Advertisement

0

তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবস: সচিবালয়ে নতুন যাত্রা


আজ বুধবার, ৫ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবস: সচিবালয়ে নতুন যাত্রা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক ও সচিবদের সাথে মতবিনিময়—জানুন পূর্ণ কর্মসূচি।

তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবস: সচিবালয়ে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়

 ইতিহাসের এক নতুন মুহূর্ত

বাংলাদেশেরাজনৈতিক ইতিহাসে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি মাইলফলক দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। এদিন প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সচিবালয়ে অফিস করবেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেওয়ার মাত্র একদিন পর, নতুন প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালন শুরু করতে যাচ্ছেন পূর্ণ উদ্যমে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে উপস্থিত তারেক রহমান, প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু
২০ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন অধ্যায়—সচিবালয়ে প্রথম দিনেই কর্মব্যস্ত তারেক রহমান


দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে এবং দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার সাথে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। এখন প্রশ্ন হলো, প্রথম কার্যদিবসে কী কী পদক্ষেপ নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী? কোন দিক থেকে শুরু হবে তার শাসনকাল? কী প্রত্যাশা জনগণের এবং কী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তার সামনে?

আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবসের পূর্ণ কর্মসূচি, তা রাজনৈতিক যাত্রা, মন্ত্রিসভার গঠন, জনপ্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

বুধবারের কর্মসূচি: ঘণ্টায় ঘণ্টায়

সকাল ১০টা: জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন

বুধবার সকাল ১০টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম সরকারি কর্মসূচি শুরু হবে। এটি বাংলাদেশেরাজনৈতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিটি নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের সাথে থাকবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে এবং বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক নয়। এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে— যে সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং শহীদদের ত্যাগের প্রতি সকলের সম্মান অটুট থাকবে।

দুপুর সাড়ে ১২টা: সচিবালয়ে প্রথম অফিস্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রবেশ করবেন। এটি হবে তার প্রথম সরকারি অফিস হিসেবে দায়িত্ব পালনের মুহূর্ত। সচিবালয়ের প্রবেশপথে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে এবং সরকারি কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছানোর পর তিনি প্রথমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত হবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা তাকে বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফ করবেন। এই পরিচিতি সভায় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান প্রকল্প, জরুরি বিষয় এবং প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে জানবেন।

দুপুর ১টা: সচিবদের সাথে মতবিনিময় সভা

দুপুর ১টার দিকে তারেক রহমান সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সাথে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে নতুন প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রশাসনের মূল কাঠামোর সাথে প্রথমবারের মতো সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবেন।

সভায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে তারেক রহমান তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরবেন এবং সচিবদের কাছ থেকে তাদের মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট শুনবেন। সূত্র জানায়, এই সভায় প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচিত হতে পারে:

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জরুরি পদক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা

দুপুর ২টা: মধ্যাহ্নভোজ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা

সচিবদের সাথে মতবিনিময় শেষে দুপুর ২টার দিকে সচিবালয়ে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হবে। এই ভোজসভায় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। এটি হবে একটি অনানুষ্ঠানিক পরিবেশ যেখানে সবাই পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক সভা রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে। এখানে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হতে পারে যা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে।

বিকেল ৩টা: মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক

বুধবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক। এটি হবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং সরকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।

প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচিত হয়:

সরকারের স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা, জরুরি জাতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নির্বাচনী  ইশতেহার বাস্তবায়নের  রোডম্যাপ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রথম বৈঠকে তারেক রহমান তার সরকারের টোন এবং দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করবেন। তিনি কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং কীভাবে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন, তা এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

সন্ধ্যা ৬টা: গণমাধ্যমে ব্রিফিং

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব গণমাধ্যমকে বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই ব্রিফিংয়ে জনগণ জানতে পারবে সরকারের প্রথম দিনের কার্যক্রম এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে।

তারেক রহমান: রাজনৈতিক যাত্রাপথ

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

তারেক রহমান ১৯৬৬ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিন দফার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনীতির পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন।

তারেক রহমান ঢাকার সেন্ট জোসেফ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশে পড়াশোনার সময়ও তিনি বাংলাদেশেরাজনীতির সাথে সংযুক্ত ছিলেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

