আজ শনিবার, ৩রা শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা সফর, ১৪৪৮
হিজরি
বিশ্বকাপ ২০২৬ গোল্ডেন বুট: মেসি না এমবাপ্পে, চূড়ান্ত ফয়সালা কীভাবে?
বিশ্বকাপ ২০২৬ গোল্ডেন বুট: মেসি না এমবাপ্পে, কে এগিয়ে?
২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটেরুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মেসি-এমবাপ্পে কে এগিয়ে, ফিফার নিয়ম, তৃতীয়
স্থান ম্যাচ ও ফাইনালের সব সমীকরণ জানুন বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে, যেখানে টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ
মুহূর্ত পর্যন্ত অমীমাংসিত থাকে গোল্ডেন বুটের ভাগ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট কে জিতবে, সেই
প্রশ্নের উত্তর এখনো ঝুলে আছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের
কাছে স্পেন আর ইংল্যান্ডের কাছে আর্জেন্টিনার জয়ের পর এখন গোটা ফুটবল বিশ্বের চোখ
আগামীকালের তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচ আর পরশুর ফাইনালের দিকে।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে মেসি নাকি এমবাপ্পে—ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পারফরম্যান্সেই মিলবে চূড়ান্ত উত্তর।
সেমিফাইনালের পর গোল্ডেন বুট রেসের সর্বশেষ চিত্র
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড, আর স্পেনের কাছে হেরেছে ফ্রান্স।
ফলে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখনো টিকে আছেন দুই দলের
চার তারকা খেলোয়াড়—কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। এদিকে
সেমিফাইনালে জোড়া অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে উঠে এসেছেন মেসি নিজেই।
তাঁরা দুজনেই এই বছরের টুর্নামেন্টে আট গোল করেছেন, তবে বুধবার সেমিফাইনালে মেসির জোড়া
অ্যাসিস্ট তাঁকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় ২-১
ব্যবধানের জয়ে দুটি গোলই বানিয়ে দেন মেসি, যা তাঁকে গোল করা প্রতিযোগিতায় সামান্য এগিয়ে দেয়।
ফলে এই মুহূর্তে গোল সংখ্যায় সমান থাকলেও অ্যাসিস্টের হিসাবে এমবাপ্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন মেসি।তবে এমবাপ্পেও একেবারে দৌড় থেকে ছিটকে যাননি। মেসি ও এমবাপ্পে এখন সমান সংখ্যক গোলে
আছেন, আর যদিও পরের জন স্পেনের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন, তবু তৃতীয় স্থাননির্ধারণী ম্যাচে গোল করে নিজের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ এখনো তাঁর সামনে আছে, কারণ এই ম্যাচেরগোলও চূড়ান্ত হিসাবে যুক্ত হয়।
আরও পড়ুন> আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড: ফাইনালে মেসিরা, প্রতিপক্ষ স্পেন
আরও পড়ুন> ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে মেসিকে আটকানোর চূড়ান্ত কৌশলএই দুই তারকার মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু চলতি আসরের গোল্ডেন বুটেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বকাপইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও তাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে গোল ২০টি, আর মেসি বর্তমান রেকর্ডধারী হিসেবে আছেন ২১ গোলনিয়ে। অর্থাৎ প্রতিটি নতুন গোল দুজনের জন্যই একসঙ্গে দুটি রেকর্ড—গোল্ডেন বুট ও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা—প্রভাবিত করছে।
ফক্স্পোর্টসের বিশ্লেষণেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে স্পষ্টভাবে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন, আর ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে আছেন ২০ গোলনিয়ে এক ধাপেছনে; দুজনের প্রতিটি গোলই এখন একসঙ্গে দুটি তালিকা নাড়িয়ে দিচ্ছে—গোল্ডেন বুট ও রেকর্ড বই।
