রমজান মোবারক: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসের পূর্ণাঙ্গাইড
রমজান মোবারক ২০২৬: ফজিলত, আমল, দোয়া ও প্রস্তুতির পূর্ণ গাইড | কুরআন-হাদিসের আলোকে
রমজান মোবারক উপলক্ষে রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, দান ও প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গাইড। রোজা রাখার দোয়া, ইফতারের দোয়া, ফজিলত।
রমজান মোবারক—এই দুটি শব্দই একজন মুমিনের হৃদয়ে এক অনন্য প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক জাগরণ নিয়ে আসে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুসংবাদ নিয়ে আগমন ঘটে পবিত্র মাহে রমজানের। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।"
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
![]() |
| রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আ গত রমজান মোবারক—এই মাসেই আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম সুযোগ। |
রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক উন্নতি, তাকওয়া অর্জন, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এবং পাপমুক্ত জীবন গড়ার এক অনন্য সুযোগ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে (সওয়াবের আশায়) রমজানেরোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"
(সহীহ বুখারী: ১৯০১)
এই গাইডে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব রমজানের ফজিলত, রোজার বিধান, গুরুত্বপূর্ণ দোয়া, আমল, প্রস্তুতি এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে রমজান যাপনের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা।
রমজান মোবারক কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
রমজান হলো হিজরী সনের নবম মাস এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। এই মাসেই পবিত্র কুরআন নাজিল শুরু হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়েত এবং সুস্পষ্ট পথনির্দেশ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।"
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
রমজানের মূল উদ্দেশ্য:
তাকওয়া অর্জন: আল্লাহভীতি ও পরহেজগারী শেখা,আত্মসংযম: ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ, পাপ থেকে মুক্তি: গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ, আল্লাহর সান্নিধ্য: ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ, সামাজিক দায়িত্ব: দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতি ও দানশীলতা বৃদ্ধি।
রমজান মোবারকের আধ্যাত্মিক ফজিলত (কুরআন-হাদিসের আলোকে)
রমজান এমন এক মহিমান্বিত মাস যেখানে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
হাদিসে বর্ণিত ফজিলত:
১. শয়তান শৃঙ্খলিত থাকে: "রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শিকলবন্দী করা হয়।"
(সহীহ বুখারী: ১৮৯৯)
২. নেক আমলের সওয়াব বৃদ্ধি: "যে ব্যক্তি রমজান মাসে একটি নফল ইবাদত করবে, সে অন্য মাসের একটি ফরজের সমান সওয়াব পাবে। আর যে একটি ফরজ আদায় করবে, সে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব লাভ করবে।"
(সহীহ ইবনে খুজাইমাহ: ১৮৮৭)
৩. দোয়া কবুলের মাস: "রমজান মাসে প্রতিটি রোজাদারের দোয়া কবুল হয়।"
(মুসনাদে আহমদ: ৭৪৫০)
৪. লাইলাতুল কদর: "লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।"
(সূরা আল-কদর: ৩)
রমজানের তিন ভাগ: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "রমজান তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।"
(সহীহ ইবনে খুজাইমাহ: ১৮৮৭)
প্রথম দশক (রহমত):
আল্লাহর রহমত ও দয়া লাভের সময়, বেশি বেশি তাসবীহ, তাহলীল ও দোয়া করা।
দ্বিতীয় দশক (মাগফিরাত):
গুনাহ মাফের জন্য তওবা ও ইস্তিগফার করা, দোয়া: "আস্তাগফিরুল্লাহাল আজীম" (আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই)।
তৃতীয় দশক (নাজাত):
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার সময়, ইতিকাফ, তাহাজ্জুদ ও লাইলাতুল কদর অন্বেষণ।
রোজা রাখার নিয়ত ও দোয়া
রোজার নিয়ত (সেহরির সময়):
রোজার জন্য মনে মনে নিয়ত যথেষ্ট। তবে মুখে বললে ভালো:
আরবি: "নাওয়াইতু আন আছুমা গাদামিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি ফারদল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাসামীউল আলীম।"