রাজনৈতি ক্যারিয়ারের সূচনা

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর তারেক রহমানের পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু তার মা বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় মনোবল নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দলকে শক্তিশালী করে তোলেন।

১৯৯০-এর দশকে তারেক রহমান সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িত হন। তিনি বিএনপির যুব সংগঠনগুলোর সাথে কাজ করতে শুরু করেন এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘ সময় কারাগারে আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তিনি সেখান থেকে দীর্ঘদিনির্বাসিত জীবন যাপন করেন।

লন্ডনে থাকাকালীন তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিকার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং দলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে। নির্বাচনে তারেক রহমানিজে ঢাকা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন। বিজয়ী জোটের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয় এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

নতুন মন্ত্রিসভা: গঠন ও বৈশিষ্ট্য

মন্ত্রিসভার আকার ও গঠন

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এই মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন পেশার মানুষকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এখানে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, সাবেক সচিব, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং ব্যবসায়ী। এই বৈচিত্র্য মন্ত্রিসভাকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়সমূহ

নতুন মন্ত্রিসভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ এবং দক্ষ নেতারা:

অর্থমন্ত্রী: দেশের অর্থনীতির হাল ধরবেন একজন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ যিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী: একজন কূটনীতিক্যারিয়ারের অধিকারী ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একজন কঠোর এবং সৎ নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী: একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ যিনি শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: একজন চিকিৎসক যিনি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করবেন।

মন্ত্রিসভার বৈশিষ্ট্য

এই মন্ত্রিসভার কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:

যুব প্রতিনিধিত্ব: মন্ত্রিসভায় কয়েকজন তরুণ মন্ত্রী রয়েছেন যারা যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

নারী প্রতিনিধিত্ব: মন্ত্রিসভায় ছয়জন নারী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন যা লিঙ্গ সমতার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।

আঞ্চলিক ভারসাম্য: দেশের সকল বিভাগ থেকে মন্ত্রী নির্বাচন করা হয়েছে যাতে সকল অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিধিত্ব পায়।

পেশাগত বৈচিত্র্য: বিভিন্ন পেশার মানুষকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে যাতে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

জনপ্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

জনগণের প্রত্যাশা

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। দীর্ঘদিনেরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক মন্দা এবং সামাজিক অসন্তোষের পর মানুষ একটি কার্যকর এবং জনবান্ধব সরকার চায়। প্রধান প্রত্যাশাগুলো হলো:

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বমুখী মূল্য। মানুষ চায় সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিক।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশের লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক বেকার। তারা চায় সরকার দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করুক।

দুর্নীতি দমন: জনগণ চায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন: মানুষ চায় তারা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারুক এবং তাদের সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকুক।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি: মানসম্মত শিক্ষা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান: নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গ্যাসের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সামনের চ্যালেঞ্জসমূহ

তারেক রহমানের সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে। মুদ্রাস্ফীতি বেশি, বৈদেশিক মুদ্রারিজার্ভ কমছে এবং রপ্তানি বৃদ্ধির হার কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক মেরুকরণ: বাংলাদেশেরাজনীতি অত্যন্ত মেরুকৃত। বিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়ে একটি সমঝোতামূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

প্রশাসনিক সংস্কার: দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অদক্ষ প্রশাসনকে কার্যকর করে তোলা একটি কঠিন কাজ।

জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। এর সাথে মোকাবিলা করা অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিবেশী দেশ এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আতিকুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, "তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবসের কর্মসূচি খুবই ইতিবাচক। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, সচিবদের সাথে মতবিনিময় এবং দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক ডাকা— এসব পদক্ষেপ্রমাণ করে যে তিনি কাজ শুরু করতে আগ্রহী। তবে প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তার নীতি বাস্তবায়নের উপর।"

তিনি আরও বলেন, "মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞতা এবং যুব প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য ভালো। তবে এখন দেখার বিষয় হলো এই মন্ত্রীরা তাদের দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন করেন।"

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়রিসার্চ ফেলো ড. জাহিদ হোসেন বলেন, "নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির পুনরুদ্ধার। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ— এই তিনটি বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। একই সাথে দেশীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।"

সুশাসন বিশেষজ্ঞ সারা করিম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সারা করিম বলেন, "দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে নতুন সরকারের লিটমাস টেস্ট। মানুষ দেখতে চায় সরকার প্রকৃতই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয় কিনা।"

