ফাঁসির ছায়া থেকে নয়, গুমের অন্ধকার থেকে সংসদে: ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের অসাধারণ যাত্রা
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ২০২৬ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী। ২০১৬-২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে এসে সংসদে প্রবেশ করেছেন এই মানবাধিকার কর্মী ও ব্যারিস্টার। তার পিতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির পর এই যাত্রা—জনগণের সমর্থন, রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। Dhaka News বিস্তারিত পড়ুন।
যখন রাজনীতির অন্ধকার গহ্বরে কেউ হারিয়ে যায়, তখন ফিরে আসাটা শুধু বেঁচে থাকা নয়—একটা বিপ্লব। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসন থেকে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান (সাধারণত ব্যারিস্টার আরমানামে পরিচিত) এমনই একটা গল্প লিখেছেন। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানো নয়, বরং গুমের আয়নাঘরে (secret prison) আট বছর কাটিয়ে ফিরে এসে জনগণের ভোটে সংসদে পৌঁছানো—এটা আমাদেরাজনৈতিক ইতিহাসে একটা নতুন অধ্যায়। ২০ বছর ধরে রাজনৈতিক সংবাদের মাঠে ঘুরে আমি দেখেছি, এমন গল্প কমই আসে যা এতটা অনুপ্রেরণা দেয় এবং প্রশ্ন তোলে। চলুন, তার যাত্রার গভীরে ডুব দিই।
![]() |
| ফাঁসির ছায়া নয়, গুমের অন্ধকার পেরিয়ে আজ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ— ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প |
ব্যারিস্টার আরমানের পরিচয়: আইনজীবী থেকে রাজনৈতিক যোদ্ধা
ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান জামায়াতে ইসলামীর একজন তরুণ, শিক্ষিত ও প্রভাবশালী নেতা। তিনি বাংলাদেশের একজন সফল ব্যারিস্টার, মানবাধিকার কর্মী এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বারে কল টু দ্য বার প্রাপ্ত। তার পিতা মীর কাসেম আলী ছিলেন জামায়াতের একজন শীর্ষ নেতা এবং ব্যবসায়ী, যিনি ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেরায়ে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন।
আরমানের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট—যখন তিনি তার বাসা থেকে গুম হয়ে যান। কোনো অভিযোগ ছাড়াই, কোনো বিচার ছাড়াই তাকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার infamous underground facilities রাখা হয়। আট বছর ধরে নির্যাতন, অন্ধকার সেল এবং মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেন। অনেকে ভেবেছিলেন, তিনি আর ফিরবেনা। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরদিন, ৬ আগস্ট তিনি মুক্তি পান।
গুমের সময়কাল: ২০১৬-২০২৪ (প্রায় ৮ বছর)
নির্যাতনের বর্ণনা: তিনি বলেছেন, "এটা মৃত্যুর চেয়েও খারাপ ছিল—জীবন্ত কবর দেওয়া।"
মুক্তির পর: জামায়াতের নেতৃত্বে ফিরে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
ঢাকা-১৪ আসনে বিজয়: ভোটের সংখ্যা এবং তাৎপর্য
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ঢাকা-১৪ (মিরপুর-কাফরুল এলাকা) আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী হন ব্যারিস্টার আরমান। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি (ধানের শীষ)।
মোট ১৭৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে:
ব্যারিস্টার আরমান: ৯৬,৭৮৪ ভোট
সানজিদা ইসলাম তুলি: ৮০,৯২৭ ভোট
ব্যবধান: ১৫,৮৫৭ ভোট
এই বিজয় শুধু সংখ্যার নয়—এটা জনগণের একটা বার্তা। মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ, মিশ্র জনগোষ্ঠীর এলাকায় জামায়াতের এমন জয় দেখায় যে, তরুণ ভোটাররা অতীতের অভিযোগ ছাপিয়ে নতুনেতৃত্ব খুঁজছে। আরমানের ক্যাম্পেইন ছিল শান্তিপূর্ণ, জবাবদিহিতা ও নারী-শিশু নিরাপত্তার উপর ফোকাস করা।