ফিফার গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম: গোল, অ্যাসিস্ট ও খেলার সময়
বিশ্বকাপ ২০২৬ গোল্ডেন বুট কে জিতবে, তা নির্ধারণে ফিফার তিন ধাপের নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
প্রথমে দেখা হয় সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা। সেখানে সমতা থাকলে বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্ট। তাতেও সমতা
থাকলে সিদ্ধান্ত হয় কে কম মিনিট মাঠে থেকে সেই গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন, তার ভিত্তিতে।
সমতার ক্ষেত্রে ফিফা প্রথম যে মানদণ্ড ব্যবহার করে তা হলো প্রতিটি খেলোয়াড়ের অ্যাসিস্ট সংখ্যা আর
একটি টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ সিদ্ধান্ত নেয় কোনো কিছু অ্যাসিস্ট হিসেবে গণ্য হবে কি না। এরপরও
সমতা থাকলে গোল্ডেন বুট নির্ধারিত হয় টুর্নামেন্টে খেলার সময়ের ভিত্তিতে, যেখানে কম মিনিট খেলা খেলোয়াড় এগিয়ে থাকেন, কারণ তাঁর গোল ও অ্যাসিস্ট প্রতি মিনিটের অনুপাত ভালো হয়।এই নিয়মের কারণেই বর্তমানে দুজনের সমান গোলসংখ্যা সত্ত্বেও অ্যাসিস্টের ব্যবধানে মেসি সামান্য এগিয়ে আছেন। তবে এই ব্যবধান একেবারেই ভঙ্গুর—আগামীকালের ম্যাচেই এমবাপ্পে বা দেম্বেলে গোলকরলে বা অ্যাসিস্ট করলে চিত্র বদলে যেতে পারে সম্পূর্ণভাবে।
তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচের গোল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে দল বা সমর্থক কারও মধ্যেই তেমন আগ্রহ থাকে না। কিন্তু এবার ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচটি অন্তত চারজন খেলোয়াড়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ম্যাচের গোলও চূড়ান্তভাবে গোল্ডেন বুটের হিসাবে যুক্ত হয়। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, কেইন ও বেলিংহাম—চারজনই এই ম্যাচে গোল করে নিজেদের সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচ বহুবার গোল্ডেন বুট নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। জার্মানির টমাস মুলার ২০১০ সালে, ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর ১৯৯৮ সালে, ইতালির সালভাতোরে শিলাচি ১৯৯০ সালে এবং ব্রাজিলের লিওনিদাস ১৯৩৮ সালে এই ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার নিশ্চিত করেছিলেন। এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো, পর্তুগালের ইউসেবিও ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও এই ম্যাচে গোল পেয়েছিলেন, যদিও তাঁরা সেই গোল ছাড়াও গোল্ডেন বুট জিততেন।
এই ইতিহাসই প্রমাণ করে, তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচের গোল গোল্ডেন বুটে যোগ হয়—এই বাস্তবতা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে চূড়ান্ত ফলাফলে। তাই আগামীকালের ম্যাচ শুধু সম্মানের লড়াই নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর একটি সুযোগও বটে।
এমবাপ্পের সামনে সুযোগ: ২০২২ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবেন কি
চার বছর আগে কাতারে একই রকম নাটকীয় লড়াই দেখা গিয়েছিল মেসি ও এমবাপ্পের মধ্যে। ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে ফ্রান্সের স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে সেবার আট গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।সেবার এমবাপ্পে মেসির চেয়ে এক গোল বেশি করে গোল্ডেন বুট নিজের করে নিয়েছিলেন, আর মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল সিলভার বুট নিয়ে।এবারও ফক্স্পোর্টসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই মিল। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল না পেলেও মেসির গোলসংখ্যা আট, আর মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোলকরে এমবাপ্পেও পৌঁছে গেছেন আট গোলে—চার বছর আগে কাতারেও তাঁরা একই সংখ্যায় শেষ করেছিলেন, যেখানে ফাইনালে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক মেসিকে এক গোলে পেছনে ফেলে দিয়েছিল।অর্থাৎ এমবাপ্পের সামনে এখন সুযোগ আছে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেগোল করে তিনি যদি মেসির চেয়ে এগিয়ে যান, তাহলে ফাইনালে না খেলেও তিনি সহজেই গোল্ডেন বুটজয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যাবেন।
