চাঁদনীচকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা মারধরের শিকার। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল নিউমার্কেট। পুলিশ আটক করেছে ৩ জন।
রাজধানীর নিউমার্কেট সংলগ্ন চাঁদনীচক মার্কেট আবারো
 |
| ঢাবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলা |
বিতর্কের কেন্দ্রে। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থী নির্মম মারধরের শিকার হয়েছেন। ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও নিউমার্কেট এলাকা।
কী ঘটেছিল?
সোমবার, ২৬ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদনীচক মার্কেটের ‘জেসমিন ফেব্রিকস’ নামের একটি দোকানে এই ঘটনাটি ঘটে। ঢাবির ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শাহেদুল ইসলাম ও আয়াজুর রহমান গুরুতর আহত হন। তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শাহেদ জানান, “আমাদের এক বান্ধবী ওই দোকানে গিয়ে পছন্দ না হওয়ায় কিছু না কিনেই বের হয়ে আসেন। এরপর দোকানের কয়েকজন কর্মচারী তাকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে, প্রায় ৪০-৫০ জন একসঙ্গে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমাকে আলাদা রুমে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।”
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের অভিযান
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ঘটনাস্থলে জড়ো হন। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা হামলাকারী দোকানটি ভাঙচুর করে। এক হামলাকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, এবং পুলিশ আরও দুইজনকে আটক করে।
নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারিক লতিফ জানান, “শিক্ষার্থীরা একজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। আরও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষার্থীদের দাবি
ঢাবি শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কোথায় এই ঘটনাটি ঘটেছে?
চাঁদনীচক মার্কেট, নিউমার্কেট, ঢাকা।
২. কারা হামলার শিকার হয়েছেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী—শাহেদুল ইসলাম ও আয়াজুর রহমান।
৩. কেন এই হামলা হয়েছে?
এক নারী শিক্ষার্থীকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হন।
৪. কতজন হামলায় অংশ নিয়েছে?
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ৪০-৫০ জনের একটি দল হামলা চালায়।
৫. পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও অভিযুক্তদের খুঁজছে।
৬. শিক্ষার্থীদের কি কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল?
হ্যাঁ, শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
0 Comments