আসন ঢাকা-১৪ (মিরপুর-কাফরুল) প্রতীক দাঁড়িপাল্লা (জামায়াত) বিজয়ী ভোট ৯৬,৭৮৪ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি (বিএনপি) – ৮০,৯২৭ ভোট ব্যবধান ১৫,৮৫৭ ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১৭৩
গুম থেকে মুক্তি: একটা জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রতীক
আরমানের গল্প ফাঁসির মঞ্চের মতো নয়, বরং গুমের (enforced disappearance)। তার পিতার ফাঁসির পর তাকে লক্ষ্য করে গুম করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অনেকে এটাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ বলে অভিহিত করেছে। মুক্তির পর তিনি বলেছেন, "আমি ফিরে এসেছি জনগণের জন্য লড়াই করতে।"
বিজয়ের পর তার একটা মানবিকাজ সবাইকে ছুঁয়ে গেছে—প্রতিদ্বন্দ্বী তুলির মায়ের বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করা। তুলির মা তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, "আমরা খুব খুশি, আব্বা।" এটা রাজনীতিতে বিরল একটা মুহূর্ত—সম্মান ও ঐক্যের।
বিশেষজ্ঞ মতামত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আরমানের বিজয় জামায়াতের ইমেজ চেঞ্জের প্রমাণ। তিনি তরুণ, শিক্ষিত এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেন।
উদাহরণ: নির্বাচনী প্রচারে তিনি নারী নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, যা শহুরে ভোটারদের আকর্ষণ করেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব: জামায়াতের নতুন মুখ
জামায়াত ২০২৬-এ এককভাবে উল্লেখযোগ্য আসন পেয়েছে, আর আরমান তার মধ্যে একটা উজ্জ্বল তারা। তার উপস্থিতি সংসদে জামায়াতকে আরও মডারেট ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তিনি বলেছেন, "আমরা আইনের শাসন মেনে চলব, কোনো ধর্ম বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য করব না।"
আন্তর্জাতিকভাবে তার গুমের গল্প আলোচিত হয়েছে—এখন তার বিজয় দেখাচ্ছে বাংলাদেশেরাজনীতি পরিবর্তনশীল।
আশার আলো জ্বালিয়ে রাখুন
ব্যারিস্টার আরমানের যাত্রা প্রমাণ করে যে, অন্ধকার যত গভীরই হোক, জনগণের সমর্থন থাকলে আলো ফুটবেই। গুমের শিকার থেকে সংসদ সদস্য—এটা শুধু তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জয়। এখন সময় তার প্রমাণ করার—জনগণের স্বপ্ন পূরণের।
এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প শেয়ার করুন, কমেন্টে আপনার মতামত জানান। Dhaka News সাবস্ক্রাইব করে রাজনৈতিক আপডেট পান—নোটিফিকেশন অন করে রাখুন!
প্রশ্ন: ব্যারিস্টার আরমান কেন গুম হয়েছিলেন?
উত্তর: তার পিতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির পর রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে ২০১৬ সালে গুম করা হয়। কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল না।
প্রশ্ন: তিনি কোন দল থেকে জিতেছেন?
উত্তর: জামায়াতে ইসলামী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে।
প্রশ্ন: বিজয়ের পর কী করেছেন?
উত্তর: প্রতিদ্বন্দ্বী তুলির মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করে সম্মান দেখিয়েছেন।
আরও জানতে চান? কমেন্ট করুন বা Dhaka News অ্যাপ ডাউনলোড করুন—আমরা আপনার পাশে আছি!
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "News Article",
"headline": "ফাঁসির ছায়া থেকে নয়, গুমের অন্ধকার থেকে সংসদে: ব্যারিস্টার আরমানের যাত্রা",
"description": "ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের গুম থেকে সংসদে উত্থানের গল্প।",
"date Published": "2026-02-15",
"author": {
"@type": "Person",
"name": "Dhaka News Editorial Team"
},
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "Dhaka News"
},
"keywords": ["ব্যারিস্টার আরমান", "ঢাকা-১৪", "জামায়াতে ইসলামী", "গুম থেকে সংসদ", "নির্বাচন ২০২৬"]
}

0 Comments