কেইন, বেলিংহাম, দেম্বেলে ও ওইয়ারসাবালের সম্ভাবনা কতটা বাস্তব
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি-এমবাপ্পের বাইরে আরও চারজন খেলোয়াড় এখনো তাত্ত্বিকভাবে সম্ভাবনারমধ্যে আছেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম দুজনেই মেসি ও এমবাপ্পের চেয়ে দুই গোলপিছিয়ে আছেন, বুধবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে হারের ম্যাচে দুজনের কেউই জালের দেখাপাননি।তবে বাস্তবতা হলো, কেইন ও বেলিংহাম আর ফাইনাল খেলবেনা, তাঁদের সামনে আছে কেবল একটি ম্যাচ—তৃতীয় স্থানির্ধারণী। ছয় গোল নিয়ে থাকা এই দুইংলিশ তারকার জন্য দুই গোলের ব্যবধান একটি ম্যাচে টপকানো কঠিন হলেও অসম্ভব নয়, বিশেষ করে যদি তাঁরা জোড়া গোল বা হ্যাটট্রিকের মতো কিছু করতে পারেন। ফরাসি উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে আর স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল আছেনপাঁচ গোল নিয়ে, তাঁদের জন্য ব্যবধান আরও বড়। দেম্বেলে খেলবেন তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচে, আর ওইয়ারসাবাল সুযোগ পাবেন সরাসরি ফাইনালে, যেখানে প্রতিপক্ষ থাকবে আর্জেন্টিনা।
ফাইনালে মেসি-এমবাপ্পে মুখোমুখি হওয়ার সমীকরণ
তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচ শেষ হওয়ার পরদিনই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, শিরোপা নিষ্পত্তির লড়াইয়ে। এই ফাইনালেই আরেকবার প্রমাণ হতে পারে গোল্ডেন বুটের আসল মালিকে। আর ফিক্সচারগুলো এমনভাবে সাজানো, যেন কেউ কল্পনাও করতে পারবে না এমন এক পুনর্মিলনের—মঙ্গলবার সেমিফাইনালে ফ্রান্স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল, আর দুই দলই জিতলে মেসি ও এমবাপ্পে ফাইনালে নিউইয়র্কে ১৯ জুলাই আবার মুখোমুখি হতেন, যেন কাতারের লুসাইলের সেই ভূত চার বছর পরএক মহাদেশ পরে আবার জেগে উঠত।
তবে বাস্তবে এমবাপ্পের ফ্রান্সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ায় সেই সরাসরি মুখোমুখি লড়াইফাইনালে দেখা যাচ্ছে না। ফাইনালে মেসি নামবেন আর্জেন্টিনার হয়ে স্পেনের বিপক্ষে, আর এমবাপ্পেকেনিজের ভাগ্য গড়তে হবে তার আগের দিন তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচেই। এই বাস্তবতাই মেসিকে কিছুটাসুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে—কারণ তিনি ফাইনালে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন সবার শেষে, এমবাপ্পের চূড়ান্ত সংখ্যা জেনে যাওয়ার পরই।
মেসির জন্য ফাইনালে সমীকরণ সহজ: এমবাপ্পে তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচে যত গোলই করুনা কেন, মেসি যদি ফাইনালে অন্তত একটি গোল করেন বা প্রয়োজনীয় অ্যাসিস্ট করেন, তাহলে গোল্ডেন বুট তাঁর হাতেই থাকবে। আর যদি মেসি গোলশূন্য থাকেন এবং এমবাপ্পে তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচে গোলকরে এগিয়ে যান, তাহলে ফাইনালে অন্তত সমান গোল করতে হবে মেসিকে, নয়তো অ্যাসিস্ট বা মিনিটের হিসাবে টিকে থাকতে হবে তাঁকে।
কেন এবারের গোল্ডেন বুট লড়াই সর্বকালের অন্যতম সেরা
