Advertisement

0

২০২৫ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পালিত হবে মহানবীর জন্ম ও তিরোধান দিবস

 

২০২৫ ঈদে মিলাদুন্নবী  (সা.) ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পালিত হবে মহানবীর জন্ম ও তিরোধান দিবস

মেটা ডেসক্রিপশন:

ঈদে মিলাদুন্নবী  (সা.)
ঈদে মিলাদুন্নবী  (সা.) 

ঈদে মিলাদুন্নবী  (সা.) ২০২৫ বাংলাদেশে ৬ সেপ্টেম্বর পালিত হবে। নবীজির (সা.) জন্ম ও তিরোধানের এই দিন মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে।

ভূমিকা

বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সমাজের কাছে সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি হলো ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ইসলামিক্যালেন্ডারের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল-এর ১২ তারিখে এই দিবস পালিত হয়। কারণ এ দিনেই বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং একই দিনে ইন্তেকাল করেছিলেন।

জাতীয় চাঁদেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদেখা না যাওয়ায় ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ১২ রবিউল আউয়াল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এ দিন রাষ্ট্রীয় ছুটিতে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী  (সা.) ২০২৫ পালিত হবে।

রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব

ইসলামের ইতিহাসে রবিউল আউয়াল একটি স্মরণীয় মাস। কারণ—

এ মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন।

এ মাসেই তাঁর ইন্তেকাল ঘটে।

মুসলমানদের জন্য এ মাস নবীপ্রেম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের এক অনন্য উপলক্ষ।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন—

“আর আমি তোমাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ্রেরণ করেছি।” (সূরা আম্বিয়া: ১০৭)।

এ আয়াত থেকেই স্পষ্ট হয়, নবীর আগমন ছিল সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মহা বরকত।

নবীজির  (সা.) জন্ম: মানবতার জন্য রহমত

মক্কার কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে নবীজির জন্ম হয়। ইতিহাসে এই বছরকে “আমুল ফীল” বা হাতির বছর বলা হয়। তাঁর জন্মের মাধ্যমে বিশ্বে সত্য, ন্যায় ও আলোর সূচনা হয়েছিল।

হাদিসে এসেছে—

“আমি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।” (মুসনাদে আহমদ)।

অতএব, নবীজির  (সা.) জন্ম শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা।

নবীজির  (সা.) ইন্তেকাল: গভীর বেদনার দিন

১২ রবিউল আউয়ালই সেই দিন, যেদিন নবীজির  (সা.) ইন্তেকাল ঘটে। মদিনার নববী মসজিদ সংলগ্ন স্থানে তিনি সমাহিত আছেন। মুসলিম উম্মাহ এই দিনটিকে শুধু আনন্দ নয়, গভীর বেদনার সঙ্গেও স্মরণ করে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)  উদযাপনের ঐতিহাসিক সূচনা

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১১শ শতকে মিশরের ফাতেমীয় শাসকরা প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নবীজির  (সা.) জন্মদিন উদযাপন শুরু করেন। পরে এটি আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজ এটি দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের বহু দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে পালিত হয়।

বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)  উদযাপন

বাংলাদেশে এ দিনটি সরকারি ছুটি। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়, যেমন—

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

ইসলামিক বক্তৃতা, ওয়াজ ও সেমিনার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঘরে মিলাদ মাহফিল

বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শোভাযাত্রা, গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার

আন্তর্জাতিকভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী

পাকিস্তান: জাতীয় ছুটি, শোভাযাত্রা, আলোসজ্জা ও কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা।

ভারত: মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে শোভাযাত্রা ও মাহফিল।

ইন্দোনেশিয়া: ইসলামিক কনফারেন্স, কোরআন প্রতিযোগিতা, সরকারি প্রোগ্রাম।

মিসর ও তুরস্ক: আলোসজ্জা, ইসলামিক কনসার্ট ও মাহফিল।

সৌদি আরব: সরকারি পর্যায়ে পালিত না হলেও ব্যক্তিগতভাবে দোয়া মাহফিল হয়।

কোরআন-হাদিসে নবীপ্রেম

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“তোমাদের কেউ পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার নিজের প্রাণ, ধনসম্পদ ও সন্তানদের চেয়েও প্রিয় না হই।” (বুখারি, মুসলিম)।

এই হাদিস প্রমাণ করে নবীর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঈদে মিলাদুন্নবী  (সা.) সেই ভালোবাসাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।

ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) 

১. নবীর আদর্শে জীবন গঠন করা।, ২. সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।, ৩. দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করা।

৪. অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হওয়া।, ৫. মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।

সমসাময়িক সময়ে ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রাসঙ্গিকতা

আজকের বিশ্বে সহিংসতা, বৈষম্য, ঘৃণা ক্রমশ বাড়ছে। নবীজির শিক্ষা আমাদের শেখায়—

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা।, সব মানুষের অধিকার রক্ষা করা।, নারী-পুরুষের মর্যাদা রক্ষা।

পরিবেশ সংরক্ষণ। শান্তি ও মানবতার প্রসার।

বাংলাদেশি মুসলমানদের প্রস্তুতি

২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের জন্য বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই ইসলামিক ফাউন্ডেশন নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মাদ্রাসা, ইসলামিক সংগঠন, মসজিদ কমিটি—সবাই দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উপসংহার

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)  ২০২৫ কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি নবীপ্রেম, ন্যায়বিচার ও মানবতার আহ্বান। এ দিন আমাদের শেখায় নবীর আদর্শকে ধারণ করে জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ঈদে মিলাদুন্নবী কবে?

উত্তর: ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার।

প্রশ্ন ২: রবিউল আউয়াল মাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: কারণ এই মাসে নবীজির জন্ম ও ইন্তেকাল হয়েছে।

প্রশ্ন ৩: বাংলাদেশে কীভাবে এ দিন পালিত হয়?

উত্তর: কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল, ওয়াজ, শোভাযাত্রা ইত্যাদি মাধ্যমে।

প্রশ্ন ৪: আন্তর্জাতিকভাবে কোন কোন দেশে পালিত হয়?

উত্তর: পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, তুরস্কসহ বহু দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়।

Post a Comment

0 Comments