প্রমাণিত চাঁদাবাজির অভিযোগ: রাজশাহীতে বিএনপি নেতার জীবনের হুমকি
রাজশাহীতে বিএনপি নেতা মইফুল ইসলামের কাছে যুবদল নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ, হুমকি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রমাণিত কাহিনি।
![]() |
| রাজশাহীতে বিএনপি নেতার জীবনের হুমকি |
প্রমাণিত চাঁদাবাজির অভিযোগ: রাজশাহীতে বিএনপি নেতার জীবনের হুমকি
বাংলাদেশেরাজনীতি বরাবরই সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার এবং দলীয় বিরোধ নিয়ে সরগরম থাকে। সম্প্রতি রাজশাহীতে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই নয়, বরং রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্রও আবারো স্পষ্ট করেছে। রাজশাহী মহানগর যুবদলের এক নেতা মোফাজ্জল হোসেন শুভ ওরফে কুরুলের বিরুদ্ধে একই দলের অপর নেতা মইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপি নেতার লিখিত অভিযোগ: চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি
২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিএনপি নেতা মইফুল ইসলামকে ফোন করে যুবদল নেতা মোফাজ্জল সরাসরি হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মইফুল থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে—
“তোকে যেখানে পাব, সেখানেই কুপিয়ে মারব।”
ফোনালাপে একাধিকবার এই হুমকি দেওয়ার পর, মোফাজ্জল ও তাঁর বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মইফুলকে খুঁজতে বের হন। এ সময় তাঁরা দলীয় কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং মইফুলের বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেন চাঁদা না দিলে জীবননাশ ঘটবে।
কলরেকর্ডে প্রমাণিত হুমকির ঘটনা
অভিযোগের সঙ্গে কলরেকর্ডও জমা দিয়েছেন মইফুল ইসলাম। এতে শোনা যায়, মোফাজ্জল তাঁকে গালিগালাজের পাশাপাশি তাঁর অবস্থান জানতে চান। যদিও মোফাজ্জলকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
যুবদল নেতার বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগ
মইফুল দাবি করেন, এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একই বাহিনী তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। এছাড়া তেরখাদিয়া বাজার, নির্মাণাধীন ভবন ও স্থানীয় এলাকায় মোফাজ্জল বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া: তদন্ত চলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন—
“অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এখনো পর্যন্ত মইফুল ইসলামের অভিযোগে সরাসরি কোনো গ্রেপ্তার হয়নি, যা স্থানীয়দের মাঝে শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: কে দায়ী?
বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতা দখল ও প্রভাবিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রবি বলেন,
“মইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। মোফাজ্জলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।”
এমন বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে দলীয় দ্বন্দ্বের প্রভাব রয়েছে।
আপনি কি জানেন?
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রতিবছর গড়ে শতাধিক প্রাণহানি ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো অভ্যন্তরীণ দলীয় দ্বন্দ্ব থেকে উৎসারিত।
প্রমাণিত রাজনৈতিক চাঁদাবাজি: সামাজিক প্রভাব
স্থানীয়দের ভয়ভীতি
রাজনৈতিক কর্মীদের হতাশা
সাধারণ জনগণেরাজনৈতিক অনাগ্রহ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আস্থাহীনতা
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন রিপোর্ট
অনুসারে, গত এক দশকে রাজনৈতিক সহিংসতায় হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
৫টি উপায়ে এই সমস্যা কমানো সম্ভব
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ব্যবস্থা
দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করা
অপরাধীদেরাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা
রাজনীতির ভবিষ্যৎ: কোন পথে যাবে বিএনপি?
যদি অভ্যন্তরীণ সংঘাত এভাবেই চলতে থাকে, তবে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে কর্মীরাও হতাশ হয়ে পড়বেন। রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে হলে এই ধরনের অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
❓ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. রাজশাহীর এই ঘটনার মূল অভিযোগ কী?
যুবদল নেতা মোফাজ্জল ইসলামকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে না চাইলে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
২. থানায় কি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে?
হ্যাঁ, মইফুল ইসলাম রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
৩. পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
আরএমপি জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. মোফাজ্জলের পূর্বে কোনো অভিযোগ আছে কি?
হ্যাঁ, চাঁদাবাজি, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
৫. রাজনৈতিক চাঁদাবাজি কীভাবে রোধ করা যায়?
দ্রুত আইনি ব্যবস্থা, দলীয় শৃঙ্খলা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ তদন্তই এর সমাধান।

0 Comments