ফক্স্পোর্টসের বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই মৌসুমের গোল্ডেন বুট লড়াই যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো। গোল্ডেন বুট একমাত্র ব্যক্তিগত সম্মাননা, যা মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের তালিকা থেকে এখনো অনুপস্থিত, আর এই দুজনের জন্য এখন আর কোনো ম্যাচই অর্থহীন নয়।দুই তারকার বাইরেও এবারের আসরে গোল্ডেন বুট রেসে নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, ইংল্যান্ডের কেইন-বেলিংহাম, স্পেনের ওইয়ারসাবাল ও ফ্রান্সের দেম্বেলে-সবাই কোনো না কোনো সময় শীর্ষে থাকার লড়াইয়ে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা নেমে এসেছে সেই দুই নামেই, যাঁরা গত বিশ্বকাপেওএকই রকম নাটকীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত কে জিততে পারেন গোল্ডেন বুট
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেসিই কিছুটা এগিয়ে, কারণ তিনি সবার শেষে মাঠেনামবেন এবং প্রতিপক্ষের চূড়ান্ত সংখ্যা জেনেই নিজের কৌশল ঠিক করতে পারবেন। তবে ফুটবলে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়—বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ দলে থাকেন এমবাপ্পের মতো গতিময় ও নির্ভুল ফিনিশার। তৃতীয় স্থানির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স যদি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে, তাহলে এমবাপ্পে ও দেম্বেলেদুজনেরই গোল করার সম্ভাবনা যথেষ্ট।
অন্যদিকে ফাইনালে স্পেনের রক্ষণ আর্জেন্টিনার জন্য সহজ হবে না, বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর পর। তাই মেসির জন্যও ফাইনালে গোল পাওয়া মোটেওনিশ্চিত কিছু নয়। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট কে জিতবে, তার প্রকৃত উত্তর মিলবে কেবলরোববারাতে ফাইনালের বাঁশি বাজার পরেই।
প্রশ্ন ১: তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল কি সত্যিই গোল্ডেন বুটে যোগ হয়?উত্তর: হ্যাঁ, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও টুর্নামেন্টের মোট গোলসংখ্যায়যুক্ত হয় এবং গোল্ডেন বুটের হিসাবে গণনা করা হয়।
প্রশ্ন ২: গোলসংখ্যায় সমতা থাকলে গোল্ডেন বুট কীভাবে নির্ধারিত হয়?উত্তর: প্রথমে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়, তাতেও সমতা থাকলে কম মিনিট খেলে গোল বা
অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়কে এগিয়ে রাখা হয়।
প্রশ্ন ৩: বর্তমানে গোল্ডেন বুট রেসে কে এগিয়ে আছেন?উত্তর: মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেই আট গোল করেছেন, তবে বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় বর্তমানে মেসিই
সামান্য এগিয়ে আছেন।
প্রশ্ন ৪: ২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট কে জিতেছিলেন?উত্তর: ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে আট গোল নিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ফ্রান্সেরকিলিয়ান এমবাপ্পে, আর মেসি সাত গোল নিয়ে হয়েছিলেন দ্বিতীয়।
প্রশ্ন ৫: হ্যারি কেইন বা জুড বেলিংহামের গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ এখনো আছে কি?উত্তর: তাত্ত্বিকভাবে সুযোগ থাকলেও বাস্তবে সেটি কঠিন, কারণ দুজনেই মেসি ও এমবাপ্পের চেয়ে দুইগোল পিছিয়ে আছেন এবং তাঁদের সামনে বাকি আছে মাত্র একটি ম্যাচ।
২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট এখন পরিণত হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াইয়ে। মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেই সমান আট গোল নিয়ে যেভাবে একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকরছেন, তা চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিই মনে করিয়ে দেয়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ আর
ফাইনাল—এই দুই ম্যাচই এখন নির্ধারণ করে দেবে কার হাতে উঠবে গোল্ডেন বুট।
আপনার কী মনে হয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট উঠবে মেসির হাতে, নাকি এমবাপ্পে আবারও চমকে
দেবেন সবাইকে?
