আজ রবিবার ২২শে আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই মহররম ১৪৪৭ হিজরি, বর্ষা-কাল
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির বিরোধিতা করায় সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
![]() |
| পিআর পদ্ধতির বিরোধিতায় সালাহউদ্দিনের সমালোচনা ইসলামী আন্দোলনের |
পিআর পদ্ধতির বিরোধিতায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষোভ বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন বা পিআর) আয়োজনের দাবি তুলেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ পদ্ধতির কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য রাখলে তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন।
সংগঠনটি বলেছে, এ বক্তব্যের জন্য সালাহউদ্দিন আহমদকে ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় এর দায় বহন করতে হবে বিএনপিকেই।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতি: সালাহউদ্দিনের বক্তব্য অশোভন শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীমারুফ বলেন, “সালাহউদ্দিন আহমদকে তাঁর বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি এমন বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতি নোংরা করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন দাবি করেছি। কারণ এ পদ্ধতিই অধিকতর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে।”
সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য: পিআর পদ্ধতিকে নাকচ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক বিএনপির সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কিছু দল পিআর পদ্ধতির কথা বলছে। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ মানুষ এটি বোঝেনা। তাঁরা কখনো এভাবে ভোট দেননি। যেসব দেশে এটি চালু রয়েছে, সেখানেও এটি পরীক্ষামূলক। যাঁরা পিআর চান, তাঁদের ভোট নেই—নির্বাচন হলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া: “জাতি এমন স্ববিরোধী বক্তব্য আশা করে না” সালাহউদ্দিনের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শেখ ফজলুল করীমারুফ বলেন, “একজন সিনিয়র নেতার মুখে এমন অসংবেদনশীল ও স্ববিরোধী বক্তব্য জাতি আশা করে না। এটি রাজনৈতিক অভব্যতার একটি দৃষ্টান্ত।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিএনপি যদি নিজ দলের বাইরে প্রস্তাবিত কোনো সংস্কারমূলক নির্বাচন পদ্ধতির প্রতি সম্মানা দেখায়, তবে রাজনৈতিক সৌজন্য ও সহনশীলতা ধ্বংস হবে।
পিআর পদ্ধতি কী? সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতি এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসন বণ্টন করা হয়। এতে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোরও সংসদে প্রবেশাধিকার বাড়ে, যার ফলে রাজনৈতিক বহুমতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়ে আসছে (ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট)। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে এই একতরফা গঠনের সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস পায় বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।
রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা এই বক্তব্য-বিতর্ক আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি যেখানে বিদ্যমান ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল, সেখানে ইসলামী আন্দোলন নতুন কাঠামোর দাবিতে সরব হয়েছে।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই এসব বিতর্ক রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
FAQ (Frequently Asked Questions):
পিআর পদ্ধতি কী?
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation - PR) হলো এমন একটি নির্বাচন পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি রাজনৈতিক দল মোট প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদীয় আসন পায়।
ইসলামী আন্দোলন কেন পিআর পদ্ধতির দাবি করছে?
তাদের মতে, পিআর পদ্ধতিতে ছোট দলগুলোও সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাবে, এবং এটি দেশেরাজনৈতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ পিআর পদ্ধতি নিয়ে কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ পিআর পদ্ধতি বোঝেনা এবং যারা এ দাবি করছেন, তাঁদের ভোট নেই—তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
তারা সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে এবং তাঁর কাছে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এই বিতর্কে রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?
এই বিতর্কে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে নতুনভাবে রাজনৈতিক মেরুকরণ হতে পারে এবং এটি বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট বা দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে।

0 Comments