আজ শুক্রবার, ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ২৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ২-০ পিছিয়ে থেকেও জিতল আর্জেন্টিনা | Dhaka News
পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মেসি, এরপরই ৩-২ গোলে অবিশ্বাস্য জয় আর্জেন্টিনার
মেসির পেনাল্টি মিস, মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় ৩-২ জয় এবং ম্যাচ শেষে অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া। কেনিজের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মেসি, জানুন বিস্তারিত।
মেসির পেনাল্টি মিস দিয়েই যেন শুরু হয়েছিল আর্জেন্টিনার দুঃস্বপ্ন। ম্যাচের মাত্র ১৯ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তখন অনেকের মতো তিনিও ভেবেছিলেন, এই একটি ভুলই হয়তো বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই রূপ নেয় বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্পে। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে নিজের পেনাল্টি মিস নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মেসি।
![]() |
| মেসির পেনাল্টি মিস, বিতর্কিত মন্তব্য আর অবিশ্বাস্য কামব্যাক—২-০ পিছিয়ে থেকেও জয় ছিনিয়ে নিল আর্জেন্টিনা! |
প্রথমার্ধে মিসর ছিল অনেক বেশি সংগঠিত। দ্রুত আক্রমণ, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর প্রেসিংয়ে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলে তারা। প্রথম গোলের পর ম্যাচের ১৯ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। সমতায় ফেরার এটি ছিল আদর্শ সুযোগ। কিন্তু মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের অসাধারণ দক্ষতায় মেসির শট ফিরিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে ম্যাচের গতি পুরোপুরি মিসরের দিকে চলে যায়। বিরতির আগেই মিসর ব্যবধান বাড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আর্জেন্টিনা কাঙ্ক্ষিত ছন্দে ফিরতে পারেনি। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ২-০।
মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনা আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে। মেসি নিজেও আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। একটি গোল করেন, একটি গোলে সহায়তা করেন এবং দলের আক্রমণ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, পেনাল্টি মিস করার পর আমি নিজের ওপর খুব রেগে গিয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম। তবে ম্যাচ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সতীর্থদের প্রশংসাও করেন তিনি। মেসির ভাষায়, দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা সহজ নয়। আমরা বিশ্বাস হারাইনি। এই দলটা লড়াই করতে জানে। সবাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছে বলেই আমরা জিতেছি। আর্জেন্টিনার এই জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প নয়। এটি দলের মানসিক দৃঢ়তারও প্রতিফলন। দুই গোল পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেওয়ার ঘটনা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম।
আরও পড়ুন> আপনি কি জানেন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে কারা মাতাবেন চূড়ান্ত ৭টি পারফরম্যান্স?
আরও পড়ুন> সেমিফাইনালের লক্ষ্যে আজ মুখোমুখি ফ্রান্স ও মরক্কো; কী বলছে সুপার কম্পিউটার?
আরও পড়ুন> ২০২৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: রোমাঞ্চকর শেষ আটের সূচি, কার প্রতিপক্ষ কে?
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এই ম্যাচ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির পেনাল্টি মিসের ভিডিও যেমন ভাইরাল হয়েছে, তেমনি তাঁর প্রত্যাবর্তন ও ম্যাচ শেষে দেওয়া আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্যও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আর্জেন্টিনার মানসিক দৃঢ়তা। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার ফলেই তারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।
পেনাল্টি মিস, হতাশা, আত্মসমালোচনা এবং শেষ পর্যন্ত ইতিহাস। এক ম্যাচেই যেন সবকিছু দেখল ফুটবল বিশ্ব। মিসরের বিপক্ষে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রথম গোল হজম করতে হয় দ্রুতই। এরপর ম্যাচের ১৯ মিনিটে আসে বড় সুযোগ। পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। বলের পেছনে দাঁড়ান লিওনেল মেসি। কিন্তু তাঁর নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের।
পেনাল্টি মিসের পর হতাশ হয়ে পড়েন মেসি। তাঁর শরীরী ভাষাতেই সেটি স্পষ্ট ছিল। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকারও করেন, তখন মনে হয়েছিল তাঁর ভুলের কারণেই দল হয়তো বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দ্বিতীয় গোল করে মিসর। ফলে বিরতিতে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গোলের দেখা পাচ্ছিল না দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। কিন্তু শেষ দশ মিনিটে পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।