বাংলা অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (রোজা) কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।"
রোজার দোয়া (দিনের বেলা): আরবি: "ইন্নী ছায়িম, ইন্নী ছায়িম।"
বাংলা অর্থ: "নিশ্চয়ই আমি রোজাদার, নিশ্চয়ই আমি রোজাদার।"
ইফতারের দোয়া ও সুন্নত
ইফতারের দোয়া: ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫৩)
ইফতারের দোয়া ১:
আরবি: "আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া 'আলা রিজক্বিকা আফতারতু।"
বাংলা অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।"
ইফতারের দোয়া ২:
আরবি: "যাহাবায্ যামাউ ওয়াব্তাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।"
বাংলা অর্থ: "তৃষ্ণা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সওয়াব নির্ধারিত হলো।"
(সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)
ইফতারের সুন্নত: খেজুর দিয়ে ইফতার করা: রাসূল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, তাড়াতাড়ি ইফতার করা: সূর্যাস্তের সাথে সাথে, দোয়া করা: ইফতারের আগে ও পরে।
রমজানে করণীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল (কুরআন-হাদিসের আলোকে)
১. ফরজ ও নফল নামাজ
কুরআনে আদেশ: "নামাজ কায়েম কর এবং জাকাত আদায় কর।"
(সূরা আল-বাকারা: ৪৩)
তারাবির নামাজ: "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানেরাতে (তারাবি) নামাজ পড়বে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"
(সহীহ বুখারী: ২০০৯)
২. কুরআন তিলাওয়াত
হাদিস: "রমজান এবং কুরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে।"
(মুসনাদে আহমদ: ৬৬২৬)
প্রতিদিনের লক্ষ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ৪-৫ পৃষ্ঠা, অর্থসহ তাফসির পড়া, কুরআনের হুকুম মানার চেষ্টা।
৩. তাহাজ্জুদ নামাজ
"রাতের নামাজ আদায় করো, এটা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের সুন্নত।"
(সুনানে তিরমিযী: ৩৫৪৯)
তাহাজ্জুদের সময়: শেষ রাতে (সেহরির আগে), কমপক্ষে ৪ রাকাত।
৪. দান ও সদকা
"রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সবচেয়ে দানশীল, বিশেষত রমজানে।"
(সহীহ বুখারী: ৬)
দানের ক্ষেত্র:
ফিতরা আদায়, গরিব-মিসকিনকে খাদ্য দান, ইয়াতিম ও অসহায়দের সাহায্য, মসজিদে দান।
৫. জিকির ও দোয়া
কুরআনে আদেশ: "তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।"
(সূরা আল-বাকারা: ১৫২)
গুরুত্বপূর্ণ জিকির: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র) - ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর) - ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান) - ৩৪ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ (আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) - ১০০ বার।
৬. তওবা ও ইস্তিগফার
হাদিস:
ব্যক্তি তওবা করল, সে এমন যেন তার কোনো গুনাহই নেই।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)
তওবার দোয়া:
আরবি:
"আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।"
বাংলা অর্থ:
"আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করছি।"
৭. ইতিকাফ
হাদিস:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।"
(সহীহ বুখারী: ২০২৬)
ইতিকাফের ফজিলত:
লাইলাতুল কদর খোঁজার সুযোগ, দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে মুক্ত থেকে ইবাদত, বিশেষ রহমত ও বরকত লাভ, লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত।
"নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মহিমান্বিত রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রজনী কী? মহিমান্বিত রজনী হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।"
(সূরা আল-কদর: ১-৩)
লাইলাতুল কদরের নিদর্শন:
রাত শান্ত ও মনোরম, সূর্য উজ্জ্বল কিন্তু তাপ কম, হালকা বৃষ্টি বা শিশির পড়তে পারে।
লাইলাতুল কদরের দোয়া: রাসূল (সা.) আয়েশা (রা.)-কে শিখিয়েছিলেন:
আরবি:
"আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি।"
বাংলা অর্থ:
"হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।"
(সুনানে তিরমিযী: ৩৫১৩)
রমজান মোবারক উপলক্ষে প্রস্তুতি (কুরআন-হাদিস অনুযায়ী)
১. আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি:
তওবা করা: সকল পাপ থেকে ফিরে আসা, নিয়মিত নামাজে অভ্যস্ত হওয়া, হালাল রিজিক অর্জন, হারাম থেকে দূরে থাকা।
২. মানসিক প্রস্তুতি:
রমজানের লক্ষ্য নির্ধারণ, ইসলামিক বই পড়া, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানো
৩. শারীরিক প্রস্তুতি:
ঘুমেরুটিন ঠিক করা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ পরিহার
রমজানের দৈনিক রুটিন (সুন্নত অনুযায়ী)
সেহরি থেকে সূর্যাস্ত:
সেহরির আগে:
তাহাজ্জুদ নামাজ (২-৮ রাকাত)
কুরআন তিলাওয়াত
সেহরিতে:
দেরিতে সেহরি খাওয়া (সুন্নত), রোজার নিয়ত করা।
ফজরের পর:
সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির, ইশরাকের নামাজ।
দিনের বেলা:
কর্মক্ষেত্রেও আল্লাহর স্মরণ, অহেতুক কথা এড়ানো, গীবত, পরনিন্দা পরিহার।
আসরের পর:
কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও জিকির।
ইফতারের আগে:
দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা
সূর্যাস্তের পর: ইফতার:
খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার
ইফতারের দোয়া পড়া
মাগরিবের পর:
সুন্নত ও নফল নামাজ, পরিবারের সাথে সময় কাটানো।
এশার পর:
তারাবির নামাজ ২০ রাকাত।
বিতরের নামাজ
রমজানে যেসব ভুল এড়ানো উচিত
১. অতিরিক্ত ঘুমানো:
দিনে দীর্ঘুম ইবাদতের সময় নষ্ট করে
২. অপচয় করা:
"নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।"
(সূরা আল-ইসরা: ২৭)
৩. গীবত ও পরনিন্দা:
"তোমরা একে অপরের গীবত করো না।"
(সূরা আল-হুজুরাত: ১২)
হাদিস:
"গীবত রোজা নষ্ট করে দেয়।"
(মুসনাদে আহমদ: ৮৮৩৩)
৪. অপ্রয়োজনীয় কথা:
"যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল ত্যাগ করেনি, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।"
(সহীহ বুখারী: ১৯০৩)
৫. সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট:
ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক কম ব্যবহার করুন
রমজান মোবারক ও সামাজিক দায়িত্ব
১. ইফতার বিতরণ:
"যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমান সওয়াব পাবে।"
(সুনানে তিরমিযী: ৮০৭)
২. দরিদ্রদের সাহায্য:
জাকাত ও ফিতরা আদায়, খাদ্য বিতরণ, ইয়াতিমখানায় দান।
৩. পারিবারিক বন্ধন:
আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ, ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করা, ডিজিটাল যুগে রমজান পালন।
কাজে লাগান প্রযুক্তি:
ইসলামিক অ্যাপ: কুরআন, হাদিস, নামাজের সময়, অনলাইন দরস: জুম বা ইউটিউবে, ডিজিটাল কুরআন: তাফসির সহ পড়া।
এড়িয়ে চলুন:
অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজিং, বিনোদনমূলক ভিডিও, সময়ের অপচয়, ফিতরা ও জাকাত আদায়।
সদকাতুল ফিতর:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) ফিতরা ফরজ করেছেন রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য এবং গরিবদের খাদ্য জোগানোর জন্য।"
(সুনানে আবু দাউদ: ১৬০৯)
ফিতরার পরিমাণ:
প্রতি ব্যক্তির জন্য ১.৬৩২ কেজি গম/আটা বা তার সমমূল্য
ঈদের নামাজের আগে আদায় করা
রমজান মোবারক বার্তা ও শুভেচ্ছা
কিছু হৃদয়স্পর্শী শুভেচ্ছা:
১. রমজান মোবারক! আল্লাহ আমাদেরোজা, নামাজ ও সকল ইবাদত কবুল করুন।
২. এই রমজান হোক পাপমুক্ত জীবনের সূচনা এবং জান্নাতের পথের দিশারি।
৩. রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসে আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।
৪. রমজান মোবারক! আল্লাহ আমাদের পরিবার, সন্তান ও উম্মাহর হেফাজত করুন।
৫. এই পবিত্র মাসে আমাদের দোয়া কবুল হোক এবং লাইলাতুল কদরের বরকত লাভ হোক।
রমজান মোবারক শুধু একটি মাস নয়, এটি জীবন পরিবর্তনের এক মহাসুযোগ। মহান আল্লাহ আমাদের এই মাসের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমরা যেন রমজানের শিক্ষা বছরব্যাপী ধরে রাখতে পারি এবং তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি।
"হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।"
(মুসনাদে আহমদ: ২৩৪৬)
আসুন, এই রমজানে আমরা নিজেদের পুরোপুরি বদলে ফেলি, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি এবং আখিরাতের পথে অগ্রসর হই।
আপনি কি রমজানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত? আজ থেকেই আপনার আমল পরিকল্পনা শুরু করুন। এই পোস্টটি শেয়ার করুন যাতে আরও মানুষ রমজানের প্রকৃত বার্তা পায়। ইসলামিক আরও গাইড ও অনুপ্রেরণামূলক লেখা পেতে আমাদের ব্লগটি ফলো করুন এবং কমেন্ট করে জানান আপনার রমজানের লক্ষ্য কী।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ বরকত দান করুন। আমীন।
প্রশ্ন ১: রমজান মোবারক অর্থ কী?
