Advertisement

0

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া ও এর ব্যাখ্যা

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া ও এর ব্যাখ্যা
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া ও এর ব্যাখ্যা

 

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া ও এর ব্যাখ্যা | কুরআন ও হাদিসের আলোকে

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া

রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের জীবনের প্রতিটি দিকের জন্য দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি বিশেষ দোয়া হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা

দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি সামই, ওয়া মিন শাররি বাসরি, ওয়া মিন শাররি লিসানি, ওয়া মিন শাররি ক্বলবি, ওয়া মিন শাররি মানিয়্যি।

অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার কান, চোখ, জিহ্বা, অন্তর এবং বীর্যের অনিষ্ট থেকে।”

সূত্র

শাকাল ইবনে হুমায়দ (রাযি.) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া শিক্ষা দিন, যার দ্বারা আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। তখন নবী ﷺ আমার হাত ধরে বললেন: তুমি বলো—
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার কান, চোখ, জিহ্বা, অন্তর এবং বীর্যের অনিষ্ট থেকে।”
(সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৫১; তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০২)

কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা

১. কান (শ্রবণ)

কান দিয়ে হারাম জিনিস শোনা মানুষের ঈমান নষ্ট করে। আল্লাহ বলেন:
“তোমরা এমন কিছুর অনুসরণ করো না, যার জ্ঞান তোমাদের নেই। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—সবকিছু সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হবে।” (সূরা বনী ইসরাইল 17:36)

২. চোখ (দৃষ্টি)

অশ্লীলতা, হারাম দৃশ্যের দিকে তাকানো গোনাহের দরজা খোলে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“দৃষ্টি হলো শয়তানের বিষাক্ত তীর।” (মুস্তাদরাক হাকিম, 4/349)

৩. জিহ্বা (কথা)

জিহ্বা থেকে বের হওয়া একটি ভুল বাক্য মানুষকে জাহান্নামে ফেলে দিতে পারে। রাসুল ﷺ বলেন:
“মানুষকে জাহান্নামে মুখ থুবড়ে ফেলার প্রধান কারণ হলো তাদের জিহ্বার কৃতকর্ম।” (তিরমিজি, হাদিস: 2616)

৪. হৃদয় (অন্তর)

অন্তর হলো ঈমান ও কুফরের কেন্দ্র। রাসুল ﷺ বলেন:
“শরীরে একটি মাংসপিণ্ড আছে, যদি তা ভালো হয় তবে পুরো শরীর ভালো থাকে, আর যদি তা নষ্ট হয় তবে পুরো শরীর নষ্ট হয়। সেটি হলো অন্তর।” (বুখারি, হাদিস: 52; মুসলিম, হাদিস: 1599)

৫. বীর্য (যৌন প্রবৃত্তি)

অশ্লীলতা ও ব্যভিচার থেকে রক্ষা পাওয়া ফরজ। আল্লাহ বলেন:
“তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।” (সূরা আল-ইসরা 17:32)

রাসুল ﷺ বলেন:
“হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চোখকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।” (বুখারি, হাদিস: 5066; মুসলিম, হাদিস: 1400)

শিক্ষণীয় বিষয়

  • এই দোয়া আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পাঁচটি অঙ্গের মাধ্যমে মানুষ সহজেই গোনাহে পতিত হতে পারে।
  • তাই মুসলমানকে সর্বদা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে।
  • দোয়া করার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহ মেনে চলা, দৃষ্টি ও জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করা, অন্তরকে শির্ক ও রিয়া থেকে মুক্ত রাখা, এবং যৌন প্রবৃত্তিকে বৈধ পথে নিয়ন্ত্রণ করাই হলো প্রকৃত হেফাজত।


Post a Comment

0 Comments