Advertisement

0

ঈদ ইসলামে উৎসব, আনন্দ ও সহমর্মিতার অনন্য প্রতিচ্ছবি

  ২৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ ; ৬ই জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ;  ৯ই যিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি.

                                     আগামীকাল ঈদুল আজহা

ঈদ ইসলামের একটি আনন্দঘন উৎসব, যার সঙ্গে জড়িত ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ইসলামী ঐতিহ্যের গভীর শিক্ষা। জানুন এর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ভিত্তি।

ঈদ ইসলামে উৎসব, আনন্দ ও সহমর্মিতার অনন্য প্রতিচ্ছবি
ঈদ ইসলামে উৎসব, আনন্দ ও সহমর্মিতার অনন্য প্রতিচ্ছবি

ঈদ: ফিরে আসা আনন্দের, ত্যাগ ও ইসলামী ঐতিহ্যের উৎসব

‘ঈদ’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ খুশি, আনন্দ, উৎসব, পর্ব ইত্যাদি। শব্দটির মূল রূপ "আউদ"—যার অর্থ ফিরে আসা। অর্থাৎ এমন এক সময়, যা বারবার ফিরে আসে এবং মানুষের মনে খুশি ও কিছু সময় দুঃখও এনে দেয়। লিসানুল আরব অভিধানে বলা হয়েছে, “আরবরা এমন দিনকে ঈদ বলে, যে দিনে আনন্দ বা দুঃখ ফিরে আসে।” আল মুনজিদ অভিধান বলছে, “ঈদ এমন একটি দিন, যাতে লোকেরা সমবেত হয়, কোনো মহামানব বা ঘটনার স্মরণ করে এবং আনন্দ ভাগ করে নেয়।”

ঈদের সূচনা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা

মদিনায় হিজরতের পর নবীজি (সা.) লক্ষ্য করেন যে, স্থানীয়রা দুটি দিনে খেলাধুলা করে আনন্দ করে। তিনি জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, জাহেলি যুগে এই দিনগুলোতে আনন্দ উদযাপন করা হতো। তখন রাসুল (সা.) বলেন,

"আল্লাহতায়ালা এ দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের জন্য এরচেয়ে উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।"

📚 (আবু দাউদ: ১১৩৬)

ইসলামে ঈদের সূচনা হয় হিজরতের দ্বিতীয় বছর থেকে, যখন নবীজি (সা.) ঈদের নামাজ ও আনন্দ উদযাপনের পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।

ঈদের প্রকৃত রূপ: সহানুভূতি ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা

যদিও বর্তমান সময়ের ঈদে নতুন জামা-কাপড়, সাজসজ্জা ও কেনাকাটার ধুম রয়েছে, তবে প্রাথমিক যুগে ঈদের আনন্দ ছিল আরও গভীর—সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের মাধ্যমে। রাসুল (সা.) সব বয়সী মানুষদের ঈদ আনন্দে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করতেন। ছোটদের হাসি, নারীদের বৈধ আনন্দ, এমনকি আবিসিনিয়ানদের লাঠিখেলা দেখতে তিনি আয়েশা (রা.)-কে সঙ্গে নিয়েছিলেন।

📖 বুখারি হাদিসে (২৯০৭) আয়েশা (রা.) বলেন,

"ঈদের দিনে আবিসিনিয়ানরা মসজিদে লাঠিখেলা করছিল। রাসুল (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, দেখতে চাও কি? তিনি আমাকে নিজের পেছনে দাঁড় করিয়ে খেলা দেখালেন যতক্ষণ না আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম।"

নবীজি (সা.) ও ঈদের দিনে মানবিকতার অনন্য নজির

ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে নবীজি (সা.)-এর এক দৃষ্টান্তে। একবার ঈদের দিন রাস্তার পাশে এক শিশু কাঁদছিল। তিনি শিশুটির কাছে গিয়ে জানতে পারেন, সে এতিম। রাসুল (সা.) শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে বলেন,

"আমি তোমার পিতা, আয়েশা তোমার মা, ফাতেমা তোমার বোন, আর হাসান ও হোসাইন তোমার খেলার সাথী।"

📚 (ইবনে কাসির ও তাফসিরে কুরতুবি অনুযায়ী বর্ণিত)

এই দৃষ্টান্ত ইসলামে ঈদের প্রকৃত মূল উদ্দেশ্য বোঝায়—সহমর্মিতা ও ভালোবাসা।

সাহাবিদের ঈদ উদযাপন: দোয়ার মাধ্যমে আনন্দের ভাগাভাগি

সাহাবায়ে কেরাম একে অপরকে ঈদের দিনে সালাম জানিয়ে বলতেন:

"তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিংকুম"

অর্থাৎ “আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের আমল কবুল করুন।”

📚 (ফাতহুল বারি: ২/৪৪৯)

এটি ছিল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আত্মিক পদ্ধতি, যা আজও বহু মুসলিম অনুসরণ করেন।

Post a Comment

0 Comments