উত্তর: রমজান মোবারক অর্থ "পবিত্র রমজান মুবারক হোক"—এটি শুভেচ্ছা ও বরকতের দোয়া।
প্রশ্ন ২: রোজা রাখার নিয়ত কখন করতে হয়?
উত্তর: সেহরির সময় রাতেই নিয়ত করতে হয়। মনে মনে নিয়ত যথেষ্ট, তবে মুখে বললে ভালো।
প্রশ্ন ৩: ইফতারের সময় কোন দোয়া পড়তে হয়?
উত্তর: "আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া 'আলা রিজক্বিকা আফতারতু" এবং "যাহাবায্ যামাউ..." দোয়া পড়তে হয়।
প্রশ্ন ৪: রমজানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল কোনটি?
উত্তর: ফরজ রোজা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ।
প্রশ্ন ৫: লাইলাতুল কদর কোন রাতে?
উত্তর: রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ তম রাত)।
প্রশ্ন ৬: রমজানে কীভাবে তাকওয়া অর্জন করা যায়?
উত্তর: রোজা, জিকির, দোয়া, গুনাহ পরিহার, কুরআন পাঠ এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনার মাধ্যমে।
প্রশ্ন ৭: রোজা রেখে কী কী কাজ করা যাবে না?
উত্তর: মিথ্যা বলা, গীবত, পরনিন্দা, ঝগড়া, রাগ, হারাম দৃষ্টি, অশ্লীলতা ইত্যাদি এড়াতে হবে।
প্রশ্ন ৮: রমজানে সেহরি খাওয়া কি জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে। হাদিসে এর বিশেষ ফজিলত বর্ণিত আছে।
প্রশ্ন ৯: রমজানে দান করার গুরুত্ব কী?
উত্তর: রমজানে দানের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং এটি সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে।
প্রশ্ন ১০: রমজানের রোজা কার উপর ফরজ?
উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম (ভ্রমণে নয়) মুসলিম নর-নারীর উপর রোজা ফরজ। অসুস্থ, মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েদের ছাড় আছে।
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "Blog Posting",
"headline": "রমজান মোবারক: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসের পূর্ণাঙ্গাইড",
"description": "রমজান মোবারক উপলক্ষে রোজা রাখার দোয়া, ইফতারের দোয়া, ফজিলত, আমল, প্রস্তুতি ও কুরআন-হাদিসের আলোকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক গাইড।",
"image": "https://example.com/images/ramadan-mobarak-2026.jpg",
"author": {
"@type": "Person",
"name": "Islamic Content Desk"
},
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "Your Blog Name",
"logo": {
"@type": "Image Object",
"URL": "https://example.com/logo.png"
}
},
"date Published": "2026-02-19",
"date Modified": "2026-02-19",
"mainEntityOfPage": {
"@type": "Webpage",
"@id": "https://example.com/ramadan-mobarak-guide"
},
"keywords": "রমজান মোবারক, রোজা রাখার দোয়া, ইফতারের দোয়া, রমজানের ফজিলত, লাইলাতুল কদর, তারাবি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামিক গাইড",
"article Section": "Islamic Guide",
"word Count": 4500,
"in Language": "in"
}
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের যথাযথ হক আদায় করার তাওফিক দান করুন এবং এই মাসের পূর্ণ বরকত লাভ করার সুযোগ দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।
রমজান মোবারক! 🌙

0 Comments