নিচের মন্তব্যে জানিয়ে দিন আপনার পূর্বাভাস, আর খেলার সর্বশেষ সব খবর পেতে চোখ রাখুন
আমাদের সঙ্গে।
লেখক: মোঃ নজরুল ইসলাম (অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশ্লেষক।)
সোর্স: ইয়াহু স্পোর্টস, ফক্স স্পোর্টস, ফোরফোরটু, গোল ডটকম, ফিফা ডটকম
বিশ্বকাপ ২০২৬ গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে মেসি ও এমবাপ্পে সমান আট গোল নিয়ে মুখোমুখি।
(JSON-LD)
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "NewsArticle",
"headline": "বিশ্বকাপ ২০২৬ গোল্ডেন বুট: মেসি না এমবাপ্পে, চূড়ান্ত ফয়সালা কীভাবে?",
"description": "২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মেসি-এমবাপ্পে কে এগিয়ে, ফিফার
নিয়ম, তৃতীয় স্থান ম্যাচ ও ফাইনালের সব সমীকরণ জানুন বিস্তারিত প্রতিবেদনে।",
"author": {
"@type": "Person",
"name": "মোঃ নজরুল ইসলাম"
},
"publisher": {
"@type": "Organization",
"name": "স্পোর্টস নিউজ ডেস্ক"
},
"datePublished": "2026-07-17",
"mainEntityOfPage": {
"@type": "WebPage",
"@id": "https://example.com/biswakap-2026-golden-boot-messi-vs-mbappe-fixal-foysala"
}
}
{
"@context": "https://schema.org",
"@type": "FAQPage",
"mainEntity": [
{
"@type": "Question",
"name": "তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল কি সত্যিই গোল্ডেন বুটে যোগ হয়?",
"acceptedAnswer": {
"@type": "Answer",
"text": "হ্যাঁ, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও টুর্নামেন্টের মোট গোলসংখ্যায়
যুক্ত হয় এবং গোল্ডেন বুটের হিসাবে গণনা করা হয়।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "গোলসংখ্যায় সমতা থাকলে গোল্ডেন বুট কীভাবে নির্ধারিত হয়?",
"acceptedAnswer": {
"@type": "Answer",
"text": "প্রথমে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়, তাতেও সমতা থাকলে কম মিনিট খেলে গোল বা
অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়কে এগিয়ে রাখা হয়।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "বর্তমানে গোল্ডেন বুট রেসে কে এগিয়ে আছেন?",
"acceptedAnswer": {
"@type": "Answer",
"text": "মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেই আট গোল করেছেন, তবে বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় বর্তমানে মেসিই
সামান্য এগিয়ে আছেন।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট কে জিতেছিলেন?",
"acceptedAnswer": {
"@type": "Answer",
"text": "ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে আট গোল নিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ফ্রান্সের
কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর মেসি সাত গোল নিয়ে হয়েছিলেন দ্বিতীয়।"
}
},
{
"@type": "Question",
"name": "হ্যারি কেইন বা জুড বেলিংহামের গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ এখনো আছে কি?",
"acceptedAnswer": {
"@type": "Answer",
"text": "তাত্ত্বিকভাবে সুযোগ থাকলেও বাস্তবে সেটি কঠিন, কারণ দুজনেই মেসি ও এমবাপ্পের চেয়ে দুই
গোল পিছিয়ে আছেন এবং তাঁদের সামনে বাকি আছে মাত্র একটি ম্যাচ।"
}
}
]
}
0 মন্তব্যসমূহ