তিনি আরও বলেন, "প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণের আস্থা হারাতে বেশি সময় লাগবে না।"

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ভারতের প্রতিক্রিয়া

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ভারত বাংলাদেশের সাথে তার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী। আমরা আশা করি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।"

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে যে তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

চীনের প্রতিক্রিয়া

চীন তার ঐতিহ্যবাহী বন্ধু বাংলাদেশের নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা

তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনগণ একটি কার্যকর এবং জনবান্ধব সরকার পেয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো এই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কিনা।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপ্রমাণ করছে যে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তার সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক, কিন্তু সুযোগও কম নয়। যদি তিনি সততা, স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সাথে শাসন পরিচালনা করেন, তাহলে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে।

জনগণ আশাবাদী এবং তারা তাদের নতুনেতার সাথে আছে। এখন সময় এসেছে সবার একসাথে কাজ করার— সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা একটি সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে পারব।

এখনই পদক্ষেপ নিন

আপনিও এই নতুন যাত্রার অংশ হতে পারেন। সামাজিক মাধ্যমে এই খবর শেয়ার করুন, আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে আলোচনা করুন এবং সরকারের কাজ পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, একটি কার্যকর সরকার গড়তে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

ঢাকা নিউজের সাথে থাকুন এবং তারেক রহমান সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। আমরা নিরপেক্ষ এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১. তারেক রহমান কখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন?

তারেক রহমান মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তার সাথে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন।

২. তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবস কখন এবং কী কর্মসূচি রয়েছে?

তার প্রথম কার্যদিবস বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এদিন সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে অফিস, সচিবদের সাথে মতবিনিময় এবং বিকেল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

৩. মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক কখন হবে?

মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন এবং সরকারের প্রাথমিক নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

৪. নতুন মন্ত্রিসভায় কতজন সদস্য রয়েছে?

নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রশাসক এবং বিশেষজ্ঞদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে উপস্থিত তারেক রহমান, প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু
২০ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন অধ্যায়—সচিবালয়ে প্রথম দিনেই কর্মব্যস্ত তারেক রহমান


৫. তারেক রহমানেরাজনৈতিক পটভূমি কী?

তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি বিএনপির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং ২০০১-২০০৬ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

৬. নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার কী হবে?

নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধার।

৭. জনগণের প্রত্যাশা কী?

জনগণ আশা করছে নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। মানুষ চায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমুক, বেকারত্ব দূর হোক, দুর্নীতি বন্ধ হোক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। একই সাথে তারা আশা করে সরকার স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হবে।

৮. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?

ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য প্রধান দেশগুলো নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৯. তারেক রহমান কীভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন?

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তারেক রহমানিজে ঢাকা-১ আসন থেকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন। বিজয়ী জোটের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়।

১০. নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ কমিয়ে একটি সমঝোতামূলক পরিবেশ তৈরি করা।

{

  "@context": "https://schema.org",

  "@type": "News Article",

  "headline": "তারেক রহমানের প্রথম কার্যদিবস: সচিবালয়ে নতুন যাত্রা",

  "description": "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে অফিস করবেন। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক ও সচিবদের সাথে মতবিনিময়—জানুন পূর্ণ কর্মসূচি এবং জনপ্রত্যাশা।",

  "image": "https://example.com/tarique-rahman-first-day.jpg",

  "author": {

    "@type": "Person",

    "name": "ঢাকা নিউজ সম্পাদকীয় দল"

  },

  "publisher": {

    "@type": "Organization",

    "name": "ঢাকা নিউজ",

    "logo": {

      "@type": "Image Object",

      "URL": "https://example.com/dhaka-news-logo.png"

    }

  },

  "date Published": "2026-02-17",

  "date Modified": "2026-02-17",

  "mainEntityOfPage": {

    "@type": "Webpage",

    "@id": "https://example.com/tarique-rahman-first-working-day-secretariat"

  },

  "article Section": "রাজনীতি",

  "keywords": "তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ, সচিবালয়, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক, বিএনপি, নতুন সরকার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মন্ত্রিসভা, রাজনীতি, গণতন্ত্র, জনপ্রত্যাশা"

}

Post a Comment

0 Comments