Advertisement

0

ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলে মেয়েদের নিরাপত্তা ভুলবেন না


ঈদে বাড়িতে ভিড় বাড়ে, নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে মেয়েরা। সচেতন না হলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। জেনে নিন করণীয়।

ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলে মেয়েদের নিরাপত্তা ভুলবেন না
 মেয়েদের নিরাপত্তা ভুলবেন না

আত্মীয়স্বজনের ভিড়ে শিশুদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

ঈদুল আযহার ছুটিতে আমরা অনেকেই গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে যাই। চাচা, মামা, ফুপা, খালু, খালাতো-ফুফাতো ভাইবোনদের মিলনমেলায় বাড়ি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। এ সময় অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে বেড়াতে আসেন, আবার আমরাও অন্যদের বাড়ি যাই।

এই আনন্দের মাঝেও থেকে যায় এক বড় শঙ্কা—সন্তানদের নিরাপত্তা। স্থান সংকুলানের অভাবে অনেক সময় আমরা শিশুদের এমন কারও সঙ্গে ঘুমাতে দেই, যাদের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। মেহমানদারিতে ব্যস্ততার কারণে অনেক মা-বাবা সন্তানের খোঁজ ঠিকমতো রাখতে পারেনা। ফলে কখনও ঘটে যায় এমন সব ভয়াবহ ঘটনা, যা একটি পরিবারের গোটা ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে।

একটি বাস্তব গল্প: যন্ত্রণার শিকড় ফিরে দেখা

বছর দশেক আগের এক ঘটনার কথা। এক ভদ্রলোক তার স্ত্রীর আচরণজনিত সমস্যা নিয়ে পরামর্শ নিতে এসেছিলেন। স্ত্রীর আচরণ এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে তিনি তাকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিলেন। কিন্তু আমি তাকে বললাম, সমস্যা না বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বোকামি হবে।

অবশেষে কিছু অনুসন্ধানের পর জানা গেল, তার স্ত্রী কৈশোরে এক দূর সম্পর্কের মামার হাতে যৌনিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। তখন বয়স মাত্র দশ-এগারো। বেড়াতে আসা আত্মীয়ের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমাতে দিয়ে মা-বাবা সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি। সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা আজও তার মনে ছাপ ফেলেছে। এখন স্বামী যখন তার পাশে আসতে চান, তখনই সেই পুরোনো দুঃস্বপ্ন ফিরে আসে। তার চোখে স্বামী নয়, ভেসে ওঠে সেই ধর্ষকের চেহারা।

নিরাপত্তা মানেই সতর্কতা, সন্দেহ নয়

আমরা আমাদের মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন লুকিয়ে রাখি, তেমনি কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রেও চাই সতর্কতা। এর মানে এই নয় যে সব আত্মীয় সন্দেহভাজন, কিন্তু ভুল একবার হলে তার খেসারত হয় আজীবন।

আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হলে, তার ফল হতে পারে বিভীষিকাময়। সমাজ, আত্মীয়তা কিংবা মেহমানদারি—কোনোটাই আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় না।

FAQ:

প্রশ্ন: ঈদের সময় বাড়িতে মেয়েদের নিরাপত্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: আত্মীয়স্বজনের ভিড়ে নজরদারির অভাব ঘটে, যা শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে।

প্রশ্ন: সন্তানদের কার সঙ্গে ঘুমাতে দেওয়া নিরাপদ?

উত্তর: বাবা-মায়ের সরাসরি নজরদারিতে পরিচিত নারীদের সঙ্গে রাখা নিরাপদ। অপরিচিত বা দূরসম্পর্কের পুরুষদের সঙ্গে নয়।

প্রশ্ন: যদি সন্তান কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার শিকার হয়, কী করবেন?

উত্তর: প্রথমে সন্তানকে সহানুভূতির সঙ্গে শুনুন, প্রয়োজনে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করুন এবং আইনি পদক্ষেপ নিন।

প্রশ্ন: আত্মীয়দের প্রতি এমন সন্দেহ কি অতিরিক্ত মনে হয় না?

উত্তর: সন্দেহ নয়, সচেতনতা জরুরি। বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, বিপদ অনেক সময় পরিচিত মুখ থেকেই আসে।

প্রশ্ন: কীভাবে সন্তানদের নিরাপদ রাখা যায়?

উত্তর: সন্তানের গতিবিধির খোঁজ রাখা, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে তা দেখা এবং প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক শিক্ষা দেওয়া জরুরি।

Post a Comment

0 Comments