ক্রমাগত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে আর্জেন্টিনা। মেসি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। একটি গোল করেন। আরেকটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন। শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, পেনাল্টি মিস করার পর নিজের ওপর প্রচণ্ড রাগ হয়েছিল। মনে হয়েছিল আমি পুরো দলকে হতাশ করেছি। তবে তিনি দ্রুতই সতীর্থদের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, এই দলটি কখনও হাল ছাড়ে না। কঠিন পরিস্থিতিতেও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে। সেই বিশ্বাসই তাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও নকআউট ম্যাচ জয়ের নজির গড়ল দলটি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচ শুধু স্কোরলাইনের জন্য নয়, বরং মানসিক শক্তি, নেতৃত্ব এবং দলীয় সংহতির জন্যও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অসংখ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকের কাছেও ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সামাজিক মাধ্যমে রাতভর আলোচনায় ছিল মেসির পেনাল্টি মিস, তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া এবং দলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। খেলার ফলাফল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বড় শিক্ষা দিয়েছে আর্জেন্টিনার এই জয়। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।
পেনাল্টি মিস করার পর লিওনেল মেসির মনে হয়েছিল, তাঁর একটি ভুলেই শেষ হয়ে যেতে পারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে যায় পুরো গল্প। হতাশা থেকে ইতিহাস গড়ার সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
একটি পেনাল্টি মিস। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা। এরপর শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। ম্যাচ শেষে মেসির আত্মসমালোচনা এবং দলের লড়াকু মানসিকতা এই জয়কে শুধু একটি ফলাফল নয়, বরং বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচে পরিণত করেছে।
মেসির পেনাল্টি মিসের পরও আর্জেন্টিনার এই প্রত্যাবর্তন কি বিশ্বকাপের সেরা কামব্যাকগুলোর একটি?
মিসরের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে নিজের ভুল, দলের মানসিক শক্তি এবং অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অধিনায়ক।
আপনার মতে, ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কোন মুহূর্তটি ছিল? মেসির পেনাল্টি মিস, নাকি শেষ দশ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক পরিবর্তন?
পেনাল্টি মিস করার পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন লিওনেল মেসি। তবুও শেষ পর্যন্ত ২-০ পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ম্যাচ শেষে কী বললেন মেসি? কেন তিনি নিজেকেই দায়ী করছিলেন? বিস্তারিত পড়ুন Dhaka News।
এই ম্যাচ কয়েকটি কারণে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।
প্রথমত, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও নকআউট ম্যাচ জিতেছে।
দ্বিতীয়ত, পেনাল্টি মিস করার পরও মেসির মানসিক দৃঢ়তা এবং নেতৃত্ব আবারও সামনে এসেছে।
তৃতীয়ত, এই জয় প্রমাণ করেছে যে শেষ বাঁশি বাজার আগে ফুটবলে কোনো ফলই নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও ম্যাচটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির আত্মসমালোচনা ও আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।
প্রশ্ন: মেসি কোন মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন?
উত্তর: ম্যাচের ১৯তম মিনিটে।
প্রশ্ন: ম্যাচের স্কোর কত ছিল?
উত্তর: আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় পায়।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনা কত গোলে পিছিয়ে ছিল?
উত্তর: ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল।
প্রশ্ন: ম্যাচ শেষে মেসি কী বলেছেন?
উত্তর: তিনি বলেন, পেনাল্টি মিস করার পর নিজের ওপর খুব রাগ হয়েছিল এবং মনে হয়েছিল তিনি দলকে হতাশ করেছেন।
প্রশ্ন: এই জয় কেন ঐতিহাসিক?
উত্তর: বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও নকআউট ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা।
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তা, নেতৃত্ব এবং দলীয় ঐক্যের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। পেনাল্টি মিসের হতাশা থেকে উঠে এসে মেসি ও তাঁর সতীর্থরা দেখিয়েছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। বিশ্বকাপের বাকি পথেও এই জয় আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপের সর্বশেষ খবর, ম্যাচ বিশ্লেষণ, খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া এবং নির্ভরযোগ্য ক্রীড়া সংবাদ সবার আগে জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন Dhaka News। আপনার মতামত মন্তব্যে জানাতে ভুলবেনা এবং সংবাদটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

0 মন্তব্যসমূহ