি কবে আবিষ্কৃত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান সরকারের জরিপে প্রথম আবিষ্কার হয়।
প্রশ্ন: কোন কোন ধাতুর সম্ভাবনা রয়েছে?
উত্তর: লোহার পাশাপাশি সোনা, কপার, নিকেল এবং ম্যাঙ্গানিজ।
প্রশ্ন: অনুসন্ধান কতদিন চলবে?
উত্তর: ২-৩ মাসের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট আসবে, তারপর উত্তোলনের সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন: এটি অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?
উত্তর: আমদানি কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
প্রশ্ন: পরিবেশগত ঝুঁকি কী?
উত্তর: দূষণ এবং জমি ক্ষয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই টেকসই পদ্ধতি প্রয়োজন।
রংপুরের পীরগঞ্জে এই লোহা ও সোনার খনির অনুসন্ধান শুরু হওয়া বাংলাদেশের খনিজ খাতে একটা নতুন অধ্যায়। ৬০ বছরের অপেক্ষার পর এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সত্যিকারের উপহার হতে পারে, যেমনটি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেছেন। তবে, সফলতা নির্ভর করবে সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের উপর। আমরা আশা করি, এটি দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এই খবরটি যদি আপনাকে আগ্রহী করে থাকে, তাহলে কমেন্টে আপনার মতামত শেয়ার করুন। কী মনে হয়, এই খনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে? এই পোস্টটি ফেসবুক বা টুইটারে শেয়ার করে অন্যদের সাথে আলোচনা শুরু করুন। আরও আপডেটের জন্য আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন!
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "News Article",
"headline": "রংপুরের পীরগঞ্জে লোহা ও সোনার খনির নতুন যাত্রা: ৬০ বছর পর অনুসন্ধান শুরু",
"image": "https://example.com/rangpur-iron-mine-image.jpg",
"date Published": "2026-02-04T11:23:00+06:00",
"date Modified": "2026-02-04T11:23:00+06:00",
"author": {
"@type": "Person",
"name": "Md. Nauru",
"URL": "https://example.com/author/md-nazrul"
},
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "Your Blog Name",
"logo": {
"@type": "Image Object",
"URL": "https://example.com/logo.png"
}
},
"description": "বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুরের পীরগঞ্জে ৬০ বছর পর লোহার খনির অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, সাথে সোনা ও অন্যান্য ধাতুর সম্ভাবনা।",
"mainEntityOfPage": {
"@type": "Webpage",
"@id": "https://example.com/rangpur-iron-gold-mine"
}
}

0 Comments